kalerkantho

26th march banner

চট্টগ্রামে বোমা-বিস্ফোরক উদ্ধার

হামজা ব্রিগেডের ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

এস এম রানা, চট্টগ্রাম   

১৮ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



হামজা ব্রিগেডের ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

চট্টগ্রামের হালিশহরের একটি বাড়ি থেকে বিপুলপরিমাণ বোমা-বিস্ফোরক উদ্ধারের আলোচিত মামলায় জঙ্গি সংগঠন শহীদ হামজা ব্রিগেডের ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেওয়া হয়েছে। র‌্যাবের এএসপি মো. জালাল উদ্দিন আহাম্মদ গত বুধবার চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (প্রসিকিউশন) কাজী মুত্তাকী ইবনু মিনান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আদালত সূত্র জানায়, অভিযোগপত্রভুক্তরা হলেন ফয়জুল হক, তাঁর ছোট ভাই আজিজুল হক, বোন রহিমা আক্তার, বড় বোনের ছেলে জায়েদুল্লাহ, তাঁদের আত্মীয় আবদুল হাই, শহীদ হামজা ব্রিগেডের সামরিক শাখার প্রধান মনিরুজ্জামান ওরফে ডন, তাঁর সহযোগী আনোয়ার হোসেন, মো. শামসুদ্দিন, রাকিব হাসান, নাছির উদ্দিন খান ও মো. পারভেজ। পারভেজ এখনো পলাতক, বাকিরা কারাবন্দি রয়েছে।

অভিযোগপত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি হালিশহর থানার গোল্ডেন আবাসিক এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালায় র‌্যাব-৭। অভিযানে ৭৬টি শক্তিশালী বোমা, ১৫০ কেজি বিস্ফোরক, বোমা তৈরির ৩০ ধরনের সরঞ্জাম, শটগানের ২৪টি গুলি, বিপুলপরিমাণ তার, বাল্ব, মুখোশ, দস্তানা ও বুট জব্দ করা হয়। অভিযানের সময় ওই বাসা থেকে ফয়জুল হক, রহিমা আক্তার, জায়েদুল্লাহ ও আবদুল হাইকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আরো ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাব কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, জঙ্গি প্রশিক্ষণ ও দেশে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালাতে এসব বোমা ও বিস্ফোরক মজুত করা হয়েছিল। অভিযানের পর র‌্যাব-৭-এর সহকারী পরিচালক এম জি রব্বানী হালিশহর থানায় বিস্ফোরক ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন। প্রায় এক বছর তদন্ত শেষে বুধবার এ মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করা হলো।

র‌্যাব-৭-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ কালের কণ্ঠকে জানান, গ্রেপ্তার ১০ আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দির ভাষ্য ও তদন্তে জানা গেছে, শহীদ হামজা ব্রিগেড নামের নতুন জঙ্গি সংগঠন গড়ে তুলে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালাতে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করেন মধ্যপ্রাচ্যের কোনো এক দেশের নাগরিক আল্লামা লিবদি ওরফে জুনায়েদ। তবে তাঁর প্রকৃত পরিচয় জানতে পারেনি র‌্যাব। তাঁর নির্দেশেই হালিশহরের ওই বাসায় বোমা ও বিস্ফোরক মজুত করা হয়েছিল। এগুলো দিয়ে প্রশিক্ষণ ও নাশকতা চালানোর পরিকল্পনা ছিল।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আসামিদের জবানবন্দির বরাত দিয়ে জানান, মানবতাবিরোধী অপরাধে ২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায় ঘোষণার পর সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে নাছির উদ্দিন খান নামের একজনের পরিকল্পনায় মনিরুজ্জামান ওরফে ডন কুমিল্লা ও আশপাশের এলাকা থেকে অস্ত্র, বোমা ও বিস্ফোরক জোগাড় করে হালিশহরে আজিজুলের ভাড়া বাসায় রাখেন।

র‌্যাব সূত্র জানায়, নাছির উদ্দিনের নাগাল এখনো পাওয়া যায়নি। এ রকম আরো কয়েকজন আছে। পরিচয় পাওয়ার পর সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।

গত বছরের শুরুর দিকে শহীদ হামজা ব্রিগেডের অস্তিত্ব টের পায় র‌্যাব। এরপর হালিশহরের বাসা থেকে বিস্ফোরক উদ্ধার, হাটহাজারীর একটি মাদ্রাসা থেকে প্রশিক্ষণের সময় সংগঠনটির নেতাকর্মী গ্রেপ্তার এবং বাঁশখালীর লটমনি পাহাড় থেকে প্রশিক্ষণের আস্তানা ও অস্ত্র উদ্ধার করে র‌্যাব। এসব ঘটনায় সংগঠনটির নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে অস্ত্র ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে চারটি মামলা হয়। এর মধ্যে হালিশহরে একটি, হাটহাজারিতে একটি ও বাঁশখালিতে দুটি মামলা রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রায় এক বছর পর মামলাগুলোর অভিযোগপত্র দাখিলের প্রক্রিয়া শুরু করেছে র‌্যাব। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার হালিশরের মামলাটির অভিযোগপত্র দাখিল করা হলো।

শহীদ হামজা ব্রিগেডকে অর্থায়নের অভিযোগে বাকি তিন মামলায় আসামি করা হচ্ছে তিন আইনজীবীকে। তাঁদের মধ্যে ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা বিএনপির কেন্দ্রীয় তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এবং সাবেক হুইপ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। বাকি দুজন তাঁর (শাকিলা ফারজানা) সহকারী। তাঁরা হলেন অ্যাডভোকেট হাসানুজ্জামান লিটন (৩০) ও অ্যাডভোকেট মাহফুজ চৌধুরী বাপন (২৫)। বর্তমানে তাঁরা কারাবন্দি রয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শহীদ হামজা ব্রিগেডের কথিত প্রধান আল্লামা লিবদি ওরফে জুনায়েদের নাগালও পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁকে বাদ দিয়েই মামলাগুলোর অভিযোগপত্র চূড়ান্ত করা হয়েছে।

র‌্যাব-৭-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘তদন্ত পর্যায় তাঁর (জুনায়েদ) বিস্তারিত পরিচয় বের করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে তাঁকে অভিযোগপত্রভুক্ত করা হয়নি বা হচ্ছে না। তবে পরে বিস্তারিত পরিচয় পাওয়া গেলে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে। আইনে সেই সুযোগ আছে। তবে শহীদ হামজা ব্রিগেডকে অর্থায়নের অভিযোগে গ্রেপ্তার তিনজন আইনজীবীকে হাটহাজারী ও বাঁশখালী থানার মামলায় অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি করা হচ্ছে। অভিযোগপত্র শিগগির আদালতে দাখিল করা হবে। ’


মন্তব্য