kalerkantho


উৎসব

ঢাবিতে বসন্ত-আয়োজন

রফিকুল ইসলাম   

১৬ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ঢাবিতে বসন্ত-আয়োজন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গতকাল বসন্ত উৎসবে বের হয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। ছবি : কালের কণ্ঠ

ফাগুন শেষে শুরু হয়ে গেছে চৈত্র। ঋতুরাজ বসন্তের শেষার্ধের শুরুতেই প্রখর রোদে পুড়তে শুরু করেছে চারদিক। বিশেষত রাজধানী ঢাকায় গ্রীষ্মের দাপট শুরু হয়ে গেছে। তবু তো কাগজে-কলমে হলেও বসন্ত আজও জাগ্রত দ্বারে। এমনই আবহে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আবারও বরিত হলো বসন্ত। আর একে উপলক্ষ করে আয়োজিত উৎসবে আবারও মাতল নগরবাসী।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কালচারাল সোসাইটির উদ্যোগে গতকাল মঙ্গলবার প্রশাসনিক ভবনসংলগ্ন মল চত্বরে আয়োজন করা হয় বসন্ত উৎসবের। এই আয়োজনে নারীরা অংশ নেন বাসন্তী রঙের শাড়ি পরে। পুরুষদের পরনে ছিল যথারীতি পায়জামা-পাঞ্জাবি। কেউ বা শরীরে জড়িয়েছেন লাল-সবুজ পোশাক।

উৎসবের জমজমাট মেলায় ছিল নাগরদোলা, ফুড কর্নার, চটপটি, ফুচকা, হাওয়াই মিঠাই, নানা ধরনের পিঠা, বায়োস্কোপ, বানর খেলা, ফরচুন টেলার, ক্যারিকেচার ড্রয়িং, সাপের খেলা, মাটির তৈরি বিভিন্ন জিনিস, মেয়েদের চুড়ি ও মেহেদি কর্নার। আগতরা লাইনে দাঁড়িয়ে নাগরদোলায় উঠেছে। কলকাকলিতে চারপাশ ভরিয়ে তুলেছে শিশুরা। সব মিলিয়ে নগরের এই আয়োজনে ছিল গ্রামীণ মেলার আবহ।

উৎসবে একক স্পন্সর ছিল বসুন্ধরা মোনালিসা উইমেন্স ক্লাব। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে উৎসবে আগত মেয়েদের হাতে তুলে দেওয়া হয় একটি করে মোনালিসা স্যানিটারি ন্যাপকিনের ট্রাভেল প্যাক। একই সঙ্গে তাদের উইমেন্স ক্লাবের ফ্রি সদস্য করা হয়।

উদ্বোধনী সংগীত ও আলোচনা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উৎসবের শুরু হয় সকাল সোয়া ১১টায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা পর্বে নাট্যব্যক্তিত্ব আলী যাকের, শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকি, বসুন্ধরা পেপার মিলসের হেড অব ব্র্যান্ড সেলিম উল্লাহ (ব্র্যান্ড বিভাগ, পেপার শাখা) ও কালচারাল সোসাইটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এরপর বেলুন উড়িয়ে উৎসবের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী পর্বের পর বের হয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা।

মধ্যাহ্ন বিরতির পর বিকেল সাড়ে ৩টায় শুরু হয় উৎসবের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্ব—সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এই পর্বে রাত ৯টা পর্যন্ত পরিবেশিত হয় ভাওয়াইয়া, ভাটিয়ালি, গম্ভীরা, গীতিনাট্য, নকশিকাঁথার মাঠের মঞ্চায়ন, মঞ্চনাটক, পুঁথি পাঠ, জারি গান ও আবৃত্তি। গ্রামীণ সংস্কৃতির পাশাপাশি কিরণ চন্দ্র রায়, বাপ্পা মজুমদার ও জলের গানের পরিবেশনাও ছিল। রাতে ফানুস উড়িয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি টানা হয়।

আলোচনা অনুষ্ঠানে মার্চ মাসের তাৎপর্য ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করে উপাচার্য আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধে বড় শক্তি ছিল সংস্কৃতি। এই সংস্কৃতির উজ্জীবনী শক্তিতে বলীয়ান হয়ে দেশের মানুষ একত্রিত হয়ে যুদ্ধ করেছে। ত্রিশ লাখ শহীদ জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন। সংস্কৃতিই আমাদের শক্তি। ’ তিনি বলেন, ১৯৫২ সালে অক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন মানুষের সংখ্যা খুব কম থাকলেও ভাষার প্রশ্নে মানুষ জীবন দিয়েছে।

লিয়াকত আলী লাকি তাঁর বক্তব্যে জঙ্গিবাদ রুখে দিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে সাংস্কৃতিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি মানবিক মূল্যবোধের দেশ। এই দেশ জঙ্গিবাদের নয়। দেশকে এগিয়ে নিতে সাংস্কৃতিক আন্দোলনই একমাত্র পথ। দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকে ভাইরাস আখ্যা দিয়ে সেসব প্রতিরোধে সংস্কৃতি তথা সাংস্কৃতিক আন্দোলনকে সফটওয়্যার হিসেবে ব্যবহার করার আহ্বান জানান তিনি।

বসন্ত উৎসব আয়োজনের এই উদ্যোগের প্রশংসা করে আলী যাকের বলেন, ঋতুভিত্তিক উৎসব উদ্যাপন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা এ ধরনের উৎসবের মধ্য দিয়ে সব ধর্মের মানুষের সঙ্গে মেলবন্ধন ঘটে। একই সঙ্গে তা সাম্প্রদায়িকতা থেকে সবাইকে দূরে রাখতে সাহায্য করে।


মন্তব্য