কেবল বই-খাতায় শিশুর পূর্ণাঙ্গ বিকাশ-334664 | শেষের পাতা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

রবিবার । ২ অক্টোবর ২০১৬। ১৭ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৯ জিলহজ ১৪৩৭


গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা

কেবল বই-খাতায় শিশুর পূর্ণাঙ্গ বিকাশ সম্ভব নয়

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



কেবল বই-খাতায় শিশুর পূর্ণাঙ্গ বিকাশ সম্ভব নয়

চ্যানেল আই মিলনায়তনে গতকাল ব্র্যাক আয়োজিত ‘সংস্কৃতিচর্চা শিশুর চিন্তাশক্তির বিকাশ ঘটায়’ শীর্ষক গোলটেবিলে বক্তারা। ছবি : কালের কণ্ঠ

এ দেশ আগামীতে কেমন থাকবে, বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশ কিভাবে তার স্থান করে নেবে, তা নির্ভর করছে আজকের শিশুদের বেড়ে ওঠার ওপর। কেবল বই-খাতায় শিক্ষাকে চার দেয়ালে বন্দি রাখলে শিশু পূর্ণাঙ্গভাবে বিকশিত হতে পারবে না। সত্যিকারের বিকাশে দরকার সাংস্কৃতিক চর্চা। বাংলা, ইংরেজি কিংবা গণিতের চেয়ে চারু ও কারুকলা কোনো দিক থেকে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে চ্যানেল আই কার্যালয়ে আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে বক্তরা এসব কথা বলেন। বৈঠকের শিরোনাম ছিল ‘সংস্কৃতি চর্চা শিশুর চিন্তাশক্তির বিকাশ ঘটায়, প্রসঙ্গ ব্র্যাকের শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক চর্চা’। ব্র্যাক, চ্যানেল আই ও কালের কণ্ঠ যৌথভাবে এ গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে। সঞ্চালকের দায়িত্বে ছিলেন সাহিত্যিক ও কালের কণ্ঠ সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠলে শিশুর চিন্তা-চেতনায় পরিবর্তন ঘটে। ব্র্যাক তাদের জায়গা থেকে কাজ করছে। আমরা আমাদের জায়গা থেকে কাজ করছি। স্কুলগুলোতে শিশুদের আবৃত্তি, নাচ, গান শেখানোর পাশাপাশি সামাজিক মূল্যবোধ তৈরিতে সরকার কাজ করছে।’

ইমদাদুল হক মিলন বলেন, ‘ব্র্যাক যে জায়গাটিতে উন্নয়নের চেষ্টা করছে, এটাই আসল বাংলাদেশ। আমরা শহরে থেকে আমাদের সন্তানদের যেভাবে মানুষ করার চেষ্টা করছি, সেভাবে আসলে একটা দেশ দাঁড়ায় না। শিশুর সংস্কৃতি চর্চায় কিভাবে আমরা অবদান রাখতে পারি, কিভাবে শিশুকে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারি, সেসব বিষয় আমাদের ভাবতে হবে।’

শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী বলেন, ‘একটি অসাধারণ শক্তি নিয়ে পৃথিবীতে শিশুরা আসে। আমরা তাদের সাধারণ বানিয়ে ফেলি।’ তিনি বলেন, ‘সমাজ শিশুবান্ধব না হলে শিক্ষক বা পরিবার শিশুদের বড় মানুষ বানাতে পারে না।’

ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক ডা. মুহাম্মাদ মুসা বলেন, ‘বর্তমানে যে একাডেমিক কারিকুলাম আমরা ব্যবহার করছি, তাতে বেশি দূর এগোনো যাবে না। দক্ষতা বাড়াতে হলে সাংস্কৃতিক চর্চা প্রয়োজন।’

গোলটেবিল বৈঠকে আরো বক্তব্য দেন চিত্রশিল্পী অধ্যাপক আবুল বারক আলভী, ব্র্যাকের শিক্ষা কর্মসূচির পরিচালক ড. শফিকুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কাজী আফরোজ জাহানারা, বাংলাদেশ টেলিভিশনের পরিচালক কবি নাসির আহমেদ, সংগীতশিল্পী ফাতেমা-তুজ-জোহরা, নৃত্যশিল্পী লুবনা মরিয়ম, অভিনেতা শহিদুল আলম সাচ্চু ও ব্র্যাক স্কুলের শিক্ষিকা হাবিবা ইসলাম।

মন্তব্য