kalerkantho


মালয়েশিয়ার মন্ত্রী বললেন

শ্রমিক নিয়োগ বন্ধ, তবে চুক্তি বাতিল হয়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



শ্রমিক নিয়োগ বন্ধ, তবে চুক্তি বাতিল হয়নি

নতুন বিদেশি শ্রমিক নিয়োগ বন্ধ থাকলেও বাংলাদেশের সঙ্গে স্বাক্ষরিত মালয়েশিয়ার চুক্তিটি বাতিল হচ্ছে না। কারণ চুক্তিটি পাঁচ বছর মেয়াদি।

যখনই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হবে, তখন থেকেই এ চুক্তি কার্যকর হবে। মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী রিচার্ড রায়তের বরাত দিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার মালয়েশিয়ার দ্য স্টার পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পাঁচ বছরে ১৫ লাখ শ্রমিক নেওয়ার বিষয়ে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করে মালয়েশিয়া। মালয়েশিয়ার পক্ষে সেই চুক্তিতে সই করেন রিচার্ড রায়ত। কিন্তু পরদিনই বিদেশি শ্রমিক নিয়োগ স্থগিত ঘোষণা করেন মালয়েশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আহমাদ জাহিদ হামিদি। এ বিষয়ে সে দেশের মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর গত শনিবার বিদেশি শ্রমিক নিয়োগ পুরোপুরি বন্ধ করে দেয় মালয়েশিয়া।

রিচার্ড রায়তের বরাত দিয়ে দ্য স্টার অনলাইন জানায়, মালয়েশিয়ায় বর্তমানে বিদেশি শ্রমিক নিয়োগপ্রক্রিয়া বন্ধ রয়েছে। সেই কারণে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেওয়াও বন্ধ রয়েছে। তবে বাংলাদেশের সঙ্গে শ্রমিক নিয়োগের বিষয়ে যে চুক্তি হয়েছে, তা বাতিল হয়ে যায়নি।

এটি পাঁচ বছর মেয়াদি চুক্তি। কর্মী নিয়োগে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হলেই চুক্তিটি কার্যকর হবে।

রিচার্ড রায়ত বলেন, ‘শুধু বাংলাদেশের সঙ্গে নয়, বিদেশি শ্রমিক আনতে আরো সাতটি দেশের সঙ্গে আমরা চুক্তি করেছি। শ্রমিক আমদানি সাময়িক স্থগিত মানেই চুক্তি বাতিল নয়। ’

গত শনিবার মালয়েশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী জাহিদ হামিদি জানিয়েছিলেন, মন্ত্রিসভা নতুন করে বিদেশি শ্রমিক আমদানির সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছে। মালয়েশিয়ায় কর্মরত যেসব বিদেশি শ্রমিকের কাজের অনুমোদন নেই বা যাদের কাজের অনুমোদনের মেয়াদ শেষ হয়েছে, তাদের যথাযথভাবে আবেদন করার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন তিনি। এ ব্যাপারে বিদেশি শ্রমিকরা ৩০ জুন পর্যন্ত সুযোগ পাবে বলেও জানান তিনি।

রিচার্ড রায়তের মন্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে গতকাল প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মালয়েশিয়া সরকারের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে আমাদের কিছুই জানানো হয়নি। আমরা এখনো বিষয়টি সম্পর্কে কিছুই জানি না। ’

কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে মালয়েশিয়ার সরকারের অবস্থান পরিষ্কার নয় বলে জানান জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিসের (বায়রা) সভাপতি আবুল বাশার।

তিনি বলেন, ‘মালয়েশিয়ার সরকার একেক সময় একেক রকম কথা বলে। আগের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, তাদের কথা বিশ্বাস করা কঠিন। আমি কোনোভাবেই আশ্বস্ত হতে পারছি না। ’

প্রসঙ্গত, পাঁচটি খাতে (সেবা, নির্মাণ, কৃষি, প্লান্টেশন ও ম্যানুফ্যাকচারিং) বাংলাদেশ থেকে ১৫ লাখ কর্মী নিতে সমঝোতা স্মারকে সই করেছিল মালয়েশিয়া। সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের অংশগ্রহণে ‘জিটুজি প্লাস’ পদ্ধতিতে পাঁচ বছর মেয়াদি এ সমঝোতার আওতায় মালয়েশিয়ায় যেতে কর্মীপিছু খরচ হওয়ার কথা ৩৪ থেকে ৩৭ হাজার টাকা, যা নিয়োগকর্তাই বহন করবেন।


মন্তব্য