kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৪ জানুয়ারি ২০১৭ । ১১ মাঘ ১৪২৩। ২৫ রবিউস সানি ১৪৩৮।


মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত মানেনি বিমান

আশরাফুল হক রাজীব   

১৪ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত মানেনি বিমান

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল শুধু এজিএম (বার্ষিক সাধারণ সভা) নিয়ে বোর্ড সভা করার জন্য। কিন্তু বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের এ সিদ্ধান্ত মানেনি এ মন্ত্রণালয়েরই অধীনস্থ সংস্থা বিমান।

সরকারি মালিকানাধীন কম্পানিটি এজিএমসহ মোট ১০টি বিষয়ে বোর্ড সভা করেছে। এর মধ্যে বড় অঙ্কের আর্থিক বিষয় সম্পর্কিত এজেন্ডাও ছিল। গত ৮ মার্চ বিমান পরিচালনা পর্ষদের এ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গত ৩১ ডিসেম্বর এয়ার মার্শাল (অবসরপ্রাপ্ত) জামাল উদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বাধীন বিমান পরিচালনা পর্ষদের মেয়াদ শেষ হয়। ওই সময়ের মধ্যেই কম্পানিটির অষ্টম বার্ষিক সাধারণ সভা করা বাধ্যতামূলক ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিমান এজিএম করতে পারেনি। পরে বিষয়টি আদালতে গড়ায়।

আদালত ৩১ মার্চের মধ্যে এজিএম করার নির্দেশ দেন। ৩১ ডিসেম্বরের পর থেকে বিমানে কার্যত কোনো বোর্ড নেই। এই সময়ে বোর্ড কোনো সভাও করতে পারেনি। কিন্তু আদালত যখন এজিএম করার নির্দেশ দেন তখন বোর্ড সভা ডাকার প্রয়োজন দেখা দেয়। কারণ এজিএম আহ্বান করবে বোর্ড। সেই সূত্রে বোর্ড সভা করার সুযোগ পেয়ে যান বোর্ড সদস্যরা।

আদালতের নির্দেশনা পেয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় থেকে বোর্ডকে শুধু এজিএমের তারিখ, সময়, ভেন্যু এবং এজেন্ডা নির্ধারণসংক্রান্ত বিষয়ে বোর্ড সভা করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এ-সংক্রান্ত নির্দেশনাটি গত ১ মার্চ মন্ত্রণালয় থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইওর কাছে পাঠানো হয়। মন্ত্রণালয়ের এ নির্দেশনা পাওয়ার পর বিপাকে পড়ে যায় বিমান ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। একদিকে ৩১ ডিসেম্বরের পর থেকে অকার্যকর বোর্ড চায় সব ধরনের ইস্যু নিয়ে বোর্ড সভা করার জন্য। অন্যদিকে মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি পাঠিয়ে শুধু এজিএম-সংক্রান্ত বিষয়ে বোর্ড সভা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিমানের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্ত্রণালয়ের কাছে চিঠি লিখে জানতে চান বোর্ড সভার এজেন্ডায় এজিএমের বাইরের কোনো বিষয় রাখা যাবে কি না। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয় শুধু এজিএম নিয়ে বোর্ড সভা করার জন্য। এর পরও বিমান বোর্ড সভার এজেন্ডায় এজিএম ছাড়াও আরো ৯টি বিষয় রাখে। এসব এজেন্ডাভুক্ত বিষয়ের মধ্যে ছিল আগের বোর্ড সভার কার্যপত্র অনুমোদন, এজিএমের তারিখ, সময়, ভেন্যু এবং এজেন্ডা নির্ধারণ, এজিএমের নোটিশ ইস্যু করা, বিমানের সাবেক বিদেশি এমডির সার্ভিস স্টেটাস, সোনালী ব্যাংক ইউকে শাখা থেকে ৭৩৭ এয়ারক্রাফট কেনার ঋণ গ্রহণ, বোয়িংয়ের ৭৮৭ মডেলের ডেলিভারি শিডিউল ত্বরান্বিত করা, ইজিপ্ট এয়ার থেকে ৭৭৭ মডেলের এয়ারক্রাফট লিজ গ্রহণ, এফএএ অডিট-সংক্রান্ত বিষয় নিষ্পত্তির জন্য একজন কনসালট্যান্ট নিয়োগ, গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ে বোর্ডের সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বিবিধ। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বোর্ডের সিদ্ধান্ত গ্রহণ এজেন্ডার আলোকে একাধিক বিষয় আলোচনায় জায়গা করে নেয়। এই এজেন্ডার আওতায় বোর্ড সভায় ২০১৬ সালের হজের জন্য ৪০০ সিটের এয়ারক্রাফট লিজ গ্রহণ, ভারতের রাজধানী দিল্লি এবং হংকংয়ে পুনরায় বিমানের ফ্লাইট চালু করা, চীনের গুয়াংজু, শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বো এবং মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে বিমানের ফ্লাইট চালু করার বিষয় ছিল। বিমানের সাংগঠনিক কাঠামো, নতুন বেতন স্কেল, বিভিন্ন স্টেশনের জন্য জরুরি ভিত্তিতে জনবল নিয়োগ, অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন স্টেশনের জন্য জনবল নিয়োগের ইস্যুও আলোচনায় স্থান পায়।

মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞার পর বিমান বোর্ড সভায় এজিএম ছাড়াও বিভিন্ন ইস্যু স্থান পায় কী করে জানতে চাইলে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন। গতকাল মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী কালের কণ্ঠের সঙ্গে বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে কথা বললেও বিমানের বোর্ড নিয়ে কোনো কথা বলেননি।

বিমান মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে জানান, গত ৩০ ডিসেম্বর ছিল বিমানের এজিএম। কিন্তু ২৭ ডিসেম্বর মন্ত্রণালয়কে কিছু না জানিয়ে এজিএম স্থগিত করে দেওয়া হয়। কেন এজিএম স্থগিত করা হলো—মন্ত্রী বিমানের কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চেয়েছেন। বিমানের কোনো কর্মকর্তা এ বিষয়ে মন্ত্রীকে কিছু জানাননি। বিমানের বোর্ড নিয়ে শুরু থেকে বিতর্ক রয়েছে। মন্ত্রী সংসদে অভিযোগ করেছেন বিমান নামে মাত্র কম্পানি হয়েছে। বিমানের দায় মন্ত্রণালয়ের ওপর পড়লেও এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয় কিছু জানে না বলে তিনি সংসদে অভিযোগ করেন।

সিভিল এভিয়েশনে নতুন চেয়ারম্যান

এদিকে গতকাল (রবিবার) সিভিল এভিয়েশন অথরিটির চেয়ারম্যান পদ থেকে এয়ার ভাইস মার্শাল এম সানাউল হককে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী পদায়নের জন্য তাঁকে বিমানবাহিনীতে ন্যস্ত করা হবে। সিভিল এভিয়েশনের চেয়ারম্যান পদে যোগ দেবেন এয়ার ভাইস মার্শাল এহসানুল গণি চৌধুরী। তিনি বর্তমানে বিমানবাহিনী ঘাঁটি জহুরুল হক চট্টগ্রামে কর্মরত।


মন্তব্য