kalerkantho


‘ঘুমন্ত’ মস্তিষ্ক জাগবে হাইড্রায়

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৯ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



‘ঘুমন্ত’ মস্তিষ্ক জাগবে হাইড্রায়

জলজ্যান্ত মানুষটা অবোধ শিশুর মতো ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে আছেন! তাঁর মুখ দিয়ে লালা গড়িয়ে পড়ছে! পরিচিত কেউ সামনে দাঁড়ালেও চিনতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অনেককেই পড়তে দেখেছি আমরা।

বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল দীর্ঘ সময় এভাবেই বেঁচে ছিলেন। এখনো এভাবে বেঁচে আছেন ভারতের রাজনৈতিক নেতা প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সি।

নিউরো-সায়েন্স ও মাইক্রো-বায়োলজির সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, মানুষের হঠাৎ করে ‘ঘুমিয়ে পড়া’ মস্তিষ্ককে এবার হয়তো জাগিয়ে তোলা যাবে। আর সে ক্ষেত্রে ‘সোনার কাঠি’ হিসেবে কাজ করবে এককোষী জলজ প্রাণী হাইড্রা। প্রাণীটির এপিথেলিয়াল কোষেই নাকি আছে সেই সোনার কাঠি।

গবেষক দলে আছেন সুইজারল্যান্ডের জেনেভা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্ট অব জেনেটিক্স অ্যান্ড ইভাল্যুশনের অধ্যাপক ব্রিজিট গালিয়ট, জিন-তাত্ত্বিক ভান ওয়েঙ্গার ও বিবর্তন তত্ত্ববিদ ওয়ান্ডা বুজগারিয়ু। গবেষকরা জানান, এটার জন্য বুঝতে হবে হাইড্রা কী ধরনের এককোষী অণুজীব? হাইড্রা এমন একটি বিরল গোত্রের অণুজীব, যাদের কার্যত মৃত্যু নেই। তাদের শরীরের কোনো অংশ, এমনকি ‘মাথা’ কেটে ফেললেও তাদের মৃত্যু হয় না। তাদের শরীরে আবার সেই অঙ্গটি গজিয়ে ওঠে।

গবেষকরা জানান, হাইড্রার শরীরের বাইরের স্তরের কোষে ভিন্নধর্মী অন্তত ২৫টি জিন পাওয়া গেছে। জিনগুলো হাইড্রার নষ্ট নিউরনের নতুন বিকল্প নিউরন তৈরি করে। তাদের তৎপরতাতেই হাইড্রা আবার ঝকঝকে তকতকে নতুন নিউরন পায়। আক্ষরিক অর্থেই যা ‘পুনর্জাগরণ’ বা ‘রেজারেকশান’!

এই ‘রেজারেকশান’ মানুষের ক্ষেত্রেও সম্ভব? গবেষকদের জবাব, পুনর্জাগরণের ক্ষমতা যদি সামান্য একটা এককোষী অণুজীবের থাকে, তাহলে উন্নততর বহুকোষী জীবে কেন সম্ভব হবে না? কিন্তু সে জন্য আরো অপেক্ষা করতে হবে। সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা।


মন্তব্য