আওয়ামী লীগে গৃহদাহ-334671 | শেষের পাতা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৪ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৬ জিলহজ ১৪৩৭


আওয়ামী লীগে গৃহদাহ

বিশ্বজিৎ পাল বাবু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া   

১১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



আওয়ামী লীগে গৃহদাহ

প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নেই বিদ্রোহী প্রার্থী। জেলা আওয়ামী লীগকে পাশ কাটিয়ে মন্ত্রীর প্রার্থী বাছাই, আবার পাল্টা প্রার্থী বাছাই জেলা আওয়ামী লীগের। নিয়ম না মানায় মন্ত্রীর বিরুদ্ধে কেন্দ্রে নালিশ—সব মিলিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগে যেন চলছে গৃহদাহ।

পরিস্থিতি সামাল দিতে আশুগঞ্জের সাত বিদ্রোহী প্রার্থীকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করতে কেন্দ্রে চিঠি পাঠানো হয়েছে। বিদ্রোহের জ্বালা ধরা বাঞ্ছারামপুর ও নবীনগরের বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এসব নিয়ে দলের তৃণমূলে চলছে হতাশা আর ক্ষোভ।

দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আশুগঞ্জের সাতটি ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে লড়ার জন্য আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী বাছাই করে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ছয় সদস্যের সংশ্লিষ্ট বোর্ড। পরে ছয়টিতেই থেকে যায় বিদ্রোহী প্রার্থী।

গত ৫ মার্চ আশুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক হাজি মো. শফিউল্লাহ কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকের কাছে চিঠিতে সাত বিদ্রোহী প্রার্থীকে বহিষ্কারের জন্য চিঠি লেখেন। চিঠিতে চরচারতলা ইউনিয়নের মো. জিয়া উদ্দিন খন্দকার, দুর্গাপুর ইউনিয়নের জাকির হোসেন বাদল, একই ইউনিয়নের মোয়াজ্জেম হোসেন মাজু, আড়াইসিধা ইউনিয়নের কামরুল হাসান মোবারক, শরীফপুর ইউনিয়নের মো. তাজুল ইসলাম, লালপুর ইউনিয়নের মো. আবুল খায়ের ও তারুয়া ইউনিয়নের মো. বাদল সাদিরকে সংগঠনের শৃঙ্খলা রক্ষার প্রয়োজনে বহিষ্কারের অনুরোধ করা হয়। জেলা আওয়ামী লীগও কেন্দ্রের কাছে একই অনুরোধ করেছে।

এদিকে নাসিরনগরে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী এবং জেলা আওয়ামী লীগের মধ্যে বিরোধ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। মন্ত্রী ১৩টি ইউনিয়নে প্রার্থী বাছাই করার পর জেলা আওয়ামী লীগ পাঁচটি ইউনিয়নে আলাদাভাবে প্রার্থী বাছাই করেছে। এ বিষয়ে মন্ত্রীর বিরুদ্ধে দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে পৃথক চিঠি দেওয়া হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে সম্প্রতি চাতলপাড় ইউনিয়নে শেখ আবদুল আহাদ, ভলাকুট ইউনিয়নে এ কে এম বাকি বিল্লাহ জুয়েল, গোয়ালনগর ইউনিয়নে ডা. মো. কিরণ মিয়া, কুন্ডা ইউনিয়নে ওয়াছ আলী, সদর ইউনিয়নে মো. আবুল হাশেম, বুড়িশ্বর ইউনিয়নে এ টি এম মোজাম্মেল হক মুকুল, ফান্দাউক ইউনিয়নে হাজি ফারুকুজ্জামান ফারুক, গুনিয়াউক ইউনিয়নে হুমায়ুন কবির দরবেশ, চাপরতলা ইউনিয়নে আবদুল হামিদ, গোকর্ণ ইউনিয়নে হাসান খান, হরিপুর ইউনিয়নে মো. ফারুক মিয়া, ধরমণ্ডল ইউনিয়নে বাহার উদ্দিন চৌধুরী ও পূর্বভাগ ইউনিয়নে মো. জালু মিয়ার নাম ঘোষণা করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী অ্যাডভোকেট ছায়েদুল হক। অন্যদিকে গত বুধবার দলীয় সভাপতির কাছে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পৃথক এক চিঠিতে পাঁচটি ইউনিয়নের জন্য নতুন করে চেয়ারম্যান প্রার্থীর নাম পাঠানো হয়। এর মধ্যে সদর ইউনিয়নে আব্দুল আহাদ, চাতলপাড়ে মো. আব্দুল মালেক সরকার, গুনিয়াউকে গোলাম সামদানী, হরিপুরে দেওয়ান আতিকুর রহমান ও পূর্বভাগে জাহের মিয়ার নাম একক চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করা হয়। চিঠিতে মন্ত্রীর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধীর সন্তানসহ স্বজনদের মনোনয়ন দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে। এর আগে ৭ মার্চ শিল্পকলা একাডেমিতে জেলা আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন বোর্ডের সভা আহ্বান করা হলেও নাসিরনগরের কেউ উপস্থিত হননি।

নবীনগরের কাইতলা (দক্ষিণ) ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী অ্যাডভোকেট সৈয়দ মো. খালেদ আশীষ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি দীর্ঘ ১৮ বছর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। আমাকে মূল্যায়ন না করে অন্য একজনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। আমি মনে করি, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মিলে যে ভোট পাবে তার চেয়ে বেশি পেয়ে আমি বিজয়ী হব।’

নাসিরনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ টি এম মনিরুজ্জামান সরকার বলেন, ‘মন্ত্রী মহোদয় একা নন, তৃণমূলের নেতা থেকে শুরু করে প্রত্যেক প্রার্থীর সঙ্গে কথা বলে সবাই মিলে চেয়ারম্যান প্রার্থী বাছাই করা হয়েছে। চেয়ারম্যান প্রার্থী বাছাইয়ে জেলা আওয়ামী লীগ ডাকলেও কেউ গেছেন কি না তা আমার জানা নেই। আমাদের বাছাইকৃত প্রার্থীর নামের তালিকা ইতিমধ্যেই কেন্দ্রে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল-মামুন সরকার গতকাল বৃহস্পতিবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রার্থী বাছাই নিয়ে দলে কোনো ধরনের সমস্যা নেই। দলীয় নিয়মের বাইরে গিয়ে কেউ প্রার্থী হলে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়াটাই স্বাভাবিক। মন্ত্রী কোনো ধরনের নিয়ম না মেনে এককভাবে প্রার্থী বাছাই করেছেন। এ ক্ষেত্রে যেসব ইউনিয়নে প্রার্থী বাছাইয়ে ব্যাপক অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতি হয়েছে সেগুলোতে (পাঁচটিতে) নতুন প্রার্থীর নাম দিয়ে কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।’

মন্তব্য