কাপাসিয়ায় ‘মুক্তিপণ না পেয়ে’ কুপিয়ে-334675 | শেষের পাতা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১২ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৪ জিলহজ ১৪৩৭


কাপাসিয়ায় ‘মুক্তিপণ না পেয়ে’ কুপিয়ে ব্যবসায়ী হত্যা

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, গাজীপুর   

১১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



কাপাসিয়ায় ‘মুক্তিপণ না পেয়ে’ কুপিয়ে ব্যবসায়ী হত্যা

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় ইউনুস আলী (৫০) নামের এক ভাঙ্গারি ব্যবসায়ীকে অপহরণের পর কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। অপহরণের ১৩ ঘণ্টা পর বুধবার রাত ১০টার দিকে উপজেলা সদরের অদূরে কাপাসিয়া গ্রামের খালপাড় এলাকা থেকে তাঁর ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করা হয়।

পরিবারের অভিযোগ, ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ না পেয়ে দুর্বৃত্তরা তাঁকে হত্যা করেছে। পুলিশ ও প্রতিবেশীরা বলছে, অপহরণের পর মুক্তিপণ চাওয়ার বিষয়টি রহস্যজনক। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে নিহত ইউনুসের স্ত্রী শিউলী আক্তার ও প্রতিবেশী ইমান আলীর ছেলে আমজাদ হোসেনকে আটক করা হয়েছে।

নিহত ইউনুস আলী কুমিল্লার হোমনা উপজেলার উমরাবাস গ্রামের মৃত মনু মিয়ার ছেলে। ২৫-২৬ বছর আগে সপরিবারে কাপাসিয়ার সদর ইউনিয়নের কাপাসিয়া গ্রামে এসে ভাড়া বাসা নিয়ে বসবাস শুরু করেন। সেখানে কাপাসিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ভাঙ্গারির দোকান দেন। কাপাসিয়া ফকির মজনু শাহ্ সেতুর পশ্চিম পাশে সেতুর জন্য অধিগ্রহণ করা জমিতে ঘর তুলে সাত-আট বছর ধরে থাকতেন তিনি।

প্রতিবেশীরা জানায়, প্রায় আট বছর আগে তিন সন্তান রেখে ইউনুসের প্রথম স্ত্রী মারা যান। এরপর প্রতিবেশী শিউলী আক্তারকে বিয়ে করেন তিনি। শিউলীরও এটি ছিল দ্বিতীয় বিয়ে। তাঁর প্রথম স্বামী দিনাজপুর সদর উপজেলার সাইফুল ইসলামও অপহরণের পর খুন হন বলে তিনি জানিয়েছেন।

স্বজনরা জানায়, গত বুধবার সকাল ৯টার দিকে শিউলী আক্তার তাঁর স্বামীকে নিয়ে কাপাসিয়া বাজারে যান। তাঁরা একসঙ্গে সবজি কেনার পর শিউলী বাড়ি ফিরে যান। ওই সময় দোকানে যাওয়ার পথে দুর্বৃত্তরা ইউনুসকে তুলে নিয়ে যায়।

শিউলী আক্তার জানান, দুপুর ২টার দিকে ইউনুস আলীর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে তাঁকে ফোন দেয় দুর্বৃত্তরা। তারা ইউনুসকে তুলে নেওয়ার খবর জানিয়ে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। টাকা দিতে অপারগতা জানালে দুর্বৃত্তরা ক্ষিপ্ত হয়।

প্রতিবেশী পোল্ট্রি ব্যবসায়ী ইকবাল হোসেন জানান, ঘটনা জেনে শিউলী আক্তারের চাচাত ভাই রাসেল কাপাসিয়া থানার পরিদর্শক মীর রকিবুল হককে ঘটনা জানান। তবে ওই সময় শিউলী আক্তার তাঁকেসহ প্রতিবেশীদের ঘটনা জানালেও তাঁর আচরণ ছিল অসংলগ্ন।

নিহত ইউনুসের প্রথম স্ত্রীর সন্তান জাহাঙ্গীর আলম (২২) জানান, মুক্তিপণ দাবি করার ঘটনা জেনে তিনি তাঁর বাবার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে অনেকবার ফোন দিয়েছেন। কিন্তু কেউ ফোন ধরেনি। বিকেল ৩টার পর থেকে মোবাইল ফোনটি আর খোলা পাওয়া যায়নি। এরপর ব্যাপক খোঁজাখুঁজির পরও তাঁর বাবার কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। জাহাঙ্গীর আরো জানান, রাত ১০টার দিকে বাড়ি থেকে প্রায় পৌনে এক কিলোমিটার দূরে একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে গ্রামবাসী। খবর পেয়ে স্বজনরা গিয়ে ইউনুসের লাশ শনাক্ত করে। জাহাঙ্গীর জানান, বুধবার সকালে তাঁর মা-বাবা বাসা থেকে বের হওয়ার পর অপরিচিত তিনজন লোক তাঁদের বাসায় গিয়ে তাঁদের কাছে ইউনুসের মোবাইল ফোন নম্বর চায়। এ সময় শিউলীর প্রথম সন্তান উম্মে কুলসুম তাঁর বাবার ফোন নম্বরটি অপরিচিত লোকদের দেন।

কাপাসিয়া থানার ওসি (তদন্ত) আবুল কাসেম জানান, ইউনুস আলীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে হত্যার পর মরদেহ ফেলে গেছে দুর্বৃত্তদল।

এদিকে প্রসঙ্গত, নিহত ইউনুসের দ্বিতীয় স্ত্রী শিউলীর ঘরেও তাঁর তিনটি সন্তান রয়েছে।

কাপাসিয়ার ওসি মীর রকিবুল হক বলন, গত রাত ৮টা পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। পুলিশ ইউনুসের লেনদেনসংক্রান্ত এবং দ্বিতীয় স্ত্রী শিউলীর জড়িত থাকার সন্দেহ নিয়ে তদন্ত করছে।

মন্তব্য