kalerkantho


‘অবৈধ’ কমিটির ডাকে রাজধানীতে অটোরিকশা ধর্মঘট

সড়কমন্ত্রী বললেন, আইনের মধ্যে থাকতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



‘অবৈধ’ কমিটির ডাকে রাজধানীতে অটোরিকশা ধর্মঘট

সিএনজি অটোরিকশাচালকদের অনুমোদনহীন কমিটির ডাকা ধর্মঘটের কারণে গতকাল চরম দুর্ভোগে পড়ে রাজধানীবাসী। ছবি : কালের কণ্ঠ

চালকদের অনুমোদনহীন একটি কমিটির ডাকে গতকাল রবিবার সিএনজি চালিত অটোরিকশার ধর্মঘট ডেকে রাজধানীতে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের জেল-জরিমানা বন্ধ ও দৈনিক জমা কমানোসহ সাত দফা দাবিতে ঢাকা জেলা ফোর স্ট্রোক অটোরিকশা (সিএনজি) ড্রাইভার্স ইউনিয়ন নামের একটি সংগঠন এই ধর্মঘট আহ্বান করে।

স্থানে স্থানে তাদের হামলার মুখে চালকরা গ্যারেজ থেকে অটোরিকশা বের করতে পারেনি। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তাই অফিস-স্কুলগামীসহ যাত্রীদের দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে।

মিটারে চলাচল নিশ্চিত করতে গত ১ নভেম্বর থেকে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান জোরদার করে। এ যাবৎ প্রায় ৩০০ অটোরিকশা ডাম্পিংয়ে পাঠানো হয়েছে। বিভিন্ন অপরাধের জন্য জেল-জরিমানা করা হয়েছে দেড় শতাধিক চালককে। অভিযানের ফলে এই খাতে যখন শৃঙ্খলা ফিরতে শুরু করেছিল তখন এ ধর্মঘট পালন করা হয়েছে। তবে ধর্মঘট চলাকালে দুপুরে নিজ মন্ত্রণালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, তাদের (ধর্মঘটকারীদের) আইনের আওতার মধ্যে থাকতে হবে। সড়ক পরিবহন খাতের সমস্যা নিয়ে অনুষ্ঠিত সভায় তিনি এ কথা বলেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, নৌপরিবহনমন্ত্রী শাহজাহান খান, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গা, ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া।

জেল-জরিমানা বন্ধ করার পাশাপাশি কারাবন্দি সব অটোরিকশাচালকের মুক্তি, নির্ধারিত ৯০০ টাকা জমার ক্ষেত্রে শ্রমিক-স্বার্থ পুনর্বিবেচনা, পার্কিংয়ের ব্যবস্থা না করে ‘নো-পার্কিং’ মামলা না করা, গাড়ির ফিটনেসের ক্ষেত্রে ইকোনমিক লাইফের সীমা বাড়ানো, শ্রম আইন অনুসারে সব চালকের জন্য নিয়োগপত্র বা পরিচয়পত্রের ব্যবস্থা করা এবং নতুন পাঁচ হাজার সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকের মধ্যে বিতরণের দাবিতে ধর্মঘট ডাকে সংগঠনটি।

গতকাল সড়কমন্ত্রী বলেছেন, ‘তারা যে বিষয়টি উত্থাপন করছে তাদের তো আইনের মধ্যে চলতে হবে। ইচ্ছেমতো ভাড়া নিবে, যেখানে সেখানে পার্কিং করবে—এ ব্যাপারে জনস্বার্থে পুলিশকে এনফোর্সমেন্টে যেতে হবে। তাদের (চালকদের) স্বার্থও দেখতে হবে, তারা গরিব মানুষ গাড়ি চালায়। ’ সরকার নির্ধারিত দৈনিক জমা ৯০০ টাকার বেশি যাতে চালকদের কাছ থেকে নেওয়া না হয় তা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। নতুন পাঁচ হাজার অটোরিকশা চালকের মধ্যে বিতরণের দাবি বিবেচনার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতামত প্রয়োজন হবে এবং মতামত পেলেই আমরা ব্যবস্থা নেব। উচ্চ আদালতের নির্দেশও যথাযথভাবে পালন করা হবে। জমার ক্ষেত্রে মালিকরা ৯০০ টাকার বাইরে নেবেন না। ’

