kalerkantho


মইনুল হোসেনের মন্তব্যে আওয়ামী লীগে ক্ষোভ

আরিফুজ্জামান তুহিন   

১৫ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



মইনুল হোসেনের মন্তব্যে আওয়ামী লীগে ক্ষোভ

মইনুল হোসেন

দ্য নিউ নেশন পত্রিকার প্রকাশক ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের বক্তব্যে ক্ষুব্ধ আওয়ামী লীগের নেতারা। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি এক টক শোতে তিনি পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ড বিষয়ে আপত্তিকর নানা মন্তব্য করেন।

বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন বাংলাভিশনের টক শোতে ব্যারিস্টার মইনুল বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর মৃত্যু হয়েছে। রাস্তায় রাস্তায় কান্নাকাটি করলে হবে না। সুযোগটা কিভাবে সৃষ্টি হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর আমি কষ্ট পেয়েছি। শুক্রবার ছিল। আমি গাড়িতে একা বের হই। আমি কল্পনাও করতে পারিনি, বঙ্গবন্ধু মারা যাবেন। অথচ একটা মারামারি, কাটাকাটি হবে না? আমি একা। রাস্তা সব ঠাণ্ডা। আমি বাসায় গিয়ে স্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করলাম, যদি ভুল করে না থাকি, মনে হলো-স্বস্তির ভাব। ’

ওই টক শোতে আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ-খালেক) সাধারণ সম্পাদক কমরেড খালেকুজ্জামান, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক শ ম রেজাউল করিম, পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান সা’দত হুসাইন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার অন্যতম সংগঠক ও বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহযোদ্ধা তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার ছেলে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের এমন আপত্তিকর মন্তব্যে আওয়ামী লীগের অনেকেই ক্ষুব্ধ। দলের বেশ কয়েকজন শীর্ষ পর্যায়ের নেতা বলেন, ওয়ান-ইলেভেনের কুশীলব হিসেবে মইনুল হোসেন পরিচিত। বিগত সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তিনি ওই সরকারের তথ্য উপদেষ্টা ছিলেন। তখন ঢালাওভাবে রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের আটক ও তাঁদের বিকৃতভাবে গণমাধ্যমে উপস্থাপনে তাঁর ভূমিকা ছিল সবচেয়ে বেশি। কিন্তু তাঁকে নিয়ে তেমন একটি আলোচনা হয়নি কারণ—তিনি তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার ছেলে। বর্তমান সরকারের কাছ থেকেও তিনি সুবিধা পেয়ে আসছেন। তাঁর প্রকাশিত পত্রিকাটি খুব কম চললেও বছরে কোটি টাকার বেশি বিজ্ঞাপন পাচ্ছে।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নূহ-উল-আলম লেনিন বলেন, ‘মইনুল হোসেন মানিক মিয়ার ছেলে হলেও তিনি আওয়ামী লীগে এসে দলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। আসলে তিনি অপ্রকৃতিস্থ একজন মানুষ। সমাজে তাঁর কথার কোনো মূল্য আছে বলে আমি মনে করি না। ’

জানা গেছে, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন বিষয়ে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের বৈঠকে ওয়ান-ইলেভেনের কুশীলবদের তৎপরতা নিয়ে আলোচনা হয়। সে আলোচনায় মইনুল হোসেনের সাম্প্রতিক মন্তব্যের বিষয়টিও ওঠে। প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তাতে কেন্দ্রীয় নেতারা মুক্তিযুদ্ধে মইনুল হোসেনের ভূমিকা এবং ১৯৭৩ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাঁকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেওয়ার প্রেক্ষাপট নিয়ে কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী টক শোতে দেওয়া মইনুল হোসেনের বক্তব্য বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করলেও তিনি ১৯৭৩ সালের নির্বাচনে তাঁর মনোনয়ন পাওয়া বিষয়ে বলেন, ‘স্বাধীনতাযুদ্ধে বিতর্কিত ভূমিকা থাকায় ১৯৭৩ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মইনুল হোসেনকে মনোনয়ন দিতে চাননি বঙ্গবন্ধু। কিন্তু তাঁর (মইনুল হোসেন) মায়ের অনুরোধে বঙ্গবন্ধু শেষ পর্যন্ত তাঁকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেন। ’

রাজনীতিবিদদের বিষয়ে মইনুল হোসেনের বিষোদগার নতুন কিছু নয়। ২০০৭ সালে তাঁকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার থেকে বাদ দেওয়ার পর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও বিএনপি নেতাকর্মীদের অযোগ্য, অসৎ বলে মন্তব্য করেছিলেন তিনি। তিনি বলেছিলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন এমনই অযোগ্য যে তিনি গণতন্ত্র বানান করতেও পারবেন না। ’

টক শোতে দেওয়া বক্তব্য বিষয়ে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন সম্প্রতি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘শেখ সাহেব আমাকে ছেলের মতো দেখতেন। তবে আমি ঠিকই বলেছি। আমার ভাষা হয়তো ঠিক হয়নি। কিন্তু এটা তো ঠিক, তাঁর (বঙ্গবন্ধু) মৃত্যুর পর কেউ রাস্তায় নামেনি। এটা আমার কাছে আশ্চর্যজনক লেগেছে। খারাপও লেগেছে। ভেবেছিলাম, আন্দোলন হবে। কিন্তু হলো না। রাস্তায় কেউ বের হলো না। রাগ-ক্ষোভ দেখলাম না। আজকে যাঁরা বঙ্গবন্ধুর জন্য কান্নাকাটি করেন, ওই দিন তো তাঁদের কাউকে কান্নাকাটি করতে দেখিনি। এখন আমার বক্তব্য নিয়ে যে যার মতো যা খুশি ভাবুন, আমি বিতর্কে যাব না। ’


মন্তব্য