kalerkantho


পাকিস্তানময় ইডেনে চ্যালেঞ্জে ভারত

সনৎ বাবলা   

১৯ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



পাকিস্তানময় ইডেনে চ্যালেঞ্জে ভারত

ইডেন গার্ডেন আজ কার হবে? প্রশাসক সৌরভ গাঙ্গুলীও একটু ভয়ে আছেন। ইডেন ঘুম ভাঙিয়েছে আফ্রিদির, তাঁর তাণ্ডবে থেমে গেছে বাংলাদেশের ক্রিকেট-বিপ্লব। এর চেয়েও বড় ধাক্কা ঠিক ওপার বাংলার মাঠে বাড়বাড়ন্ত পাকিস্তানি সমর্থক। পতাকা হাতে তাদের উন্মাদনা।

সত্যি অনেক পাল্টে গেছে ইডেন। জগমোহন ডালমিয়ার আমলে যেখানে সামান্য কিছু পাকিস্তানি সমর্থক দেখা যেত সেখানে সৌরভের আমলে তাদের মহাবিস্ফোরণ ঘটেছে। এখানে ভারত জেতে না, সব সময় পাকিস্তানই ফেভারিট। এই মাঠে ছোট ফরম্যাটের ক্রিকেটে (টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে) ভারতকে সব সময় হারিয়েছে পাকিস্তান। এবার এখানেই তাদের বিশ্বকাপ শুভযাত্রা হয়েছে বাংলাদেশকে হারিয়ে। এশিয়া কাপে অধঃপাতে যাওয়া পাকিস্তান এখানে দুর্বার। আট দিন ধরে তারা আছে কলকাতায়, জীবন হয়ে গেছে ইডেনময়। আর ভারত যেন অতিথি হয়ে কলকাতা পৌঁছেছে এই ম্যাচ খেলতে। সুতরাং ক্রিকেটের নন্দনকানন এখনো পর্যন্ত পাকিস্তানময়!

ভারতীয় ক্রিকেটবোদ্ধা সুনীল গাভাস্কারও এই ম্যাচে এগিয়ে রাখছেন পাকিস্তানকে। মাঠের খেলায় শেষ পর্যন্ত এগিয়ে থাকলে কিন্তু বিপদ স্বাগতিকদের জন্য, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বিদায় হয়ে যেতে পারে ভারত। পাকিস্তান কোচ ওয়াকার ইউনুস এই ম্যাচে নিজেদের অনেকখানি এগিয়ে রাখছেন মানসিক শক্তিতে, ‘তারা (ভারত) অবশ্যই ভয়ে থাকবে, তারা ছিটকে যেতে পারে টুর্নামেন্ট থেকে। ’ নিজেদের প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট শুরু করেছে ভারত। তাদের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইন-আপের দর্প চূর্ণ করে কিউই স্পিনাররা নতুন ম্যাজিক দেখিয়েছে ভারতের মাটিতে। অমন ধাক্কায় বিশ্বাস খানিকটা টলবেই, এর পরই আবার পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের চাপ নিতে হবে। না জিতলে সব শেষ হয়ে যাবে। তাই রোহিত-কোহলিদের ব্যাটের দিকে চেয়ে আছে পুরো ভারত। সব সময় যেমন হয় এবার ভারতীয় বোলিং তেমন আপদের নাম নয়। নেহরার ফেরা, বুমরাহর বিস্ফোরণ আর সব সময়ের আস্থাভাজন অশ্বিনের দাপটে তাদের বোলিং অবিশ্বাস্যভাবে বেশ বিশ্বস্ততার জায়গায় পৌঁছে গেছে। সদ্যসমাপ্ত এশিয়া কাপেও বোলিং নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েনি তারা। শক্তি যেখানে সেই ব্যাটিংয়ে ধোনির বড় দুশ্চিন্তা। বিশেষ করে আমির যদি এশিয়া কাপের মতো দুর্ধর্ষ হয়ে ওঠেন, গতি আর সুইংয়ে যদি দুর্বোধ্য হয়ে ওঠেন। পাকিস্তানের শক্তির জায়গা আমির-ইরফান-ওহাবের বোলিং, নিজেদের দিনে তাঁরা বিশ্বের সেরা ব্যাটিং লাইনকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিতে পারেন। বিশ্বকাপের পর ওহাব রিয়াজের সেই আগুনে বোলিং দেখা না গেলেও ওয়াকার ইউনুস আস্থা রাখছেন এই পেসারের ওপর, ‘ওহাব একজন ম্যাচ উইনার, বড় আসরে সে জেগে ওঠে। ’ ব্যাটিং নিয়ে তাঁর মনে যে সংশয়টা ছিল সেটা আপাতত উড়ে গেছে বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচ দেখে। শহীদ আফ্রিদির ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে প্রথম ম্যাচেই পাকিস্তান ২০০ ছাড়িয়েছে।

কিন্তু ইডেনে তাদের ভারতের কাছে না হারার রেকর্ড থাকলেও বিশ্বকাপে আবার উল্টো। কখনো ছোট দুই ফরম্যাটে বিশ্বকাপে পাকিস্তান জেতেনি ভারতের বিপক্ষে। এবার ইতিহাস পাল্টানোর স্বপ্ন দেখেন ওয়াকার ইউনুস, ‘ইতিহাস পাল্টায়, এবার অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী আমরা। আমাদের চেয়ে বেশি চাপ ভারতের ওপর। ’ আসলে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের চাপ-তাপের সীমা-পরিসীমা নেই। রবিচন্দ্রন অশ্বিন যেমন এই ম্যাচকে ‘অ্যাশেজের চেয়েও’ বড় করে দেখছেন। তাই হবে। নইলে আন্তর্জাতিক সাংবাদিকরা কেন ক্রিকেটকে লঘু করে দুই দেশের মানুষের উত্তেজনা-উন্মাদনা নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করবেন? ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাস, ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক, ওয়াঘা সীমান্ত, কাশ্মীর যুদ্ধ—সবই সাধারণত রাজনীতির বিষয়-আশয়। সেভাবেই দরকষাকষি হয় দুই পক্ষে। কিন্তু পাকিস্তান-ভারত ক্রিকেটের হাওয়া বইতে শুরু করলে এসব আন্তরাজনীতির বিষয়গুলোও ঢুকে পড়ে ক্রিকেটে। তাই এই ম্যাচের মহিমা বাড়ে অনেকখানি। মাঠের খেলা আর মাঠে থাকে না।

যেমন ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গলের আধিকারিক সৌরভ গাঙ্গুলীও নিশ্চয়ই ভাবছেন নিজের কথা। ম্যাচটায় ভারত হারলে তো তাঁর সাংগঠনিক ক্যারিয়ারেও খানিকটা ‘অলক্ষুনে’ ছোপ লেগে যাবে। জিতলে হবে বিশাল জয়। এত দিনের পাকিস্তানময় ইডেন হবে ভারতের।


মন্তব্য