kalerkantho


নদীতে গোসলে গিয়ে তিন ভাইবোনের মৃত্যু

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি   

১৭ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



মা লেবাননপ্রবাসী, বাবা সিলেটে কর্মরত। সে কারণে তিন ভাইবোন ছিল ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ফুফুর বাড়িতে।

আর সেখানেই ঘটেছে শোকাবহ ঘটনা। একসঙ্গে নদীতে গোসল করতে গিয়ে আর ঘরে ফেরেনি তিন সহোদর। গতকাল বেমালিয়া নদীর রতনপুর এলাকায় উদ্ধার হয়েছে তাদের লাশ। সুলতানা (৮), রাজা মিয়া (৬) ও বাদশা মিয়া (৪) নামের তিন শিশুর মৃত্যুতে শোকের ছায়া এখন পুরো এলাকায়। মর্মান্তিক এ ঘটনায় হতবিহ্বল পরিবারের সব সদস্য।

ফুফু খুশ বানু জানান, মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে তিন শিশু গোসল করার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়। কিন্তু দীর্ঘসময় না ফেরায় খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। গভীর রাত পর্যন্ত সন্ধানে তাদের পাওয়া যায়নি। সকাল থেকে নদীর আশপাশে খোঁজা হচ্ছিল।

দুপুর সাড়ে ১২টায় নদীতে সুলতানার লাশ ভেসে থাকার খবর পৌঁছে। এরপর এলাকার লোকজন তিনজনেরই লাশ উদ্ধার করে।

শোকার্ত বাবা শওকত আলী জানান, তিন সন্তান ফুফুর সঙ্গেই থাকত। হারিয়ে যাওয়ার সংবাদ পেয়ে তিনি সিলেট থেকে ছুটে আসেন। এরপর খোঁজ করতে গিয়ে বুধবার দুপুরে এক সন্তানের লাশ নদীতে ভেসে ওঠার সংবাদ মেলে। সেখানে গিয়ে তিনজনকেই মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।

পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, শওকত আলীর বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার তেলিকান্দি গ্রামে। স্ত্রী লেবাননে কর্মরত। তিনি পেশাগত কাজে দীর্ঘদিন সিলেটে অবস্থান করায় সন্তানদের নাসিরনগর রতনপুরে ফুফুর বাড়িতে রেখে ছিলেন। তিন সন্তানের একযোগে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে এখানে অবস্থানকালেই। তিন শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় শোকার্ত এলাকাবাসী ভিড় জমায় রতনপুর পূর্বপাড়ার বাড়িটি ঘিরে। এ দম্পতির সাদ্দাম মিয়া (১৫) নামে আরেক সন্তান রয়েছে।

নাসিরনগর থানার ওসি মো. আব্দুল কাদের বলেন, ‘শিশুদের মৃত্যুর বিষয়ে কাউকে দায়ী করে অভিযোগ আসেনি। গোসল করতে গিয়ে পানিতে ডুবে তাদের মৃত্যু ঘটেছে বলে পরিবার সদস্যরা জানিয়েছে। পরিবারের অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ’

শোকাবহ এ ঘটনার সংবাদ পেয়ে নাসিরনগর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী মোয়াজ্জম আহমদ গতকাল বিকেলে রতনপুরে যান। তিনি বলেন, ‘শিশুদের কেউ সাঁতার কাটতে পারত না বলে জেনেছি। নদীতে গোসল করতে গিয়েই তারা মারা গেছে বলে নিশ্চিত করেছে স্বজনরা। ’ তিনি জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে পরিবারটিকে কিছু আর্থিক সহায়তা দেন।

চাতলপাড় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শেখ আবদুল আহাদ বলেন, ‘ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক। আগের দিন তিন শিশুকে পাওয়া যাচ্ছিল না বলে শুনেছিলাম। এরপর বুধবার দুপুরে নদীতে তাদের লাশ ভেসে ওঠে। ’


মন্তব্য