kalerkantho

26th march banner

চাকরি না পেয়ে হতাশায় ঢাবির সাবেক ছাত্রের আত্মহত্যা!

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ঝিনাইদহ প্রতিনিধি   

১৭ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এক ছাত্র; যিনি পড়াশোনা শেষ করে ভালো কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরি না পেয়ে কিছুদিন ধরে হতাশা থেকে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন বলে জানিয়েছে তাঁর পরিবার। মঙ্গলবার রাত ৩টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে।

মৃত তারেক আজিজ সোহাগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ২০০৬-০৭ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তিনি হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের ৪৪৯ নম্বর কক্ষে থাকতেন। তিনি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার এখতারপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল খালেক মণ্ডলের ছেলে।

ঢাকা মেডিক্যালে মৃত তারেকের একমাত্র ছোট বোন জ্যোতি কালের কণ্ঠকে বলেন, হতাশা থেকে গত বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে সবার অগোচরে নিজের কক্ষে তাঁর ভাই বিষপান করেন। একপর্যায়ে বিষক্রিয়ায় চিৎকার শুরু করলে বাড়ির লোকজন ছুটে এসে তাঁকে উদ্ধার করে কালীগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তিনি অজ্ঞান হয়ে যান। হাসপাতালে তাঁর পেট ওয়াশ করেন চিকিৎসকরা। কিন্তু তাঁর আর জ্ঞান ফেরেনি। ওই দিন বিকেলেই তাঁকে যশোর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কয়েক দিন চিকিৎসার পর অবস্থার অবনতি হলে মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে তাঁকে ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে আসা হয়। পরে রাত ৩টার দিকে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।

কালীগঞ্জ সদর হাসপাতালের চিকিৎসক সোহাগ আলী জানান, বিষপানের পর তারেক আজিজকে হাসপাতালে আনা হয়। তখন তাঁর পেট ওয়াশ করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। কিন্তু অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে যশোর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ঢাকা মেডিক্যাল সূত্র জানায়, আশঙ্কাজনক অবস্থায় তারেক আজিজকে ঢাকা মেডিক্যালে আনা হয়। তাঁকে ভর্তি করে চিকিৎসা শুরু করলে মঙ্গলবার রাত ৩টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। কীটনাশক (বিষ) পানে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

শাহবাগ থানার এসআই মইনুল হোসেন কালের কণ্ঠকে জানান, স্বজনদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই তারেক আজিজের লাশ গতকাল সকালে হস্তান্তর করা হয়েছে।

মুহসীন হলের রুমমেট ও বন্ধুবান্ধবরা জানান, দুই বছর আগে মাস্টার্স শেষ করে তারেক আজিজ বেশ কিছু জায়গায় চাকরির জন্য আবেদন করেন এবং পরীক্ষা দেন। কিন্তু কোথাও চাকরি না হওয়ায় প্রায় দেড় বছর আগে হল ছেড়ে গ্রামের বাড়ি চলে যান তিনি।

তারেকের মুহসীন হলের বন্ধু টিপু সুলতান বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে তারেক হতাশায় ভুগছিল। দেশের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠে পড়েও কেন তাঁর একটা ভালো চাকরি হবে না, এ কথা প্রায়ই বলত। তবু চাকরির পরীক্ষা দিয়েছে; কিন্তু কোথাও ওর চাকরি হয়নি। ’

হলে তারেকের রুমমেট ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র জুবায়ের আহমেদ বলেন, ‘তারেক ভাই খুবই মেধাবী ছিলেন। মানুষ হিসেবেও ছিলেন খুব নম্রভদ্র। বর্তমান সমাজ ও সামাজিক অসংগতির নানা বিষয় নিয়ে আলাপ-আলোচনা করতেন। পড়াশোনা শেষ হলেও কোথাও চাকরি না হওয়ায় হতাশায় ভুগতেন। মাঝেমধ্যে বোঝানোর চেষ্টা করেছি। তিনি বছর দেড়েক আগে বাড়ি চলে গিয়েছিলেন। ’


মন্তব্য