অভিযুক্তদের বিচার না হলে নিষিদ্ধ হবে-335347 | শেষের পাতা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

রবিবার । ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১০ আশ্বিন ১৪২৩ । ২২ জিলহজ ১৪৩৭


শান্তিরক্ষীদের যৌন নির্যাতন

অভিযুক্তদের বিচার না হলে নিষিদ্ধ হবে সংশ্লিষ্ট দেশ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৩ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



জাতিসংঘের শান্তিরক্ষীদের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগের ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে একটি প্রস্তাব পাস করেছে নিরাপত্তা পরিষদ। এতে শান্তিরক্ষা মিশনে কোনো ইউনিটের কোনো কোনো সদস্য যৌন নির্যাতনে অভিযুক্ত হলে পুরো ইউনিটকেই দেশে ফেরত পাঠানোর বিধান রাখা হয়েছে। আর সংশ্লিষ্ট দেশ অভিযুক্ত শান্তিরক্ষীর বিচারে গাফিলতি করলে সে দেশকে শান্তিরক্ষা কার্যক্রম থেকে বিরত রাখা হবে। গত শুক্রবার ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদে ১৪-০ ভোটে প্রস্তাবটি গৃহীত হয়।

দীর্ঘদিন ধরে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতন ও হয়রানির অভিযোগ উঠলেও এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এই প্রথম কোনো পদক্ষেপ নিল বিশ্ব সংস্থাটি। তবে মিসরসহ কয়েকটি দেশ উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, কতিপয় সদস্যের কারণে নিরপরাধ সদস্যরাও শাস্তির শিকার হতে পারেন এবং শান্তিরক্ষীদের মনোবল ভেঙে যাবে।

নিরাপত্তা পরিষদের খসড়া প্রস্তাবটি উত্থাপন করেছিল শান্তিরক্ষা মিশনের সর্বোচ্চ অর্থদাতা দেশ যুক্তরাষ্ট্র। প্রস্তাবটিতে উল্লেখ ছিল, কোনো ইউনিটের সদস্যরা যদি বারবার যৌন নিপীড়নে অভিযুক্ত হন, তাহলে তাঁদের পুরো ইউনিটকেই দেশে ফেরত পাঠানো  হবে। গত এক সপ্তাহ এ ধারাটি নিয়ে তীব্র বাদানুবাদ হয়।

শেষ পর্যন্ত তা রেখেই প্রস্তাবটি পাস হয়। জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন এটিকে ‘তাৎপর্যপূর্ণ সম্মিলিত পদক্ষেপ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

গৃহীত প্রস্তাবে জাতিসংঘের মহাসচিবকে এ ব্যাপারে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে এখন থেকে কোনো দেশ যৌন হয়রানির কারণে অভিযুক্ত শান্তিরক্ষীদের বিচারে গাফিলতি করলে দেশকেও শান্তিরক্ষা কার্যক্রম থেকে বিরত রাখতে পারবেন মহাসচিব। কূটনীতিকরা বলছেন, গৃহীত প্রস্তাবের ফলে এখন জাতিসংঘের মহাসচিব অভিযুক্ত শান্তিরক্ষীদের বিচারের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট দেশকেও চাপ দিতে পারবেন। এর মধ্য দিয়ে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুনের হাত শক্তিশালী হলো।

নিরাপত্তা পরিষদের ১৫টি সদস্য দেশের মধ্যে ১৪টি দেশ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিলেও মিসর নীরব থাকে। কারণ তাদের আনা সংশোধনীর প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়নি। সংশোধনীতে মিসরের দাবি ছিল অভিযুক্ত কয়েকজনের কারণে একটি ইউনিটের সবাইকে দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা না রেখে প্রত্যর্পণের একটি মানদণ্ড যুক্ত করা।

গত বছর জাতিসংঘের ১০টি মিশনের শান্তিরক্ষীদের বিরুদ্ধে শিশু ধর্ষণ, যৌন নির্যাতনের ৬৯টি অভিযোগ ওঠে। ২০১৪ সালে এই অভিযোগের সংখ্যা ছিল ৫২। যাঁদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ উঠেছে তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সামরিক সদস্য, আন্তর্জাতিক পুলিশ, অন্যান্য শাখার কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীরা। সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ ওঠে আফ্রিকার দেশ কঙ্গোতে নিয়োজিত কয়েকটি দেশের শান্তিরক্ষীদের বিরুদ্ধে।

এ প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র খসড়া প্রস্তাবটি নিরাপত্তা পরিষদে উত্থাপন করেছিল, যা শুক্রবার গৃহীত হয়। প্রস্তাবে শান্তিরক্ষীদের মধ্যে যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যাবে তাঁদের দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। অভিযোগ তদন্তে শান্তিরক্ষী কন্টিনজেন্টের গাফিলতি দেখা গেলে পুরো দলটিকেই দেশে পাঠানো হবে।

প্রসঙ্গত, জাতিসংঘের বিদ্যমান আইন অনুযায়ী কারো বিরুদ্ধে এ রকম অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট দেশ তার তদন্ত করবে এবং ব্যবস্থা নেবে। কিন্তু এ ধরনের ঘটনা রোধে জাতিসংঘের ব্যর্থতারও অভিযোগ ওঠে। এই বাস্তবতায় নতুন বিধি প্রণয়ন করল নিরাপত্তা পরিষদ। সূত্র : এএফপি, আল-জাজিরা, বিবিসি।

 

মন্তব্য