ধর্মঘট আহ্বানকারীরা সকাল থেকেই সাতরাস্তা, যাত্রাবাড়ী, মগবাজার রেলগেট, খিলগাঁও চৌরাস্তা, রামপুরা, নতুনবাজার, মিরপুর মাজার রোড, কাজীপাড়া, মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন স্থানে রাস্তায় নেমে চালকদের বাধা দেয়। তারা কোথাও কোথাও অটোরিকশায় ইটপাটকেল মারতে থাকে। একপর্যায়ে ভয়ে চালকরা তাদের অটেরিকশা গ্যারেজে নিয়ে যায়। সকাল থেকে ভিআইপি রোডসহ বড় সড়কে ঘুরে মাঝেমধ্যে অটোরিকশা চোখে পড়েছে। তবে অলিগলিতে অটোরিকশা ছিল সবচেয়ে কম। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে সিএনজি অটোরিকশার জন্য দেড় ঘণ্টা অপেক্ষার পর সাজেদা বেগম বলেন, ‘বাস নেই, অটোও নেই, বিপদে পড়েছি। ’ সকালে ফার্মগেটে বহুযাত্রী অটো না পেয়ে বাসে গাদাগাদি করে ছোটেন মতিঝিলসহ বিভিন্ন গন্তব্যে। বিভিন্ন সংগঠনের তথ্যানুসারে, প্রায় ১৩ হাজার অটোরিকশার মধ্যে গতকাল রাস্তায় ছিল মাত্র দেড় হাজার।  

জানা গেছে, ধর্মঘট আহ্বানকারী সংগঠনের কমিটি দুটি। এর একটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম, অন্যটির সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন রানা। ধর্মঘট ডাকতে হলে সাধারণ সদস্যদের ভোট নেওয়ার নিয়ম থাকলেও এ ক্ষেত্রে তা নেওয়া হয়নি। রেজিস্ট্রার্ড অব ট্রেড ইউনিয়ন, পুলিশ প্রশাসন ও শ্রম অধিদপ্তরে দাবি আদায়ের সময় বেঁধে দিয়ে পর পর তিনবার চিঠি দিতে হয়। কিন্তু তা-ও করা হয়নি। এসব অভিযোগ তুলে ধরে বাংলাদেশ অটোরিকশা অটো টেম্পো শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি মো. ইনসুর আলী কালের কণ্ঠকে বলেন, কোনো কমিটিরই অনুমোদন নেই। নিয়ম না মেনে হঠাৎ ধর্মঘট ডাকা হয়েছে।

ধর্মঘট আহ্বানকারী সংগঠনের একটি কমিটির স্বঘোষিত কার্যকরী সহসভাপতি মো. ফারুক চৌধুরী বলেন, ‘আমরা নির্বাচন করেছি। অন্য কমিটি নির্বাচন করেনি। আমাদের কমিটি বৈধ। ’ কমিটি অনুমোদন পেয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে ফোন কেটে দেন। অন্য কমিটির সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন রানা বলেন, ‘আমাদের কমিটির মেয়াদ দুই মাস বাকি আছে। আমাদের সংগঠন থেকে বহিষ্কৃতরা এ ধর্মঘট ডেকেছে। তার কোনো বৈধতা নেই। এতে চালক ও যাত্রীদের হয়রানি করা হয়েছে। নেতাগিরি পাকাপোক্ত করতে ধর্মঘট ডাকা হয়েছে। ’


মন্তব্য