পদের দ্বন্দ্বে ফের ভাঙল জাসদ-335373 | শেষের পাতা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

সোমবার । ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১১ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৩ জিলহজ ১৪৩৭


পদের দ্বন্দ্বে ফের ভাঙল জাসদ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



পদের দ্বন্দ্বে ফের ভাঙল জাসদ

সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়ে দ্বন্দ্বে ভাঙল ক্ষমতাসীন ১৪ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক জাসদ। গতকাল শনিবার দলটির দুই পক্ষ কেন্দ্রীয় দুটি কমিটি গঠনের ঘোষণা দেয়। এতে সংসদে থাকা তাদের ছয় এমপিও দুই পক্ষে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন।

একদিকে রয়েছেন সদ্য বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি হাসানুল হক ইনু ও স্থায়ী কমিটির সদস্য শিরীন আখতার। অন্য পক্ষে রয়েছেন বিলুপ্ত কমিটির সাধারণ সম্পাদক শরীফ নুরুল আম্বিয়া ও স্থায়ী কমিটির সদস্য নাজমুল হক প্রধান।

দলীয় সূত্র জানায়, গত শুক্রবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দলটির জাতীয় সম্মেলন উদ্বোধন হয়। গতকাল সকালে মহানগর নাট্যমঞ্চে কাউন্সিল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১১টায় রাজনৈতিক আলোচনার মধ্য দিয়ে অধিবেশন শুরু হয়। বিকেল ৩টায় মধ্যাহ্ন ভোজের বিরতি শেষে নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। অধিবেশনের শুরুতেই কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। এ সময় নির্বাচন কমিশন অধিবেশনের দায়িত্ব গ্রহণ করে। তিন সদস্যের কমিশনে ছিলেন সাবেক এমপি শাহ জিকরুল আহমেদ, অ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান শওকত ও মীর হোসেন আক্তার। প্রথমে সভাপতি পদে হাসানুল হক ইনুর নাম প্রস্তাব আসে। এ পদে আর কোনো প্রার্থী না থাকায় তিনি সভাপতি নির্বাচিত হন।

এর পরই সাধারণ সম্পাদকদের নাম প্রস্তাব করতে বলা হয়। এ পদে প্রথমে শিরীন আখতার এবং পরে নাজমুল হক প্রধানের নাম আসে। নাজমুল হকের নাম প্রস্তাব করার সঙ্গে তাঁর বিরোধীরা হইচই শুরু করেন। ওই সময় তিনি বক্তব্য দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলেও নির্বাচন কমিশন তাঁকে অনুমতি দেয়নি।

এর পরিপ্রেক্ষিতে জাসদের বিলুপ্ত কমিটির কার্যকরী সভাপতি ও সংসদ সদস্য মঈন উদ্দীন খান বাদল, শরীফ নুরুল আম্বিয়া ও নাজমুল হক প্রধান তাঁদের অনুসারীদের নিয়ে অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করেন। তাঁরা মিছিল করে জাতীয় প্রেসক্লাব চত্বরে আসেন। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে শরীফ নুরুল আম্বিয়াকে সভাপতি এবং নাজমুল হক প্রধানকে সাধারণ সম্পাদক করার প্রস্তাব করেন মঈন উদ্দীন খান বাদল। তখন উপস্থিত নেতাকর্মীরা তাতে সমর্থন দেন। সমাবেশ থেকেই তিন সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়। আম্বিয়াকে সভাপতি, নাজমুল হককে সাধারণ সম্পাদক এবং মঈন উদ্দীন খান বাদলকে কার্যকরী সভাপতি ঘোষণা করা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন সদ্য বিলুপ্ত স্থায়ী কমিটির সদস্য মোহাম্মদ খালেদ, ডাকসুর সাবেক জিএস ডা. মোশতাক হোসেন, ইন্দু নন্দন দত্ত, আবু মোহাম্মদ হাশেম, সাংগঠনিক সম্পাদক করিম শিকদার, আবুল কালাম আজাদ বাদল, জাসদ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হোসাইন আহমেদ তফছির প্রমুখ।

এদিকে মহানগর নাট্যমঞ্চ থেকে এক পক্ষ বেরিয়ে এলেও গতকাল রাত ১টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সাধারণ সম্পাদক পদে ভোটগ্রহণ চলছিল।

১৯৭২ সালের ৩১ অক্টোবর জাসদ গঠিত হয়। বিভিন্ন বিতর্ককে কেন্দ্র করে ১৯৮০ সালে প্রথম জাসদ ভাঙনের কবলে পড়ে। জাসদ থেকে বেরিয়ে একদল নেতা বাসদ গড়ে তোলেন। ১৯৮৬ সালে কাজী আরেফ ও হাসানুল হক ইনুর নেতৃত্বে জাসদ পুনর্গঠনকেন্দ্র গড়ে ওঠে, যা পরে জাসদ (ইনু) হিসেবে পরিচিতি পায়। ১৯৮৮ সালে জাসদ আবার ভেঙে সাত ভাগে বিভক্ত হয়। ১৯৯৭ সালে জাসদ (রব), জাসদ (ইনু) ও বাসদের (মাহবুব) একাংশ মঈন উদ্দীন খান বাদলের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হয়। ২০০২ সালে আ স ম রবের নেতৃত্বে কিছু নেতা জেএসডি নামে জাসদের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। আর ২০০৪ সালে থেকে হাসানুল হক ইনুর নেতৃত্বে জাসদ ১৪ দলের শরিক হয়।

মন্তব্য