kalerkantho

25th march banner

ভারতের পরামর্শ নেবে বাংলাদেশ

সরোয়ার আলম   

১৬ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ভারতের পরামর্শ নেবে বাংলাদেশ

ঢাকা থেকে বিমানযোগে সরাসরি পণ্য পরিবহনে যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে নতুন করে আরো কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাশাপাশি চট্টগ্রামের শাহ আমানত ও সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তাও জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে নিরাপত্তা জোরদারে ভারতের সিভিল এভিয়েশনের পরামর্শ নিতে যাচ্ছে বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (সিএএবি)। এ জন্য কয়েক দিনের মধ্যেই সিএএবির তিন কর্মকর্তার ভারতে যাওয়া কথা রয়েছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশে আসা ব্রিটিশ নিরাপত্তা পর্যবেক্ষক দল গতকাল মঙ্গলবার শাহজালালের রানওয়েসহ বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থান পরিদর্শন করেছে। আজ বুধবার তাদের দেশে ফেরার কথা রয়েছে। বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় জড়িত ব্রিটেনের একটি বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিদের আজ ঢাকায় আসার কথা রয়েছে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, বিমানবন্দরের নিরাপত্তার জন্য যা দরকার তা-ই করা হচ্ছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া চিঠির জবাবে প্রধানমন্ত্রী বিস্তারিত উল্লেখ করেছেন। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে যুক্তরাজ্যকে বিশেষভাবে অনুরোধও করেছেন তিনি। ২০ মার্চের মধ্যে ব্রিটিশ নিরাপত্তা সংস্থার নিয়োগ চূড়ান্ত করা হবে। বিদেশি সংস্থা এলে আমাদের নিরাপত্তা বাহিনীর কোনো সমস্যা হবে না। আশা করি যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া তাদের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গতকাল দুপুরে যুক্তরাজ্যের প্রতিনিধিদল শাহজালালে বিভিন্ন স্তরে নিরাপত্তার বিষয় নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ও সিএএবি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে। পরে তারা উড়োজাহাজগুলো পর্যবেক্ষণ করে। নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও সিসি-৩ অডিটর ডিনেসও সুলেভান কার্গো শাখার কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলেন।

সূত্র জানায়, ডিনেসও সুলেভান বাংলাদেশে এসে নিরাপত্তা বিষয়ে কাজ করেছেন। তিনি ব্রিটিশ এভিয়েশনের একজন দক্ষ কর্মকর্তাও। এ প্রসঙ্গে বিমানের এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শাহজালালের নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণের সময় ডিনেসও আমাদের জানিয়েছেন, এ দেশে যথাযথ আইন রয়েছে, নিরাপত্তাও বেশ ভালো। তবে বিমানবন্দরের স্ক্যানিং মেশিনগুলোর অবস্থা আরো ভালো হতে হবে। আমাদের কাছে তথ্য আছে, বাংলাদেশ থেকে পণ্যের মাধ্যমে অস্ত্র ও মাদক যায় লন্ডনে। যার ফলে যুক্তরাজ্য সরকার এতটা কঠোর হয়েছে। আমিও চাই নিষেধাজ্ঞা  প্রত্যাহার হোক। ’

ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, ২০ মার্চের মধ্যেই ব্রিটিশ বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত করা হবে। ব্রিটেনের চারটি বেসরকারি সংস্থার মধ্য থেকে একটিকে নিয়োগ দেওয়া হবে। তাদের মধ্যে একটি সংস্থার প্রতিনিধিদের আজ বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে।

জানা যায়, সন্ত্রাসবাদ দমন ও বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিয়ে চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফরে আসবে। এর মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনার জন্য মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সাইবার-বিষয়ক উপসমন্বয়কারী টমাস ডিউকসের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করবে ২২ ও ২৩ মার্চ। বেসামরিক নিরাপত্তা, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার-বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি সারাহ সিউয়ালের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল ২৯ মার্চ থেকে ১ এপ্রিল এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অ্যালেন বারসিনের নেতৃত্বে আরেকটি প্রতিনিধিদল ৩০ ও ৩১ মার্চ বাংলাদেশ সফর করবে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টের প্রতিনিধিদলটির মূল কাজ হবে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা তদারকি করা।

নিরাপত্তার অংশ হিসেবে গতকাল শাহজালালে বিভিন্ন স্থানে টাঙানো ৫২টি দানবাক্স উচ্ছেদ করা হয়েছে। এ ছাড়া টার্মিনাল-১ ও টার্মিনাল-২-এর সামনে বেসরকারি গাড়ি রাখার ব্যবস্থাও বন্ধ করে দেওয়ার পরিকল্পনা হয়েছে। পুলিশ-র‌্যাবসহ গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা সাদা পোশাকে শাহজালালে নজরদারি করছেন। কাউকে সন্দেহ হলেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

এদিকে সূত্র জানায়, সিএএবির চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল সানাউল হক ও বিমান সচিব খোরশেদ আলম চৌধুরীকে সরিয়ে দেওয়ায় সিএএবি ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে বদলি আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে একই জায়গায় চাকরি করছেন তাঁদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তালিকায় অন্তত অর্ধশত কর্মকর্তার নাম রয়েছে। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ একবারও ঢাকার বাইরে চাকরি করেননি।

জানা গেছে, কার্গো শাখাকে ঢেলে সাজানো হবে। যেসব কর্মকর্তা বা কর্মচারী তিন বছরের বেশি সময় ধরে দায়িত্ব পালন করে আসছেন তাঁদের বদলি করা হবে।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিএএবির এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, সবার মধ্যে বদলি আতঙ্ক আছে। বড় স্যাররাই তো রক্ষা পাচ্ছেন না।


মন্তব্য