kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সুন্দরবনে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ চার বনদস্যু নিহত

বাগেরহাট প্রতিনিধি   

১১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



সুন্দরবনে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ চার বনদস্যু নিহত

সুন্দরবনে র‌্যাব ও কোস্ট গার্ডের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নয়ন বাহিনীর প্রধানসহ চার বনদস্যু নিহত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে এ ঘটনা ঘটে।

র‌্যাব-৮ জানায়, সুন্দরবন পূর্ব বিভাগে বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার সুখপাড়া এলাকায় যৌথ বাহিনীর সঙ্গে প্রায় আধাঘণ্টা ধরে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ হয় বনদস্যুদের। একপর্যায়ে দস্যুরা পিছু হটলে র‌্যাব সদস্যরা নয়ন বাহিনীর প্রধান ও তার তিন সহযোগীর গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করেন। এ ছাড়া ১৮টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৫৮২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

নিহত বনদস্যুরা হলো বাহিনীপ্রধান মো. মনির হোসেন, উপপ্রধান মো. এনাম, সদস্য মো. গিয়াস উদ্দিন ও মো. হাসান। মনির বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলার মো. আব্দুল খালেক মাঝির ছেলে। অন্যদের বাড়ি চট্টগ্রামে।

এ নিয়ে গত চার বছরে র‌্যাব-৮-এর সদস্যদের সঙ্গে সুন্দরবনে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ২৩ বাহিনীপ্রধানসহ ১০৯ বনদস্যু নিহত হয়েছে। এ সময়ে দস্যুদের ব্যবহৃত ৩৭৩টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

র‌্যাব-৮-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফরিদুল আলম গতকাল জানান, মনির ‘নয়ন বাহিনী’ নামে বনদস্যুদল গঠন করে বেশকিছু দিন ধরে সুন্দরবনের নদী-খালে জেলেদের ট্রলারে ডাকাতি করছিল। তার বাহিনীর সদস্যরা জেলেদের অপহরণ করার পর সুন্দরবনে জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করত। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব ও কোস্ট গার্ডের যৌথ দল বুধবার রাতে অভিযানে বের হয়। গতকাল সকাল সাড়ে ৬টার দিকে কচিখালীর কাছে সুখপাড়া এলাকায় গহিন বনে ‘নয়ন বাহিনী’র আস্তানার কাছে পৌঁছায় যৌথ বাহিনী। হ্যান্ড মাইকে দস্যুদের আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়। সাড়া না পেয়ে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা অগ্রসর হতে থাকলে ২০-২২ জনের দস্যুদল গুলি চালাতে শুরু করে। র‌্যাব ও কোস্ট গার্ড সদস্যরাও পাল্টা গুলি চালান। প্রায় আধাঘণ্টা ধরে গুলি-বিনিময় হয়। একপর্যায়ে দস্যুরা পিছু হটে; তখন তল্লাশি চালিয়ে বাহিনীপ্রধান মনিরসহ চার দস্যুর লাশ উদ্ধার করা হয়। আস্তানায় কোনো জেলেকে পাওয়া যায়নি। সেটি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। নিহতরা র‌্যাবের তালিকাভুক্ত দস্যু ছিল।

ফরিদুল আলম বলেন, ওই দস্যুরা কয়েক দিন আগে বরগুনা জেলার পাথরঘাটা এলাকার ১৯ জেলেকে অপহরণ করে সুন্দরবনের গহিনে জিম্মি করে রাখে এবং মুক্তিপণ দাবি করে। একজন মুক্তিপণের টাকা দিয়ে বাড়ি ফিরে আসেন।

গতকালের অভিযানে উদ্ধার করা অস্ত্র ও সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে দুটি দোনলা বিদেশি বন্দুক, চারটি একনলা কাটাবন্দুক, চারটি একনলা বিদেশি বন্দুক, চারটি এলজি, দুটি বিদেশি এয়ারগান, দুটি ওয়ান শ্যুটার গান, বিভিন্ন ধরনের ৫৮২ রাউন্ড গুলি, সাতটি দেশি ধারালো অস্ত্র, সিম কার্ডসহ তিনটি মোবাইল ফোন ইত্যাদি।

শরণখোলা থানার ওসি মো. শাহ আলম মিয়া জানান, র‌্যাব চার দস্যুর লাশ এবং অস্ত্র, গুলি ও জিনিসপত্র থানায় হস্তান্তর করেছে।


মন্তব্য