অতি বিরল পরিযায়ী সাদা মানিকজোড়-334668 | শেষের পাতা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

শুক্রবার । ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৫ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৭ জিলহজ ১৪৩৭


পাখি

অতি বিরল পরিযায়ী সাদা মানিকজোড়

আলম শাইন   

১১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



অতি বিরল পরিযায়ী সাদা মানিকজোড়

অতি বিরল প্রজাতির পরিযায়ী পাখি ‘সাদা মানিকজোড়’। বাংলাদেশে এরা আসে ভরা শীতে। তবে সংখ্যায় বেশি নয়, বড়জোর দু-চার জোড়া দেখা যায়। কালেভদ্রে এদের দেখা মেলে বিস্তৃত হাওর-বাঁওড় কিংবা জলাশয়ে। একাকী কিংবা জোড়ায় জোড়ায় ঘোরে এরা। অনেক সময় ছোট-বড় দলেও দেখা যায়। এ সময় সবাই সমবেত হয়ে কর্কশ কণ্ঠে ডাকতে থাকে। লম্বা পা দ্রুত ফেলে শিকারের খোঁজে ছোটে। প্রয়োজনে হাঁটুজলে নামতে দেখা যায়। খাবারে এদের কোনো অরুচি নেই। পচাগলা থেকে শুরু করে সব ধরনের খাদ্যই এদের প্রিয়। শিকার শেষে জলাশয়ের পাড়ে হাঁটু গেড়ে বিশ্রাম নেয় সাদা মানিকজোড়। রাতে বিশ্রাম নেয় গাছের সবচেয়ে উঁচু ডালে। বৈশ্বিক বিস্তৃতি বাংলাদেশ ছাড়াও পশ্চিম ভারত, পর্তুগাল, স্পেন, ইউক্রেন, জার্মানি, দক্ষিণ পোল্যান্ড, সাইবেরিয়ান উপদ্বীপ, পশ্চিম-উত্তর আফ্রিকা, সুদান, আরব সাগর, পশ্চিম চীন পর্যন্ত। বিশ্বে এদের অবস্থান তত ভালো নয় বিধায় আইইউসিএন এদেরকে লাল তালিকাভুক্ত করেছে।

বাংলায় এদের নাম সাদা মানিকজোড়, ইংরেজি নাম হোয়াইট স্টর্ক। বৈজ্ঞানিক নাম Ciconia ciconia। এরা ধলা মানিকজোড় নামেও পরিচিত।

দৈর্ঘ্য কমবেশি ১০০-১২৫ সেন্টিমিটার। প্রসারিত ডানা ১৫৫-২১৫ সেন্টিমিটার। ওজন ২.৩-৪.৫ কেজি। স্ত্রী-পুরুষ পাখির চেহারা অভিন্ন। পুরুষের তুলনায় স্ত্রী পাখি খানিকটা খাটো। মাথা, গলা, ঘাড়, পিঠ ধবধবে সাদা হলেও ময়লা লেগে ধূসর-সাদা দেখায়। কোমর থেকে লেজের প্রান্ত পর্যন্ত কালো। ডানার পালক সাদা-কালো। বুকে লম্বা সাদা পালক, যা নিচের দিকে ঝুলে থাকে। দেহতল সাদা। ওড়ার পালক সাদা-কালো। চোখের বলয় কালো। টকটকে লাল রঙের ঠোঁট লম্বা, বেশ শক্তপোক্ত। লিকলিকে লম্বা পা জোড়া টকটকে লাল। ময়লা জমে অনেক সময় রঙের পরিবর্তন ঘটতে দেখা যায়। যুবাদের রঙে সামান্য পার্থক্য রয়েছে।

প্রধান খাবার গোবরেপোকা, ফড়িং, পঙ্গপাল, কেঁচো, ব্যাঙ, ইঁদুর, সাপ, সরীসৃপ, চিড়িং, ঘাসের কচিডগা ও পোকামাকড়। এ ছাড়া ছোট পাখি, পাখির ডিম, শামুক, কাঁকড়া, পচাগলা খাদ্যও আগ্রহভরে খায় এরা।

প্রজনন মৌসুম বসন্ত কাল। বাসা বাঁধে জলাশয়ের কাছাকাছি উঁচু গাছের ডালে অথবা গির্জা বা টাওয়ারের ওপর। বাসা বানাতে উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করে সরু ডালপালা, ঘাস ও লতাপাতা। বাসা আকারে বেশ বড়। বাসার তেমন কোনো শ্রী-ছাদ নেই। ডিম পাড়ে তিন-পাঁচটি। একটি ডিম থেকে অন্য ডিমটি পাড়তে সময় নেয় বেশ কদিন। ডিম ফুটতে সময় লাগে ৩৩-৩৪ দিন। শাবক ৮-৯ সপ্তাহের মধ্যে উড়তে শেখে।

লেখক : কথাসাহিত্যিক, বন্য প্রাণী বিশারদ ও পরিবেশবিদ।  alamshine@gmail.com

মন্তব্য