kalerkantho

26th march banner

রূপগঞ্জে আ. লীগের মনোনয়ন পেতে মরিয়া ‘রাজাকার’ জাহেদ

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি   

১৭ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



রূপগঞ্জে আ. লীগের মনোনয়ন পেতে মরিয়া ‘রাজাকার’ জাহেদ

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের রাজাকারপুত্র, আদমব্যাপারী ও ‘কিশোর রাজাকার’ হিসেবে পরিচিত জাহেদ আলী এবার আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী হতে দৌড়ঝাঁপ করছেন। অভিযোগ রয়েছে, টাকার বিনিময়ে নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন পেতে তিনি মন্ত্রী-এমপিদের দ্বারস্থ হচ্ছেন। রাজাকারপুত্র জাহেদ আলী আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাওয়ায় হতাশ স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও কায়েতপাড়া এলাকাবাসী।

জানা গেছে, মুক্তিযুদ্ধের সময় জাহেদ আলী ছোট ছিলেন আর তাঁর বাবা নোয়াব আলীকে সব অপকর্মে সহযোগিতা করতেন। এ জন্য এলাকাবাসী জাহেদ আলীকে ‘কিশোর রাজাকার’ হিসেবে জানে। কিছুদিন আগে রূপগঞ্জের সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজীর (বীরপ্রতীক) রূপসীর বাসভবনে দলীয় কাউন্সিল হয়। জনপ্রিয়তা না থাকায় জাহেদ আলী সেই কাউন্সিলে অংশ নিতে পারেননি। এখন তিনি চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের নাম ভাঙিয়ে নানা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত জাহেদ আলী। তিনি ও তাঁর বাহিনীর অত্যচারে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। তাঁর অপরাজনীতির কারণে রূপগঞ্জের বিভিন্ন এলাকার আটটি তাজা প্রাণ নিভে গেছে। আজও থামেনি সেসব পরিবারের কান্না। জাহেদ আলী ওরফে কাঁপা জাহেদ এলাকায় জমির দালালি, মানবপাচারসহ বহু অবৈধ কাজের হোতা বলে অনেকে অভিযোগ করেন। এলাকার নিরীহ ও হতদরিদ্রদের ঠকিয়ে জাহেদ আলী এখন কয়েক কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। একসময়ের খেয়াঘাটের মাঝি জাহেদ এখন গাড়ি, বাড়ি, ফ্ল্যাট, এবং বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিক।

রূপগঞ্জের কায়েতপাড়া ইউনিয়নের পূর্বগ্রামের বাসিন্দা জাহেদ আলীর বাবা নোয়াব আলী ছিলেন কুখ্যাত রাজাকার। এ ছাড়া উপজেলার ইছাখালী এলাকার রাজাকার আলাউদ্দিন, নাওড়া এলাকার রাজাকার খালেক ছিলেন নোয়াব আলীর সহযোগী। তারা কায়েতপাড়া ও ডেমরা এলাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগিতায় লুটপাট চালাত আর তরুণীদের ধরে এনে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে তুলে দিত। জাহেদ আলীর বাবা-দাদার জমিজমা ছিল না। অন্যের বাড়িতে দিনমজুরি, কৃষিকাজ করেই তারা সংসার চালাত। অভাবের তাড়নায় জাহেদ আলী ঢাকা গিয়ে আদম ব্যবসা শুরু করেন। সেখান থেকেই তাঁর উত্থান ঘটে। বিদেশে পাঠানোর নামে লোক ঠকিয়ে তিনি টাকা কামানো শুরু করেন। লোকজন যাতে টাকার জন্য চাপ দিতে না পারে সে জন্য তিনি ২০০১ সালে রাজনীতিতে ঢুকে যান। তবে ছাত্রজীবনে জাহেদ আলী ছাত্রদলের নেতা ছিলেন। পরে কায়েতপাড়া আওয়ামী লীগের সভাপতি পদ বাগিয়ে নেন। এরপর আর ফিরে তাকাতে হয়নি জাহেদ আলীকে। দলের নাম ভাঙিয়ে জাহেদ আলী ও তাঁর ভাতিজারা এলাকায় ‘রাজত্ব’ তৈরি করেছেন। এলাকায় পরিবহন চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, জমি দখল, শীতলক্ষ্যা নদীর চরের খাসজমির মাটি বিক্রি থেকে এমন কোনো কাজ নেই জাহেদ আলী ও তাঁর বাহিনী করছে না।

অপরাধজগতে জাহেদ আলীর ছেলেরাও কম যান না। স্থানীয়দের অভিযোগ, কায়েতপাড়া ইউনিয়নে মাদক নিয়ন্ত্রণ করেন জাহেদ আলীর ছেলে নাহিদসহ আল-আমিন, রুমন, ডিলার মতিন, শফিক, আরিফ, আল আমিন, আলমগীর নামের কয়ে যুবক। শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে কায়েতপাড়ার পূর্বগ্রামে শতাধিক ডক ইয়ার্ড রয়েছে। এসব ডক ইয়ার্ডে জাহেদ আলী ও তাঁর বাহিনী নিয়মিত চাঁদাবাজি করে। জাহেদ আলীর ছেলে ও তাঁর ভাতিজাদের চাঁদাবাজির কারণে কায়েতপাড়া দিয়ে চলাচলরত ঢাকা-ভক্তবাড়ী পরিবহন সার্ভিস বন্ধ হয়ে গেছে। কায়েতপাড়া ইউনিয়নের ভূমি অফিসও জাহেদ আলী নিয়ন্ত্রণ করেন। অভিযোগ রয়েছে, ২০১০ সালে রূপগঞ্জে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে জনগণকে ভুল বোঝানোর মূল হোতা ও উসকানিদাতা ছিলেন জাহেদ আলী ও স্থানীয় ফজলউদ্দিন।


মন্তব্য