বকেয়া চাওয়ায় কেবল ব্যবসায়ীকে গুলি-334972 | শেষের পাতা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

শুক্রবার । ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৫ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৭ জিলহজ ১৪৩৭


বকেয়া চাওয়ায় কেবল ব্যবসায়ীকে গুলি এএসআই বরখাস্ত

হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার সরকারি অস্ত্র জব্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১২ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



বকেয়া চাওয়ায় কেবল ব্যবসায়ীকে গুলি এএসআই বরখাস্ত

কেবল ব্যবসায়ীকে গুলি করার ঘটনায় এএসআই শামীম রেজাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ছবি : কালের কণ্ঠ

বকেয়া বিল নিয়ে তর্কের জের ধরে এক কেবল অপারেটর কর্মীকে গুলি করেছেন রাজধানীর বংশাল থানার এএসআই শামীম রেজা। গতকাল শুক্রবার সকালে রাজধানীর খিলগাঁওয়ের নন্দীপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর শামীম রেজাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় করা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।

গুলিবিদ্ধ আল আমিনকে (২৬) ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি  করা হয়। চিকিৎসা নিয়ে বিকেলের দিকে তিনি বাড়ি ফিরে যান। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তিনি আশঙ্কামুক্ত। 

পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, এএসআই শামীম রেজা সরকারি পিস্তল দিয়েই আল আমিনকে গুলি করেন। ঘটনার পর বংশাল থানায় দায়িত্ব পালন করতে গেলে তাঁকে আটক করা হয়। সাময়িকভাবে বরখাস্তের পর তাঁকে খিলগাঁও থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গতকাল বিকেলে তাঁর বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেছেন আহত আল আমিন। ঘটনায় ব্যবহৃত পিস্তলটিও জব্দ করেছে পুলিশ।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মারুফ হোসেন সরদার গতকাল সন্ধ্যায় জানান, এএসআই শামীমের বিরুদ্ধে খিলগাঁও থানায় মামলা হয়েছে। মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।  

পুলিশ সূত্র জানায়, এএসআই শামীম নন্দীপাড়ার মেরাদিয়া এলাকার ৫ নম্বর রোডের ৯ নম্বর বাড়ির চারতলার একটি ফ্ল্যাটে পরিবার নিয়ে বসবাস করেন। গতকাল সকাল ১০টার দিকে ওই ঘটনা ঘটে। পরে ওই বাড়ির আরেক ভাড়াটে গোয়েন্দা পুলিশের কনস্টেবল আনোয়ার হোসেন আহত আল আমিনকে ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে যান।

হাসপাতালে আল আমিন বলেন, ‘এএসআই শামীম গত ছয় মাসের ডিশ বিল পরিশোধ করেননি। এর মধ্যে কয়েকবার তাগাদা দিলেও কাজ হয়নি। আজ (শুক্রবার) সকালে বাসায় গিয়ে বকেয়া টাকা চাইলে বিল বেশি হয়েছে বলে শামীম টালবাহানা করেন। একপর্যায়ে আমি বলি, বিল না দিলে লাইন কেটে দেব। এ সময় তিনি (শামীম) বলেন, লাইন কেটে দে। পরে লাইন কেটে দিলে তিনি নিচে এসে আমাকে থাপ্পড় মারেন। প্রতিবাদ করলে তাঁর সঙ্গে থাকা পুলিশের পিস্তল দিয়ে আমাকে গুলি করেন।’ 

ওই বাড়ির কেয়ারটেকার মো. গিয়াস উদ্দিন জানান, সকালে হঠাৎ হইচই শুনে বাসা থেকে বের হয়ে দেখেন আল আমিন উত্তেজিতভাবে বলছেন, ‘ডিশের ছয় মাসের বিল দেন না। এখন আবার আড়াই শ টাকা কইর্যা দিতে চান, আমাদের রেট ৩০০ টাকা। আপনার ডিশের লাইন কেটে দেব।’ পরে শামীম আসেন। তাঁদের মধ্যে বাগিবতণ্ডার একপর্যায়ে শামীম আল আমিনকে থাপ্পড় মারেন। আল আমিনও তাঁকে পাল্টা ধাক্কা দেন। একপর্যায়ে শামীম আল আমিনকে গুলি করেন।

আল আমিনের দুলাভাই শহীদুল ইসলাম জানান, এএসআই শামীমের কাছে পাঁচ-ছয় মাসের ডিশ বিল বকেয়া রয়েছে। বকেয়া টাকা চাইতে গেলে শামীম নিজের অস্ত্র দিয়ে আল আমিনকে গুলি করেন। গুলি আল আমিনের পিঠে লাগে। 

ঢাকা মেডিক্যালের কর্তব্যরত চিকিৎসক মো. নাসির জানান, আল আমিনের পিঠের বাম পাশে গুলি বিদ্ধ হয়ে মাংস ভেদ করে বেরিয়ে গেছে। তবে তিনি শঙ্কামুক্ত। হাসপাতালে চিকিৎসার পর শুক্রবার (গতকাল) বিকেলে তিনি বাসায় চলে গেছেন।

বংশাল থানার ওসি নূরে আলম সিদ্দিক বলেন, ঘটনার পর এএসআই শামীম রেজা ডিউটিতে থানায় এলে তাঁকে আটক করা হয়। পরে খিলগাঁও থানায় তাঁকে হস্তান্তর করা হয়।

দায়িত্ব পালন শেষে একজন পুলিশ সদস্য নিজের কাছে বা তাঁর বাসায় অস্ত্র রাখতে পারেন কি না এমন প্রশ্নে ওসি বলেন, ওই সময় তিনি (শামীম) ডিউটিতেই ছিলেন। এক ফাঁকে তিনি বাসায় গেলে এ ঘটনা ঘটে।

খিলগাঁও থানার ওসি মাইনুল হোসেন বলেন, গুলির ঘটনায় আল আমিন মামলা করেছেন। এএসআই শামীমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর সরকারি অস্ত্রটিও জব্দ করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

মন্তব্য