kalerkantho


অপহৃত শিশুর কান্না থামাতে না পেরে হত্যা

লাশ উদ্ধার আট দিন পর

পটুয়াখালী প্রতিনিধি   

১৮ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



অপহৃত শিশুর কান্না থামাতে না পেরে হত্যা

হাবিব ( ফাইল ছবি )

বয়স তার আড়াই বছর। ছোট্ট শিশু হাবিব ঘুমিয়ে ছিল মা-বাবার কাছেই। রাতের অন্ধকারে বিছানা থেকে তাকে তুলে নেয় অপহরণকারীরা। এরপর দাবি করা হয় এক কোটি টাকা মুক্তিপণ। ঘটনাটি পটুয়াখালীর গলাচিপা চান্দেরহাওলা গ্রামের। রহস্যজনক অপহরণ ঘটনার আট দিন পর গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে হাবিবের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আটক এক অপহরণকারীর বর্ণনা অনুসারে, কান্না থামাতে না পেরে পলিথিনের বস্তায় ঢুকিয়ে শিশুকে খালের কচুরিপানার নিচে ঢুকিয়ে রাখা হয়েছিল। পৈশাচিক এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে পুলিশ শিশুর দুই সত্ভাইসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

বাবা কাঞ্চন সরদার বলেন, ‘জমি ভাগাভাগিসংক্রান্ত ঘটনায় প্রথম স্ত্রীর সন্তানরা এ ঘটনা ঘটাতে পারে। আমি তাদের নামে অপহরণ মামলা করেছিলাম। ’

গলাচিপা থানার ওসি আব্দুর রাজ্জাক মোল্লা বলেন, ‘এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা অপহরণ ও হত্যায় জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ’

তদন্ত কর্মকর্তা এসআই জাকারিয়া বলেন, ‘শিশু হাবিবকে অপহরণের পর কান্না থামাতে না পেরে জীবিত অবস্থায় পলিথিনিরে বস্তায় ঢোকানো হয়েছিল। এরপর দুয়ারীবাড়িসংলগ্ন খালের কচুরিপানায় লুকিয়ে রাখা হয়। গ্রেপ্তারকৃত মাসুদের দেওয়া তথ্যে এ কথা জানা গেছে। ’

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্র জানায়, গলাচিপা উপজেলার ব্যবসায়ী কাঞ্চন সরদারের দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তান হাবিবুর রহমান হাবিব (আড়াই বছর)। চান্দেরহাওলা এলাকার বাড়িতে গত ১০ মার্চ রাতে স্ত্রী, সন্তানসহ ঘুমিয়ে ছিলেন কাঞ্চন সরদার। জানালা ভেঙে অপহরণকারীরা ঘরে ঢুকে হাবিববে বিছানা থেকে তুলে নিয়ে যায়। এ বিষয়ে পরদিন গলাচিপা থানায় মামলা হয়। কাঞ্চন সরদার এ অপহরণ ঘটনায় সন্দেহ পোষণ করেন প্রথম স্ত্রীর সন্তান বেল্লাল হোসেন ও সোনা মিয়ার ব্যাপারে। ১২ মার্চ একটি মোবাইল ফোন থেকে কল করে কাঞ্চন সরদারের কাছে এক কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পুলিশ মোবাইল কলসহ নানা তথ্য যাচাইয়ের পর বুধবার রাতে মাসুদ সরদার (৩০) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করে। সে পার্শ্ববর্তী পানপট্টি ইউনিয়নের গ্রামর্দ্দন গ্রামের ইয়াকুব দালালের ছেলে। জিজ্ঞাসাবাদে মাসুদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী গতকাল দুপুর ৩টায় রতনদি-তালতলী ইউনিয়নের বউবাজার এলাকায় পুলিশ অনুসন্ধান চালায়। সেখানে দুয়ারীর খাল থেকে উদ্ধার হয় শিশু হাবিবের বস্তাবন্দি লাশ। মর্মান্তিক এ ঘটনায় এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। পুলিশ এজাহারভুক্ত আসামি বেল্লাল ও সোনা মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

একমাত্র সন্তান হারিয়ে মা জয়নব বেগম এখন পাগলপ্রায়। বিলাপ করে তিনি বলছেন, ‘ও কখনো কাঁদত না। শুধু হাসত আর দুষ্টুমি করত। তাই ওকে সবাই আদর করত। আমার বাবা, এখন আর কাঁদেও না, হাসেও না। ’ কিছুক্ষণ পর পরই তিনি মূর্ছা যাচ্ছেন। শিশু হত্যার এ ঘটনা জানাজানি হলে আশপাশের গ্রাম থেকেও লোকজন ভিড় জমান কাঞ্চন সরদারের বাড়িতে।


মন্তব্য