kalerkantho


জাসদের দুই পক্ষের সমঝোতার সম্ভাবনা

আজ ইনুর বাসায় যাবেন মধ্যস্থতাকারীরা

তৈমুর ফারুক তুষার   

১৫ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



জাসদের দুই পক্ষের সমঝোতার সম্ভাবনা

সদ্য ভেঙে যাওয়া জাসদকে ঐক্যবদ্ধ করতে জোর তৎপরতা শুরু হয়েছে। জাসদের গত কমিটির উপদেষ্টা পরিষদের দুই সদস্যসহ পাঁচ-ছয়জন নেতা দুই পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করছেন।

তাঁরা গত রবিবার শরিফ নুরুল আম্বিয়ার নেতৃত্বাধীন অংশের সঙ্গে কথা বলেছেন। আজ মঙ্গলবার সকালে তাঁরা হাসানুল হক ইনুর সঙ্গে দেখা করবেন। এ সময় তাঁরা একটি সমঝোতা প্রস্তাব দেবেন। এতে ইনুর সায় মিললে জাসদের ঐক্যপ্রক্রিয়া সফলতার মুখ দেখবে।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, জাসদ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও জাসদের উপদেষ্টা প্রকৌশলী মনিরউদ্দিন আহমেদ, জাসদের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. মোয়াজ্জেম হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা আমেনা সুলতানা বকুল ও আরো দুই নেতা জাসদকে ঐক্যবদ্ধ করতে কাজ করছেন। তাঁরা গত রবিবার সংসদ ভবনে জাসদের (আম্বিয়া) কার্যকরী সভাপতি মঈন উদ্দীন খান বাদলের কার্যালয়ে বৈঠক করেন। এ পরিপ্রেক্ষিতে তাঁরা কিছু সুপারিশ নিয়ে আজ সকালে ইনুর সরকারি বাসভবনে গিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলবেন। আজকের বৈঠকের সিদ্ধান্তের ওপর তা নির্ভর করবে ঐক্য হবে কি না। আজ সমঝোতা না হলে আগামীকাল এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আম্বিয়ার নেতৃত্বাধীন অংশ পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করবে।

তখন দুই পক্ষকে এক করা অনেক কঠিন হয়ে উঠবে।

জানতে চাইলে প্রকৌশলী মনিরউদ্দিন আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা দুই পক্ষকে এক করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আম্বিয়ার নেতৃত্বাধীন অংশের সঙ্গে কথা বলেছি। আগামীকাল (মঙ্গলবার) সকালে হাসানুল হক ইনুর সঙ্গে বসব। সংকট সমাধানে আমরা একটি প্রস্তাব ঠিক করেছি। আমাদের মনে হয়েছে আম্বিয়ার নেতৃত্বাধীন অংশ এ প্রস্তাব মানবে। এখন দেখা যাক আরেক পক্ষ কী বলে। ’

এদিকে দুই পক্ষকে এক হতে নিজ বাসায় আলোচনায় বসার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন জাসদের সংসদ সদস্য লুত্ফা তাহের। গতকাল সোমবার ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আমরা নিশ্চয়ই প্রগতির পথে এগোতে চাই, তার জন্য প্রয়োজন আমাদের সম্মিলিত শক্তি, বিভক্ত দুর্বলতা নয়। সেই লক্ষ্যে আমি সকল জাসদ নেতৃবৃন্দের আহ্বান জানাই একটি বৈঠকে মিলিত হওয়ার জন্য। ’ তিনি বলেন, ‘আমার বিনীত অনুরোধ, আমরা পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সম্মানের সঙ্গে আমার বাসায় মিলিত হয়ে একটি সমাধান উদ্ভব করি। সম্মিলিতভাবে আমরা সফল হবই। আমাদের সফল হতেই হবে। ’

ঐক্যের প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শরিফ নুরুল আম্বিয়া বলেন, ‘জাসদের কাউন্সিলে ঐকমত্যের ভিত্তিতে রাজনৈতিক সেশনে সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ছাড়া সভাপতি নির্বাচনও ঐকমত্যের ভিত্তিতে হয়েছে। কিন্তু সাধারণ সম্পাদক নির্বাচন বিধিসম্মতভাবে হয়নি। সাধারণ সম্পাদক পদে পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিলে সংকট সমাধানের পথ উন্মুক্ত হতে পারে। তবে সে ক্ষেত্রে কোনো চালাকি করা চলবে না। ’ 

দলীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, ইনুর নেতৃত্বাধীন অংশের নেতারাও সমঝোতা চাইছেন। তবে একটি অংশ সাধারণ সম্পাদক পদে শিরিন আখতারকে রেখে সমঝোতা চায়। তারা এ ক্ষেত্রে আম্বিয়াসহ তাঁর নেতৃত্বাধীন অংশের নেতা মোশতাক হোসেন ও নাজমুল হক প্রধানকে স্থায়ী কমিটির সদস্য করতে চায়। তবে মঈন উদ্দীন খান বাদলকে কমিটিতে রাখতে সায় নেই তাদের।

ইনুর নেতৃত্বাধীন অংশের একাধিক নেতা জানান, আম্বিয়ার নেতৃত্বাধীন অংশের অনেক নেতাই ইনুর পক্ষে আসবেন। এরই মধ্যে জাসদ সমর্থক ছাত্রলীগ ইনুর প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। যদিও তারা শনিবার আম্বিয়ার অংশকে সমর্থন দিয়েছিল।

অন্য একটি সূত্রের দাবি, ইনু-আম্বিয়া ঐক্য হলেও জাসদে আরেক দফা ভাঙন ঠেকানো যাবে না। যদি ঐক্য হয়ও, কমিটিতে স্থান পাবেন না মঈন উদ্দীন খান বাদল। সে ক্ষেত্রে তিনি নিজের অনুসারীদের নিয়ে আরেকটি কমিটি গঠন করতে পারেন।

অবস্থান স্পষ্ট করেননি ২ সংসদ সদস্য : জাতীয় সংসদে জাসদের ছয়জন সংসদ সদস্য রয়েছেন। এঁদের মধ্যে হাসানুল হক ইনু ও শিরিন আখতার এক পক্ষে। অন্যদিকে মঈন উদ্দীন খান বাদল ও নাজমুল হক প্রধান একসঙ্গে রয়েছেন। কিন্তু রেজাউল করিম তানসেন ও লুত্ফা তাহের এখনো নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেননি। পাল্টাপাল্টি কমিটি ঘোষণার পর থেকেই তানসেন ও লুত্ফা দুই পক্ষের কারো কর্মসূচিতেই উপস্থিত হচ্ছেন না। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওই দুই সংসদ সদস্য কোনো মন্তব্য করতেই রাজি হননি।

দলীয় কার্যালয়ের মালিকানা নিয়ে সমস্যা হবে : বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়টি দলের চার নেতা কাজী আরেফ আহমেদ, হাসানুল হক ইনু, শরিফ নুরুল আম্বিয়া ও আবদুল কাদের হাওলাদারের নামে রয়েছে। এঁদের মধ্যে প্রয়াত কাজী আরেফ আহমেদের স্ত্রীর সঙ্গে বিরোধ রয়েছে ইনুর। আর শরিফ নুরুল আম্বিয়া ও কাদের হাওলাদার এক পক্ষে রয়েছেন। ফলে দুই পক্ষের ঐক্য না হলে এবং মালিকানার বিষয়টি আদালতে গড়ালে ইনু নেতৃত্বাধীন অংশের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ওপর একক মালিকানা ধরে রাখা কঠিন হবে।  


মন্তব্য