kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সুন্দরবন অভিমুখে জাতীয় কমিটির ‘জনযাত্রা’ শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



সুন্দরবনের পাশে কয়লাভিত্তিক দুটি বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণ বন্ধ করা এবং জাতীয় কমিটি ঘোষিত সাত দফা বাস্তবায়নের দাবিতে সুন্দরবন অভিমুখী ‘জনযাত্রা’ গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা থেকে শুরু হয়েছে। আগামী ১৩ মার্চ বাগেরহাটের কাটাখালীর রূপসায় সমাবেশের মধ্য দিয়ে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির চার দিনের এ ‘জনযাত্রা’ শেষ হবে।

জাতীয় কমিটির এ জনযাত্রায় সারা দেশ থেকে বিভিন্ন বামপন্থী ও গণতান্ত্রিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা যোগ দেবে। গতকাল সুন্দরবন অভিমুখী জনযাত্রার উদ্বোধন ঘোষণা করেন জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ।

যাত্রা শুরু করার আগে সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ ও প্রতিবাদী গানের আয়োজন করা হয়। শিল্পী কফিল আহমেদ ও গানের দল মাভৈঃ সুন্দরবন নিয়ে প্রতিবাদী গান পরিবেশন করে।

সুন্দরবনে বাগেরহাটের রামপালে বাংলাদেশ ও ভারতের সরকারি প্রতিষ্ঠানের যৌথ মালিকানায় এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট এবং মংলার শ্যাওলাবুনিয়ায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ওরিয়নের একটি ৫৬৫ মেগাওয়াট বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণের কাজ চলছে। জাতীয় কমিটি ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো মনে করে, এ দুটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণ করা হলে সুন্দরবনের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে। এ কারণে তারা কেন্দ্র নির্মাণ বন্ধ করার দাবি জানিয়ে আসছে।

উদ্বোধনী সমাবেশে জনযাত্রার উদ্দেশ্য ও প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে জাতীয় কমিটির সদস্যসচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘সরকার জেনেশুনে সুন্দরবনধ্বংসী রামপাল ও ওরিয়ন বিদ্যুেকন্দ্রের মাধ্যমে জনগণের মুখে বিষ ঢেলে দিচ্ছে। সুন্দরবন বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন হিসেবে পরিবেশ শোধনের অসাধারণ প্রাকৃতিক ব্যবস্থা। ১০ লাখ মানুষের জীবন-জীবিকা এবং উপকূলীয় অঞ্চলের চার কোটি মানুষকে রক্ষার প্রাকৃতিক আশ্রয়। সুন্দরবন রক্ষা তাই বাংলাদেশের মানুষের বাঁচা-মরার লড়াই। ’ তিনি আরো বলেন, ‘সরকার বাংলাদেশ ও ভারতের মুনাফাখোরদের কাছে হাত-পা বন্ধক দিয়েছে বলেই দেশ ও জনগণের জন্য এ রকম সর্বনাশা প্রকল্প নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। বাংলাদেশকে অরক্ষিত করার এই প্রকল্পের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য ও জাগরণ সৃষ্টির জন্য এই জনযাত্রা। ’

জনযাত্রায় অংশ নেওয়া রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী), বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগ (ইউসিবিএল), গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টি, জাতীয় গণফ্রন্ট, গণতান্ত্রিক গণমঞ্চ, সমাজতান্ত্রিক মজদুর পার্টি, বাসদ (মাহবুব), গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফোরাম, শ্রমজীবী সংঘ। এ ছাড়া সমাবেশে অংশ নেয় বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, সংস্কৃতি ইউনিয়ন, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট, বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রী, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী।

কর্মসূচির প্রতি সংহতি জানিয়ে জনযাত্রায় অংশ নিচ্ছে বিবর্তন গানের দল, সমগীত সাংস্কৃতিক প্রাঙ্গণ, সাংস্কৃতিক ইউনিয়ন, উদীচী, চারণ, শিশু সংগঠন খেলাঘর, পরিবেশ সংগঠন প্রতিবেশ আন্দোলন ইত্যাদি।

জনযাত্রার প্রতি সংহতি জানিয়ে সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক আহমেদ কামাল, ডা. আবু সাঈদ, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ বিডি রহমতুল্লাহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ তানজিম উদ্দীন খান, গবেষক মহা মির্জা ও ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া।

রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, খালেকুজ্জামান, বিমল বিশ্বাস, টিপু বিশ্বাস, শুভাংশু চক্রবর্তী, সাইফুল হক, মোশারফ হোসেন নান্নু, জোনায়েদ সাকি প্রমুখ।

জনযাত্রা সাভার, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে মানিকগঞ্জে পৌঁছার পর সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ইকবাল হোসেন কচির পরিচালনায় সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় কমিটির মানিকগঞ্জ শাখার আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান হযরত। জনযাত্রা গতকাল বিকেলেই ফরিদপুর পৌঁছে জনসভা করে। আজ শুক্রবার ফরিদপুরে থেকে যশোরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু হবে।


মন্তব্য