kalerkantho


যুক্তরাজ্যের সব প্রস্তাব মেনে নিচ্ছে বাংলাদেশ

সরোয়ার আলম   

১৭ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



যুক্তরাজ্যের সব প্রস্তাব মেনে নিচ্ছে বাংলাদেশ

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো শাখার নিরাপত্তা বিষয়ে আলোচনা করতে ব্রিটেনের তিনটি বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থার ১২ সদস্য বাংলাদেশে এসেছেন। গত মঙ্গলবার ও গতকাল বুধবার তাঁরা ঢাকায় পৌঁছেন।

তাঁদের সঙ্গে আলোচনার পর যেকোনো একটি কম্পানিকে নিরাপত্তার জন্য বেছে নেওয়া হবে। চলতি মাসেই এ দায়িত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে। আপাতত ২৬ মার্চকে সম্ভাব্য তারিখ ধরে কথাবার্তা চলছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তিনটি সংস্থার মধ্যে এখন পর্যন্ত রেড লাইন অ্যান্ড কন্ট্রোল রিস্কস কম্পানিকে সবার ওপরে রাখা হয়েছে।

সূত্র জানায়, ঢাকা থেকে বিমানযোগে সরাসরি পণ্য পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে যুক্তরাজ্যের সব ধরনের প্রস্তাব বাংলাদেশ মেনে নিচ্ছে। আগামী ২০ মার্চ নিরাপত্তা বিষয়ে ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে ব্রিটেনের যেকোনো একটি নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত করা হবে। তবে প্রয়োজনে আরো আগে বিষয়টি চূড়ান্ত হয়ে যেতে পারে।

বাংলাদেশ সফরে আসা ব্রিটিশ নিরাপত্তা সংস্থার সদস্যরা গতকাল বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। গতকাল তাঁরা কার্গো শাখা পরিদর্শন করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলেন।

বেবিচকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নিয়োগ দেওয়ার পর ব্রিটিশ নিরাপত্তা সংস্থার পেছনে মাসে অন্তত ১০ লাখ টাকা গুনতে হবে বাংলাদেশকে। দক্ষিণখানের কাওলা এলাকায় তাদের জন্য বাসাও বরাদ্দ দেওয়া হবে। বিমানবন্দরের বাইরে সংস্থার প্রত্যেক সদস্যকে দেওয়া হবে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘২০ মার্চের মধ্যে ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে সব কিছু চূড়ান্ত হবে বলে আশা করছি। ইতিমধ্যে ব্রিটিশ নিরাপত্তা সংস্থার সদস্যরা বাংলাদেশে এসেছেন। কোন সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে চলতি মাসেই ব্রিটিশ সংস্থার হাতে নিরাপত্তার দায়িত্ব তুলে দেওয়া হবে। ’ আর তার আগেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে বলে তিনি আশাবাদী।

বেবিচক সূত্র জানায়, গত ৮ মার্চ যুক্তরাজ্য নিষেধাজ্ঞা জারি করার পর সরকারের নীতিনির্ধারকরা ইতিমধ্যে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন। ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সঙ্গে বিশেষ বৈঠক হয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গেও ব্রিটিশ হাইকমিশনারের বৈঠক হয়েছে। এসব বৈঠকে শাহজালালের কার্গোসহ অন্যান্য স্থানের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে স্ক্যানিং মেশিন নিয়ে বেশি প্রশ্ন তোলে যুক্তরাজ্য। কার্গো শাখার নিরাপত্তার দায়িত্ব ব্রিটিশ হাইকমিশনার তাঁর দেশের বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থাকে নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তাব দেন। এ ক্ষেত্রে তিনি যুক্তরাজ্যের বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থা জিএসএ, রেড লাইন অ্যান্ড কন্ট্রোল রিস্কস, রেসট্রাটা পিলগ্রিমস গ্রুপ অ্যান্ড অ্যাডাম স্মিথ ইন্টারন্যাশনাল এবং ওয়েস্ট মিনস্টার এভিয়েশন সিকিউরিটি সার্ভিসের নাম প্রস্তাব করেন। সরকার তা আমলে নিয়ে আলোচনায় বসার আগ্রহ দেখায়। এ বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির প্রধান করা হয় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রীকে। ২০ মার্চ এ কমিটির বৈঠকে বসার কথা রয়েছে।

সূত্র জানায়, মঙ্গলবার রাতে রেড লাইন অ্যান্ড কন্ট্রোল রিস্কস কম্পানি ও রেসট্রাটা পিলগ্রিমস গ্রুপ অ্যান্ড অ্যাডাম স্মিথ ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি কম্পানির ১০ সদস্য শাহজালালে আসেন। তাঁদের অভ্যর্থনা জানান বেবিচকের সদস্য (অপারেশন) এয়ার কমোডর মোস্তাফিজুর রহমান। গতকাল দুপুরে ঢাকায় আসেন জিএসএ কম্পানির দুই সদস্য। গতকাল সকালে তাঁরা বেবিচকের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে তাঁরা যান শাহজালালের কার্গো শাখায়, সেখান থেকে যান টার্মিনাল ভবনে। নিরাপত্তা সংস্থার সদস্যরা বেবিচক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গেও কথা বলেন। তাঁরা নিরাপত্তার দুর্বলতার জায়গাগুলো চিহ্নিত করার চেষ্টা করেন। স্ক্যানিং মেশিনগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। কার্গো শাখার বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখেন। তাঁরা বাংলাদেশ সফররত যুক্তরাজ্যের নিরাপত্তা বিশ্লেষক ডিনেসও সুলেভানের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেবিচকের এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, ২০ মার্চের মধ্যেই ব্রিটিশ নিরাপত্তা সংস্থার বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হবে। ২৬ মার্চ থেকে তাদের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। আলোচিত চার সংস্থার মধ্যে রেড লাইন অ্যান্ড কন্ট্রোল রিস্কস কম্পানিকে সবার ওপরে রাখা হয়েছে। শাহজালালে স্ক্যানিং মেশিন অপারেটরদের প্রশিক্ষণসহ নিরাপত্তাসংক্রান্ত একটি প্রকল্পে কাজ করছে সংস্থাটি। ইতিমধ্যে তাদের মাধ্যমে ৩০ জন স্ক্যানিং মেশিন অপারেটর প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। তবে শেষ পর্যন্ত যে সংস্থাই নিয়োগ পাক, তাদের পেছনে মাসে প্রায় ১০ লাখ টাকা খরচ হতে পারে। কাওলা এলাকায় তাদের জন্য বাসা বরাদ্দ দেওয়া হবে। শাহজালালের বাইরে গেলে তাদের নিরাপত্তাও দেওয়া হবে।


মন্তব্য