kalerkantho


বাংলাদেশ-ভারত কোস্টাল শিপ প্রটোকল

পণ্য নিয়ে আজ ভারতে যাচ্ছে প্রথম জাহাজ

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

১৫ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



পণ্য নিয়ে আজ ভারতে যাচ্ছে প্রথম জাহাজ

বাংলাদেশ-ভারত কোস্টাল শিপ প্রটোকল চুক্তির আওতায় পণ্যবাহী প্রথম জাহাজ ভারত যাচ্ছে। দেশে তৈরি হারবার-১ জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্য নিয়ে আজ মঙ্গলবার ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় বন্দর কৃঞ্চাপাটনামের উদ্দেশে রওনা দেবে। গত নভেম্বর দুই দেশের মধ্যে নৌ প্রটোকল চুক্তি সইয়ের পর এটিই প্রথম চালানবাহী জাহাজ।

এর আগে চুক্তির বাইরে বাণিজ্যিকভাবে রোদেলা জাহাজ চট্টগ্রাম-কলকাতা রুটে পণ্য পরিবহন করেছিল। কিন্তু পোষাতে না পেরে সাত মাসের মাথায় সেটি বন্ধ হয়ে যায়। প্রটোকলের আওতায় পণ্য পরিবহনে সময় ও অর্থ—দুটিরই সাশ্রয় হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এতে করে আরো অনেক জাহাজ এ রুটে চলাচলে উদ্বুদ্ধ হবে।

এ বিষয়ে নৌ প্রটোকল কমিটির সদস্য শেখ মাহফুজ হামিদ কালের কণ্ঠকে জানান, চুক্তির আওতায় পণ্য পরিবহনে দুই-তৃতীয়াংশ সময় ও অর্থের সাশ্রয় হবে। কারণ এ জাহাজগুলোকে দুই দেশের বন্দর কর্তৃপক্ষ বিদেশি জাহাজ হিসেবে গণ্য না করে স্থানীয় জাহাজ হিসেবে গণ্য করবে। এতে ভাড়াও হবে স্থানীয় জাহাজের মতো। ফলে বন্দর ভাড়ায়ও সাশ্রয় হবে প্রচুর।

জানা গেছে, সংসদ সদস্য নুর ই আলম চৌধুরীর পরিবারের মালিকানাধীন নিপা পরিবহন এই এমভি হারবার-১ দিয়ে পণ্য পরিবহন শুরু করতে যাচ্ছে। মঙ্গলবার সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম বন্দর থেকে জাহাজটি ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের কৃঞ্চাপাটনামের উদ্দেশে রওনা দেবে। হারবার-১ জাহাজটি চট্টগ্রামের ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ডে নির্মিত। জাহাজটি কনটেইনার ও খোলা পণ্য—দুই ধরনের পণ্যই পরিবহন করতে পারবে। এ জাহাজে সর্বোচ্চ ১৭০ একক কনটেইনার পরিবহন সম্ভব। এর আগে জাহাজটি চট্টগ্রাম-পানগাঁও নৌপথে পণ্য পরিবহন করেছিল।

শিপিং ব্যবসায়ীরা জানান, চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে কলকাতা বন্দরের দূরত্ব ৩৬১ নটিক্যাল মাইল। এ দূরত্ব ১০ নটিক্যাল গতিতে পাড়ি দিতে জাহাজের সময় লাগে দুই দিন। কিন্তু কলকাতার পণ্য শ্রীলঙ্কার কলম্বো বন্দর ঘুরে চট্টগ্রাম আসতে সময় লাগছে সাড়ে পাঁচ দিন। সরাসরি সার্ভিস না থাকায় প্রায় এক হাজার ৩০০ নটিক্যাল মাইল বাড়তি পাড়ি দিয়ে পণ্য বাংলাদেশে আনতে হচ্ছে।

এ সুযোগকে কাজে লাগাতে চট্টগ্রাম-কলকাতা রুটে ২০১৫ সালের মার্চে প্রথম কনটেইনার জাহাজ সার্ভিস চালু করে দেশীয় প্রতিষ্ঠান প্রান্তিক গ্রুপ। ১২০ একক কনটেইনার ধারণক্ষমতার জাহাজ ‘রোদেলা’ দিয়ে পণ্য পরিবহন শুরু হলেও সেপ্টেম্বরে সেটি বন্ধ হয়ে যায়। ৯টি ট্রিপ চালানোর অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রান্তিক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম সারোয়ার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ভারত থেকে আমদানি বেশি; কিন্তু রপ্তানি সেই তুলনায় ছিল না। ফলে পণ্য পরিবহনে ভারসাম্য ছিল না। এর চেয়েও বড় কারণ হচ্ছে আমরা প্রটোকলের বাইরে জাহাজ চালিয়েছিলাম। এতে প্রতিটি ট্রিপকে সমুদ্রগামী বিদেশি জাহাজের মতোই ভাড়া দিতে হয়েছে। এতে আমার লাভবান হইনি। তবে কোস্টাল প্রটোকলের আওতায় পণ্য পরিবহনে যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। ’

এ বিষয় মাথায় রেখেই ২০১৫ সালের নভেম্বরে দুই দেশের মধ্যে উপকূলীয় জাহাজ চলাচল চুক্তি স্বাক্ষর হয়। চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে ভারতের চারটি বন্দরের সরাসরি পণ্য পরিবহনের সুযোগ সৃষ্টি হয়। উপকূল ঘেঁষে মাঝারি মানের জাহাজ চলাচল করতে পারলে অনেক সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য পরিবহন করা যাবে।

এ বিষয়ে নৌপরিবহন সংসদীয় কমিটির সদস্য এম এ লতিফ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ভারতের সেভেন সিস্টারখ্যাত রাজ্যে বিপুল পরিমাণ কৃষি ও খনিজ পদার্থ রয়েছে। কৃষি পণ্যের মধ্যে আদা, হলুদসহ মসলাজাতীয় পণ্য এবং ফলমূলসহ নানা পণ্য অনেক কম খরচে বাংলাদেশে আসবে। এতে কম দামে ভোক্তারা এসব পণ্য পাবে। বর্তমানে অনেক বেশি দামে এগুলো আমরা চীন ও অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানি করছি। আর শিল্প-কারখানায় ব্যবহৃত বিপুল খনিজ পদার্থ সেখান থেকে কম দামে ও কম খরচে আমদানি করা সম্ভব হবে। ’

চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সভাপতি এম এ লতিফ বলেন, ‘দুই বন্দর ব্যবহারের ফলে জাহাজের ল্যান্ডিং চার্জ, পণ্য ওঠানামার মাসুল, নদী মাসুলসহ ট্রানজিট মাসুল পাব। এগুলো বন্দরের বাড়তি আয় হিসেবে যোগ হবে। ’

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, পশ্চিমবঙ্গের হালদিয়া, উড়িষ্যার প্যারাদ্বীপ এবং অন্ধ প্রদেশের বিশাখাপত্তনাম ও কৃঞ্চাপাটনামের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের সরাসরি জাহাজ চলাচল শুরু হলে দুই দেশই উপকৃত হবে। একই সঙ্গে ভারত চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করে আশুগঞ্জ ও রামগড় রুট দিয়ে সড়কপথে পণ্য পাশের সাত রাজ্যে সহজেই নিতে পারবে। বর্তমানে ভারতের মূল ভূখণ্ড থেকে এসব রাজ্যে পণ্য পরিবহনে বিপুল খরচ করে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে।


মন্তব্য