kalerkantho


এটিএম বুথে জালিয়াতি

পিওতরের দাবির সত্যতা মিলছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১২ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



পিওতরের দাবির সত্যতা মিলছে

ব্যাংকের এটিএম বুথে জালিয়াতির ঘটনায় প্রভাবশালী ব্যবসায়ীসহ যেসব লোক জড়িত বলে ইউক্রেনীয় বংশোদ্ভূত জার্মান শজেপ্যান মাজুরেক পিওতর তথ্য দিয়েছেন, এর সত্যতা পেয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ। তবে প্রভাবশালী কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। পিওতর গোয়েন্দা পুলিশের পাশপাশি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে শতাধিক ব্যক্তির নামসহ জালিয়াতির বিষয়ে তথ্য দেন।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, স্বীকারোক্তিতে পিওতর বলেন, ব্যাংকের এটিএম কার্ড শাখার কিছু কর্মকর্তার পাশাপাশি ট্রাভেল এজেন্ট, হোটেল ব্যবসায়ী ও পুলিশের কয়েক সদস্য জালিয়াতিতে তাঁকে সহযোগিতা করেন। এ ছাড়া জার্মানি, ইউক্রেন ও যুক্তরাজ্যে বসবাসরত কয়েকজন বাংলাদেশিও সহযোগিতা করেন তাকে। তাঁর ওই দাবির সত্যতা পেয়েছেন গোয়েন্দারা।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) এক কর্মকর্তা জানান, কয়েক দফা রিমান্ডে পিওতরের কাছ থেকে ব্যাংকের এটিএম জালিয়াতির ঘটনায় প্রভাবশালী অন্তত ৫০ ব্যবসায়ীসহ শতাধিক ব্যক্তির নাম পাওয়া যায়। এ ছাড়া পিওতরের মোবাইল ফোন জব্দ করে পূর্ব ইউরোপের কালো তালিকাভুক্ত বেশ কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে। সেই সঙ্গে জালিয়াতির মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া টাকা বিদেশে পাচারসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যেরও সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে জিজ্ঞাসাবাদে পিওতর যাদের নাম বলেছেন, তাদের বেশির ভাগই প্রভাবশালী ব্যবসায়ী। এদের মধ্যে আন্তর্জাতিক চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তার করতে ইন্টারপোলের সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে। আর দেশি চক্রের সদস্যদের ধরার চেষ্টা চলছে।

পিওতর জিজ্ঞাসাবাদে জানান, ২০১৫ সালে বাংলাদেশে এসে প্রথমে তিনি খান এয়ার ট্রাভেলসের সঙ্গে মানবসম্পদ রপ্তানির কাজ শুরু করেন। একপর্যায়ে খান ট্রাভেলসের মালিক ও কর্মচারীদের মাধ্যমে পিওএস নামের একটি মেশিনের মাধ্যমে জাল কার্ড প্রস্তুত করে ব্যাংক থেকে টাকা তুলতে শুরু করেন তাঁরা। পরে ব্যাংকের এটিএম বুথে বিশেষ যন্ত্র ‘স্কিমিং ডিভাইস’ বসিয়ে ব্যাংকের কার্ড ডিভিশনের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে গ্রাহকদের কার্ডের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে বানানো হয় ক্লোন কার্ড।

ডিবি সূত্রে জানা যায়, স্বীকারোক্তিতে জালিয়াতির মাধ্যমে এ পর্যন্ত পাঁচ থেকে ছয় কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার দাবি করেছেন পিওতর। তদন্তে পিওতরের দাবির পক্ষে প্রমাণ পাওয়া গেছে। এর বাইরে পিওতরের দুজন বন্ধু ২৬ হাজার ডলার নিয়ে দেশ ত্যাগ করেছেন বলে তথ্য মিলেছে।

দ্বিতীয় দফা রিমান্ড শেষে গত বৃহস্পতিবার পিওতরকে আদালতে পাঠানো হয়। সেখানে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে গুলশান থানার আরেক মামলায় পিওতরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয় অন্য একটি আদালতে। ওই আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদেশ দেন।

গত ৬ থেকে ১২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে রাজধানীর ইস্টার্ন, সিটি ও ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) চার বুথে ‘স্কিমিং ডিভাইস’ বসিয়ে কার্ডের তথ্য চুরি করে পরবর্তী সময়ে কার্ড ক্লোন করে গ্রাহকদের অজান্তে টাকা তুলে নেওয়া হয়। ওই ঘটনায় ১৪ ফেব্রুয়ারি ইউসিবি কর্তৃপক্ষ জালিয়াতির অভিযোগে গুলশান থানায় মামলা করে। একই দিন সিটি ব্যাংকের দায়ের করা তথ্যপ্রযুক্তি আইনের মামলায় বলা হয়, বনানীতে একটি বুথে স্কিমিং ডিভাইস বসানোর সময় ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজে এক বিদেশির ছবি পাওয়া গেছে। এরপর গত ২২ ফেব্রুয়ারি পিওতরসহ সিটি ব্যাংকের তিন কর্মকর্তা মোকসেদ আল মাকসুদ, রেজাউল করিম ও রেফাত আহমেদ ওরফে রনিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয় মানি এক্সচেঞ্জের কর্মকর্তা হুমায়ন কবির ও আইটি সল্যুশনের কর্মকর্তা সাইফুজ্জামানকে।


মন্তব্য