kalerkantho

শনিবার । ২১ জানুয়ারি ২০১৭ । ৮ মাঘ ১৪২৩। ২২ রবিউস সানি ১৪৩৮।


ইলেকট্রনিক পণ্যের আড়ালে সোনা পাচার

৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট প্রস্তুত আজ দাখিল হতে পারে

এস এম রানা, চট্টগ্রাম   

১৪ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট প্রস্তুত আজ দাখিল হতে পারে

চট্টগ্রামে ইলেকট্রনিক পণ্যের আড়ালে ২০ কিলোগ্রাম সোনা পাচারের ঘটনায় জড়িত সেই ‘ডোর টু ডোর’ কার্গো সার্ভিসের মালিক মো. জসিম উদ্দীন, ফরিদ আলমসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) প্রস্তুত করেছে পুলিশ। আজ সোমবার তা মহানগর হাকিম আদালতে দাখিল করা হতে পারে।

পুলিশ সূত্র জানায়, দুবাইসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে পণ্য পরিবহন করে বাংলাদেশে প্রাপকের ঠিকানায় পৌঁছে দিত ‘ডোর টু ডোর’ কার্গো সার্ভিস। পণ্য পরিবহনের কথা বলে ইলেকট্রনিক পণ্যের আড়ালে কৌশলে সোনার বার ও অলংকার পাচার করতেন প্রতিষ্ঠানটির মালিকসহ তাঁদের সহযোগীরা।

তদন্ত কর্মকর্তা এবং আরো কয়েকজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গত বছরের ৭ এপ্রিল রাত থেকে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত নগরীর সদরঘাট থানা পুলিশ পশ্চিম মাদারবাড়ী পুলিশ ফাঁড়ির পাশে ‘এসি মেলা’ নামের ইলেকট্রনিক পণ্যের একটি গুদামে অভিযান চালায়। অভিযানে প্রায় ১৪ কেজি ওজনের ১২০টি সোনার বার ও পাঁচ কেজি ৮০০ গ্রাম অলংকারসহ প্রায় ২০ কেজি সোনা উদ্ধার হয়। উদ্ধারকৃত সোনার মূল্য প্রায় ৯ কোটি টাকা। দুবাই থেকে ইলেকট্রনিক পণ্যের আড়ালে সেগুলো পাচার করে আনা হয়েছিল।

ওই ঘটনায় সদরঘাট থানায় দায়ের করা মামলার তদন্ত করেন নগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক কেশব চক্রবর্তী। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ইলেকট্রনিক পণ্যের আড়ালে সোনার বার ও গয়না পাচারের ঘটনায় ডোর টু ডোর কার্গো সার্ভিসের মালিক জসিম উদ্দিন, ফরিদ আলমসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র চূড়ান্ত করা হয়েছে। সোমবার (আজ) তা আদালতে দাখিল করা হতে পারে। ’

গোয়েন্দা পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মামলার এজাহারে সাতজনের নাম আছে। তদন্তে তথ্য-প্রমাণ পাওয়ায় পর আরো দুজনকে সংযুক্ত করা হয়। অভিযোগপত্রভুক্ত ৯ আসামির মধ্যে ডোর টু ডোর কার্গো সার্ভিসের মালিক মো. জসিম উদ্দিন ও ফরিদ আলম ছাড়াও জসিমের ভাই এমরান খান, ভবতোষ বিশ্বাস রানা, মো. গিয়াস উদ্দিন, মো. শোয়েব, মো. রুবেল, আবু তাহের ও মো. ফজলুল হকের নাম রয়েছে। তাঁদের মধ্যে অভিযানের দিনই ওই গুদামের ম্যানেজার মো. গিয়াস উদ্দিন টিটু (৩৫) ও কর্মচারী এমরান খানকে (২৭) গ্রেপ্তার করা হয়। পরে গ্রেপ্তার করা মো. শোয়েবকে। অন্যরা এখনো পলাতক রয়েছে।

অভিযানে অংশ নেওয়া সদরঘাট থানার তৎকালীন এসআই আনোয়ার হোসেন জানিয়েছিলেন, আনু মাঝির ঘাটে ওই গুদামের সামনে একটি লাল রঙের প্রাইভেট কারে চারটি কাগজের বড় বাক্স তোলা হচ্ছিল। বাক্সগুলোতে চোরাচালানের মালামাল আছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তিনি সেখানে অভিযান চালান। অভিযানে ওই সোনা উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সূত্র জানায়, তদন্তকালে তদন্তকারী কর্মকর্তা জেনেছেন, দুবাইভিত্তিক ‘ডোর টু ডোর’ কার্গো সার্ভিসের মালিক চট্টগ্রামের জসিম উদ্দিন ও ফরিদ আলম। তাঁরা ডোর টু ডোর কার্গো সার্ভিসের মাধ্যমে এসব চোরাই মাল দেশে আনছিলেন। ‘এসি মেলা’ প্রতিষ্ঠানটি জসিম ও ফরিদের যৌথ অংশীদারি প্রতিষ্ঠান। জসিম উদ্দিনের বাড়ি রাউজানের নোয়াপাড়ায়। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জসিমের ভাই এমরান ও গোফরান টিটু জানিয়েছেন, ডোর টু ডোর কার্গো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইলেকট্রনিক পণ্যের আড়ালে সোনা পাচার করা হয়।

পুলিশের কাছে গোফরান টিটুর দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ডোর টু ডোর কার্গো সার্ভিস দুবাইপ্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছ থেকে তাদের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী বুকিং নেয়। এসব পণ্য শিপিং লাইনে বাংলাদেশে পাঠানো হয়। কিন্তু গ্রাহকের পণ্যের পাশাপাশি ডোর টু ডোর কার্গোর সঙ্গে জড়িত লোকজন নিজেদের মালামালও পাঠিয়ে দিত। নির্ধারিত পণ্যগুলো বুঝে পাওয়ার পর সেগুলো ‘এসি মেলায়’ এনে খোলা হতো এবং সেখান থেকে পাচারের সোনাগুলো বের করে আনা হতো। কিছু মাল ওই অবস্থায়ই পরবর্তী গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া হতো।


মন্তব্য