kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ইমামদের জন্য বক্তব্য তৈরি করছে সরকার

পড়ে শোনানো হবে খুতবার আগে

মোশতাক আহমদ   

১২ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ইমামদের জন্য বক্তব্য তৈরি করছে সরকার

বাল্যবিবাহ বন্ধে জনগণকে সচেতন করতে কাজ করবেন মসজিদের ইমামরা। শুক্রবার জুমার নামাজের খুতবার আগে তাঁরা এ বিষয়ে মুসল্লিদের বয়ান করবেন।

এ ব্যাপারে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তৈরি করা একটি বক্তব্য ইমামদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। ইমামরা সে অনুযায়ী বয়ান করবেন। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এমন সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্যসচিব আবুল কালাম আজাদ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।

পরিচালক (গভর্ন্যান্স ইনোভেশন ইউনিট) কামরুন নাহার সিদ্দিকার সই করা ওই বৈঠকের কার্যপত্র বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি স্বাক্ষরিত ওই কার্যপত্রের ৩৭টি নির্দেশনার মধ্যে ২৪ নম্বর নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন আইনানুগভাবে বিবাহ নিবন্ধন, নিবন্ধনের সুবিধা ও বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে ইমামদের বক্তব্যের কনটেন্ট (আধেয়) তৈরি করে দেবে। জুমার নামাজের খুতবার আগে ইমামরা তা থেকে মুসল্লিদের পড়ে শোনাবেন। আর এ বিষয়ে ইমামরা বক্তব্য রাখছেন কি না, তা দৈব চয়নের ভিত্তিতে যাচাই করে দেখা হবে।

জানতে চাইলে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. আবদুল জলিল কালের কণ্ঠকে বলেন, ইতিমধ্যে ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও ইমাম প্রশিক্ষণ কেন্দ্রকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে। আশা করি, দেশের প্রতিটি মসজিদের ইমাম সাহেবরা এ বক্তব্যটি খুতবার আগে-পড়ে শোনাবেন।

সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৬ সালে বাংলাদেশে বাল্যবিবাহের হার ছিল ৭৪ শতাংশ। ২০১৩ সালে তা কমে হয়েছে ৫২ শতাংশ। এ বিষয়ে মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি কালের কণ্ঠকে বলেন, সরকার ২০৪১ সালের মধ্যেই দেশকে বাল্যবিবাহমুক্ত করতে চায়। সে লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে আরো সক্রিয়ভাবে কাজ করার জন্য জোর দিচ্ছে সরকার।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ওই বৈঠক সূত্র জানায়, সরকার ২০৪১ সালের আগেই বাল্যবিবাহমুক্ত দেশ ঘোষণার লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করেছে। এ বিষয়ে পৃথক দায়িত্ব দিয়ে করণীয় সম্পর্কে জানাতে স্বরাষ্ট্র, তথ্য, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, স্থানীয় সরকার, ধর্ম, মহিলা ও শিশু, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ ১৩টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। তারা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে নিজেদের বক্তব্য জানাবে।

বৈঠকে জানানো হয়, বাল্যবিবাহ নিরোধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অঙ্গীকারের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বৈঠকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা জানান, যাঁরা বাল্যবিবাহের সঙ্গে সম্পৃক্ত, অর্থাৎ যাঁরা এ ধরনের বিয়ে পড়ান, তাঁদের মধ্যে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, বিবাহ নিবন্ধক, মাদ্রাসার শিক্ষক, ধর্মীয় শিক্ষক, মৌলভি, ঠাকুর, পুরোহিত, স্থানীয় মুরব্বি, বিবাহ নিবন্ধকের সহকারীসহ সংশ্লিষ্টরা তদারকি ও দায়বদ্ধতার মধ্যে না থাকায় যেনতেনভাবে বিয়ে পড়িয়ে থাকেন। তাঁরা বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে না জেনে অথবা জেনেশুনে নিজেদের আর্থিক সুবিধার জন্য বিয়ে পড়িয়ে থাকেন। এ ক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভাগ বা সংস্থা উদ্যোগ নিলে বাল্যবিবাহ দূর করা সম্ভব। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মুখ্যসচিব আবুল কালাম আজাদ বলেন, সরকার মনে করছে, বাল্যবিবাহ নিরোধে মসজিদের ইমামদের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা জানান, ইমামরা যদি খুতবার আগে বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন তাহলে সেটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে। ইমামরা এ বিষয়ে বক্তব্য রাখছেন কি না, তা দৈব চয়ন ভিত্তিতে তদন্ত করার ওপরও জোর দিচ্ছে সরকার। এ ছাড়া বাল্যবিবাহ নিরোধ ও বিবাহ নিবন্ধনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বিটিভি ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এবং বাংলাদেশ বেতারে তথ্যচিত্র ও অনুষ্ঠান প্রচার অব্যাহত রাখার কথা বলা হয়েছে।

বৈঠকে তথ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ এস এম মাহবুবুল আলম, সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক গাজী মোহাম্মদ নুরুল কবীর, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম, মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সাহিন আহমেদ চৌধুরীসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


মন্তব্য