kalerkantho


‘বিদেশিদের’ বাংলা জয়

ফখরে আলম, যশোর   

১৯ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



‘বিদেশিদের’ বাংলা জয়

বাংলাদেশে চাষ হচ্ছে বিদেশি ফুল (ওপরে বাঁ থেকে) পেনজি, কারনেশন; (নিচে বাঁ থেকে) পটুলাটা ও এন্টারহেনাম। - ছবি : কালের কণ্ঠ

বরফের দেশ দার্জিলিংয়ের অ্যাজেলিয়া, ফ্রান্সের কারনেশন, জাপানের পেনজি—এসব ফুল বাংলাদেশের শখের বাগান দখল করে নিয়েছে। ফাগুনে পলাশ আর অশোকের পাশাপাশি এসব ফুলও প্রকৃতিকে অপরূপ সাজে সাজাচ্ছে। বিশেষত যশোরের বিভিন্ন বাগানে হরহামেশাই শোভা পাচ্ছে বিদেশি এসব ফুল।

কারনেশন : গোলাপের বোন হচ্ছে কারনেশন ফুল। ঘাসের মতো পাতা। গাছের উচ্চতা ৮ থেকে ১০ ইঞ্চি। ফুল ফোটে শীত মৌসুমে। তবে ফেব্রুয়ারি-মার্চেও কারনেশন সতেজ থাকে। সাদা, বেগুনি, লাল, গোলাপি, ম্যাজেন্টাসহ কারনেশনের আরো কয়েকটি রং রয়েছে। আদি নিবাস ফ্রান্সে হলেও এখন বিশ্ব মাতাচ্ছে জাপানের কারনেশন। যশোরের হাজেরা নার্সারির মালিক শাহাবুদ্দিন বাবু জাপান থেকে বীজ এনে এই প্রথমবারের মতো ফুটিয়েছেন কারনেশন লিলিপুট। তাঁর নার্সারির শোভা বাড়াচ্ছে ছোট গোলাপের মতো বাহারি ফুলটি।

অ্যাজেলিয়া : অ্যাজেলিয়া, ক্যামেলিয়া আমাদের দেশে অনেক আগে থেকেই ছিল। এখন অ্যাজেলিয়ার হাইব্রিড জাত এসেছে ভারতের দার্জিলিং থেকে। বহু বর্ষজীবী এই গাছটির উচ্চতা এক হাতের মতো। ছোট ছোট গাছে আমাদের দেশের স্থলপদ্মের মতো হলুদ, গোলাপি, সাদা, বেগুনি, লালসহ নানা রঙের ফুল ফুটেছে। শহরের খালদার রোড এলাকার মোফা ফিশের আব্বাস আলীর বাগানে ঠাসা পাপড়ির কয়েক রকম অ্যাজেলিয়া সৌন্দর্য মেলে ধরেছে। আমেরিকা, হিমালয়ের পাদদেশ, জাপানের পাহাড়ি অঞ্চল ও দক্ষিণ-পশ্চিম ইউরোপের অ্যাজেলিয়ার দশ হাজার হাইব্রিড সৃষ্টি করে পুষ্প বিজ্ঞানীরা বিশ্বময় ছড়িয়ে দিয়েছেন। জাপান, কোরিয়া, হংকং ও আমেরিকায় প্রতিবছর অ্যাজেলিয়া ফুলের উৎসব হচ্ছে। এই ফুলগাছ যশোরের নার্সারিতে বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকায়।

টাইম ফুল নয়, পটুলাটা : আমাদের চিরচেনা টাইম ফুল পটুলাটা নামে বাংলাদেশে এসেছে সুদূর ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ে থেকে। একেবারে টাইম ফুলের মতো গাছ। ফুলও একই রকম। কিন্তু ফুলের গঠন অনেকটা গোলাপের মতো। সাদা, হলুদ, আকাশি, লাল, বেগুনিসহ নানা রঙের এই ছোট ছোট ফুল বাগান রাঙিয়ে ফেলেছে। বীজ থেকে এর চারা হয়। সামান্য যত্নেই পটুলাটা ফুল দেয়।

এন্টারহেনাম : এন্টারহেনামের আরেক নাম স্ন্যাফ ড্রাগন। ফুল মাঝে মাঝে ড্রাগনের মতো হা করে। এর আদি নিবাস আমেরিকা, ইউরোপ ও উত্তর আফ্রিকা। এ ফুলটিও বাংলা জয় করেছে। ১২ থেকে ১৮ ইঞ্চি লম্বা গাছে রজনীগন্ধার মতো স্টিক জুড়ে ফুল ফোটে। যশোরের কয়েকটি বাগানে বেগুনি, লাল, হলুদ রঙের স্ন্যাফ ড্রাগন ফুটেছে। ভারতে এই ফুল বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে। কাট ফ্লাওয়ার হিসেবে এন্টারহেনামের বিশ্বজোড়া কদর রয়েছে।

পেঞ্জি : একেবারেই ছোট গাছ। কিন্তু সাপের ফণার মতো ফুল পেঞ্জির অহংকার বাড়িয়ে দিয়েছে। রং আর গঠনশৈলীর কারণে পুষ্পপ্রেমীদের কাছে পেঞ্জি খুবই আদরের। এই ফুলটিও দেশের বাগানে শোভা পাচ্ছে। ইউরোপ ও পশ্চিম এশিয়ার কয়েকটি ফুলের হাইব্রিড জাত হচ্ছে পেঞ্জি। মৌসুমি এই ফুল শীতকালে ফোটে। বীজ থেকে চারা হয়।


মন্তব্য