kalerkantho


মিয়ানমারে বেসামরিক শাসনের সূচনা

সু চির বন্ধু তিন কিয়াও প্রেসিডেন্ট

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৬ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



সু চির বন্ধু তিন কিয়াও প্রেসিডেন্ট

মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চির ঘনিষ্ঠ বন্ধু তিন কিয়াও প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। এর মধ্যে দিয়ে পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পর কোনো বেসামরিক ব্যক্তি দেশটির শীর্ষ ক্ষমতায় বসতে যাচ্ছেন। মিয়ানমারের পার্লামেন্ট গতকাল মঙ্গলবার ৩৬০ ভোটে তাঁকে নির্বাচিত করে। মোট ভোট ছিল ৬৫২টি।

সু চির দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে তিন কিয়াওয়ের (৬৯) নাম ঘোষণা করার পরপরই তাঁর জয় অনেকটা নিশ্চিত হয়ে যায়। গত হেমন্তে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে এনএলডি পার্লামেন্টের দুই কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। মিয়ানমারের নবম প্রেসিডেন্ট হিসেবে আগামী ৩০ মার্চ তিনি শপথ নেবেন এবং কাজ শুরু করবেন ১ এপ্রিল। বর্তমান প্রেসিডেন্ট থেইন সেইনের স্থলাভিষিক্ত হবেন তিনি।

ভোটাভুটির পর পার্লামেন্ট থেকে বের হয়ে তিন কিয়াও সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই জয় বোন অং সান সু চির বিজয়। মানুষের শুভকামনা আর ভালোবাসার ফল এটি। ’ মিয়ানমারে ১৯৬২ সালের পর তিনিই প্রথম বেসামরিক প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে সু চি প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেননি। মিয়ানমারের সংবিধানে বলা হয়েছে, পরিবারের কেউ বিদেশি নাগরিক হলে এই পদে প্রার্থিতা করা যাবে না। সু চির স্বামী এবং দুই ছেলে ব্রিটিশ পাসপোর্টধারী।

যদিও সু চি আগেই জানিয়ে রেখেছেন যে তিনি প্রেসিডেন্টের পদের ঊর্ধ্বে থাকবেন। প্রেসিডেন্ট হিসেবে যাঁরই মুখ দেখা যাক না কেন, সিদ্ধান্ত তাঁরই হবে। তিনি গত সোমবার তাঁর দলীয় আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমি জনগণকে খুশি দেখতে চাই। খুব সাধারণ একটি লক্ষ্য ছিল এটা; অথচ অর্জন করতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। ’ সামরিক বাহিনী সরকারের ওপর থেকে নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই কমিয়ে আনলেও গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলো এখনো তাদের দখলে। প্রতিরক্ষা, স্বরাষ্ট্র, সীমান্তের মতো দপ্তরগুলো তারা চালায়। পার্লামেন্টের দুই কক্ষের এক-চতুর্থাংশ আসনও তাদের। ফলে সামরিক বাহিনীর অনুমোদন ছাড়া সংবিধানে কোনো সংশোধন সম্ভব নয়।

নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট তিন কিয়াও নোবেল বিজয়ী সু চির স্কুলের সহপাঠী ছিলেন। সেই সময় থেকেই তাঁদের বন্ধুত্ব, যা অটুট আছে আজও। গৃহবন্দিত্ব থেকে সু চির মুক্তি পাওয়ার পর কিওয়াওকে মাঝেমধ্যেই নেতার গাড়ির চালকের দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। পারিবারিকভাবেও কিয়াও এনএলডির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত।

গতকালের ভোটাভুটিতে দ্বিতীয় হয়েছেন সেনাবাহিনীর পছন্দের প্রার্থী মিন্ত সয়ে। তিনি ২১৩ ভোট পেয়েছেন। সামরিক জান্তা নেতা থান শোয়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এই নেতা কট্টরপন্থী হিসেবে পরিচিত। তিনি প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। আর তৃতীয় হয়েছেন হেনরি ভ্যান। তিনি পেয়েছেন ৭৯ ভোট। তিনি হবেন দ্বিতীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট।

গত হেমন্তে নির্বাচনের পর দীর্ঘ সময় ধরে সু চিসহ এনএলডির নেতারা সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা চালান। তবে সময় আসার পর তিন কিয়াওকে প্রার্থী ঘোষণা করা হলে স্পষ্ট হয়ে যায় যে তাঁদের আলোচনা ফলপ্রসূ হয়নি। এই পুরো সময় গণমাধ্যমকে এড়িয়ে চলেন সু চি।

তিন কিয়াও এবং সু চিকে এখন লম্বা, কঠিন ও জটিল পথ পাড়ি দিতে হবে। দারিদ্র্যই মিয়ানমারের প্রধান চ্যালেঞ্জ। যদিও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহরের পর ব্যাপক বিদেশি বিনিয়োগ হচ্ছে দেশটিতে। এ ছাড়া নানা জাতিগোষ্ঠীর বিদ্রোহও দেশটিকে সংকটে রেখেছে। সম্প্রতি বিভিন্ন বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে শান্তিচুক্তি সই হলেও কাঙ্ক্ষিত শান্তি ফেরেনি। সূত্র : বিবিসি, এএফপি, নিউ ইয়র্ক টাইমস।


মন্তব্য