kalerkantho


তারেককে সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব দেবেন গয়েশ্বর

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



তারেককে সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব দেবেন গয়েশ্বর

সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব দিতে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে প্রস্তাব দেবেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। গতকাল শনিবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যুবদল আয়োজিত তারেক রহমানের দশম কারাবন্দি দিবস উপলক্ষে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে তিনি এ কথা বলেন।

গয়েশ্বর বলেন, ‘যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী যেমন সার্বক্ষণিক দপ্তরের দায়িত্ব পালন করেন, স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে আমাদের সে রকম দায়িত্ব থাকে না। চেয়ারপারসনের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করি। চেয়ারপারসনের অনুপস্থিতিতে সাধারণত সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানই দলের দায়িত্ব পালন করে থাকেন। তারেক রহমানের এখন বাংলাদেশে আসার কোনো পরিবেশ নেই। তা ছাড়া আমরা জানি না, তারেক রহমানের দায়িত্ব কী। তিনি কথা বলার চেষ্টা করেন। তবে সেটাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সে কারণেই তাঁকে সুনির্দিষ্টভাবে দায়িত্ব দেওয়া প্রয়োজন। আমি চেয়ারপারসনকে এই প্রস্তাব খুব শিগগির দেব।

তিনি বলেন, ‘আমরা নিজেরাই সাংগঠনিকভাবে তারেক রহমানকে অনেকটা নিষ্ক্রিয় করে রেখেছি। ’ কাউন্সিলের জন্য সবাইকে প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কাউন্সিলের সময় ছবি তোলা, নেতাদের সামনে পড়ার চেষ্টা করবেন না। কাউন্সিল নেতা বানানোর জন্য নয়। এতে বিএনপির ঘুরে দাঁড়ানোর কর্মকৌশল ঠিক করা হবে।

গয়েশ্বর বলেন, ‘বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে যারা নিষ্ক্রিয় ও পলাতক ছিল, সেই সব মুসায়েদ ও চাটুকাররা নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে এখন সবচেয়ে বেশি সক্রিয়। এরা নেত্রীর সামনে চেহারা দেখাতে ব্যস্ত। এরা কখনো দলের বন্ধু হতে পারে না। এদের বিরুদ্ধে হাই অ্যান্টিবায়োটিক দিতে হবে। ’

যুবদল সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের সভাপতিত্বে এ সময় অন্যদের মধ্যে অংশ নেন কেন্দ্রীয় নেতা রুহুল কবীর রিজভী, আব্দুল লতিফ জনি, আব্দুস সালাম আজাদসহ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

গতকাল বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয়তাবাদী কর্মজীবী দলের নবম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘স্বাধীনতাযুদ্ধে সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনায় গয়েশ্বর বলেন, নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে ক্ষমতা থেকে বিদায় নিতে হবে জেনে লুটপাটের নতুন নতুন উপায় খুঁজছেন মন্ত্রী-এমপিরা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে যে বিপুল অঙ্কের টাকা লোপাট হওয়ার ঘটনার সঙ্গে ক্ষমতাসীনদের সংশ্লিষ্টতা আছে কি না তা খতিয়ে দেখা দরকার।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি মো. লিটনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুল্লাহ আল নোমান, ফজলুল হক মিলন, জাগপার সভাপতি শফিউল আলম প্রধান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

গতকাল দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনে বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন মিলনায়তনে ‘জাতীয়তাবাদী প্রচার দল’ নামের একটি সংগঠনের আয়োজনে ‘১/১১-র কুশীলব ও তাদের বর্তমান প্রেক্ষিত’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হান্নান শাহ বলেন, ‘এক-এগারোর কুশীলবদের সঙ্গে মিলে যাঁরা ষড়যন্ত্র করেছিলেন, তাঁরাই এখন মন্ত্রী-এমপির পদে আছেন। সে জন্য আওয়ামী লীগ সরকার এক-এগারোর কুশীলবদের বিচার করবে না। তবে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে এর বিচার করা হবে। ’ তিনি বলেন, ‘এক-এগারোর সময়ে বিএনপি নেতারা খালেদা জিয়াকে সঠিক পরামর্শ দেননি। এমনকি অনেকে তখন তাঁর পাশে থাকতেও অপারগতা প্রকাশ করেছিলেন। খালেদা জিয়াকে নেতা মেনে গণমাধ্যমে বিবৃতি পাঠানোর জন্য দলের সব স্থায়ী কমিটির সদস্য, এমপি-মন্ত্রীদের বাসায় বাসায় গিয়েছি। কিন্তু সাতজনকে ছাড়া আর কাউকে পাই নাই। আমি নিজে ১০০ জনের নাম লিখে পত্রিকায় বিবৃতি পাঠিয়েছিলাম। তাঁরাই এখন ওই সময়ের ভূমিকার জন্য গর্ববোধ করেন। ’

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ নুরুল আফসার বাহাদুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান, আবু সাঈদ খোকন প্রমুখ বক্তব্য দেন।


মন্তব্য