সার্ক যুব সনদ স্বাক্ষরের প্রস্তুতি -334970 | শেষের পাতা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৪ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৬ জিলহজ ১৪৩৭


নেপালে পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক ১৭ মার্চ

সার্ক যুব সনদ স্বাক্ষরের প্রস্তুতি

মেহেদী হাসান   

১২ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার (সার্ক) যুব সনদ (সার্ক ইয়ুথ চার্টার) আগামী সপ্তাহে স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নেপালের পোখারায় আগামী ১৭ মার্চ সার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের ৩৬তম বৈঠকে (সার্ক কাউন্সিল অব মিনিস্টারস) সদস্য আট দেশের সম্মতিতে ওই সনদ স্বাক্ষরের কথা রয়েছে। এর আগে আগামী ১৪ ও ১৫ মার্চ সার্কের টেকনিক্যাল কমিটির (যুগ্ম সচিবদের) বৈঠক এবং ১৬ মার্চ পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের বৈঠকেও বিষয়টি উঠবে।

ঢাকার সরকারি একটি সূত্র জানায়, বাংলাদেশ এখনো ওই যুব সনদে সম্মতি দেয়নি। তবে এর খসড়ায় বিতর্কিত কিছু না থাকায় আগামী সপ্তাহেই তাতে সম্মতি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জানা গেছে, ১৪ মার্চ ঢাকায় মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিবেচনার জন্য সার্ক যুব সনদের খসড়া উত্থাপন করা হতে পারে। মন্ত্রিসভা এতে

সম্মতি দিলে সেদিনই বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল টেকনিক্যাল কমিটির বৈঠকে তা জানাবে। সার্কের অন্য সদস্য দেশগুলোও মন্ত্রী পর্যায়ের আসন্ন বৈঠক সামনে রেখে প্রস্তুতি নিচ্ছে। সব দেশ সম্মত হলে ১৭ মার্চেই সার্কের সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সার্ক যুব সনদে স্বাক্ষর করবেন।

২০১০ সালে ভুটানের রাজধানী থিম্পুতে ষোড়শ সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে শীর্ষ নেতারা সার্ক যুব সনদ প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছিলেন। বিশ্বের যুব সম্প্রদায়ের ২৬ শতাংশই সার্ক অঞ্চলে বসবাস করে। দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশেই বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী রয়েছে, যা ওই দেশগুলোর উন্নয়নের জন্য এক বিশাল সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে। জাতীয় ও আঞ্চলিক বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনায় তরুণদের প্রাধান্য দেওয়া এবং তাঁদের স্বাস্থ্য, অধিকার ও উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়াই এর লক্ষ্য।

এসইডিএমসির কেন্দ্র হতে চায় বাংলাদেশ: ২০১৪ সালের নভেম্বরে নেপালের রাজধানী কাঠমাণ্ডুতে অনুষ্ঠিত শীর্ষ সম্মেলনে সার্কের তিনটি কেন্দ্র যথা নয়াদিল্লির সার্ক ডকুমেন্টেশন সেন্টার, ইসলামাবাদের সার্ক মানবসম্পদ উন্নয়ন কেন্দ্র এবং কাঠমাণ্ডুর সার্ক তথ্যকেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। ওই সম্মেলনেই থিম্পুর সার্ক বনায়ন কেন্দ্র, নয়াদিল্লির সার্ক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র, মালের সার্ক উপকূলীয় অঞ্চল ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র এবং ঢাকার আবহাওয়া গবেষণা কেন্দ্র—এ চারটিকে একীভূত করার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। একীভূত ওই কেন্দ্রের নাম হবে সার্ক পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র (সার্ক এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট সেন্টার, সংক্ষেপে এসইডিএমসি)। কাঠমাণ্ডুতে অষ্টাদশ সার্ক শীর্ষ সম্মেলনের সময়ই বাংলাদেশ বলেছে, একীভূত ওই কেন্দ্র বাংলাদেশেই হোক।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, আসন্ন বৈঠকেও এসইডিএমসি কোথায় হবে সে বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। জলবায়ু বিষয়ে বিশ্বে বাংলাদেশ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্ব সুপরিচিত। পরিবেশ রক্ষায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের ‘চ্যাম্পিয়নস অব দি আর্থ’ পুরস্কার পেয়েছেন। তাই জলবায়ু ও পরিবেশ নিয়ে বাংলাদেশের নেতৃত্ব ও অঙ্গীকারের জন্য এসইডিএমসি এ দেশেই হতে পারে বলে ঢাকা মনে করে।

এ ছাড়া ঢাকার আগারগাঁওয়ে আবহাওয়া গবেষণা কেন্দ্রের (যা আরো তিন কেন্দ্রের সঙ্গে একীভূত হওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে) ভবনে বাংলাদেশ খুব দ্রুতই এসইডিএমসির কার্যক্রম শুরু করতে পারবে। প্রয়োজনে তিন তলার ওই ভবনটি আরো সম্প্রসারণের সুযোগ আছে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, ভারত ও পাকিস্তানও চায় তাদের দেশেই এসইডিএমসি হোক। ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে সার্ক ডকুমেন্টেশন সেন্টারটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে সার্কের উদ্যোগে গড়া দক্ষিণ এশীয় বিশ্ববিদ্যালয়টি নয়াদিল্লিতে অবস্থিত। পাকিস্তানে মানবসম্পদ উন্নয়ন কেন্দ্রটি বন্ধ করে দেওয়া হলেও দেশটিতে সার্ক জ্বালানি কেন্দ্র রয়েছে। বাংলাদেশেও সার্কের একটি কেন্দ্র (সার্ক কৃষিকেন্দ্র) থাকলেও জলবায়ু ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এ দেশের জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।

জানা গেছে, ১৯তম সার্ক শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজক পাকিস্তান আগামী নভেম্বর মাসে সম্মেলন আয়োজনের জন্য সম্ভাব্য তিনটি তারিখ প্রস্তাব দিয়েছে। পোখারায় আসন্ন পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকেও পরবর্তী সার্ক শীর্ষ সম্মেলন বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। এ ছাড়া আঠারোতম সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে।

মন্তব্য