kalerkantho


জিএসপি পুনর্বহাল নিয়ে তোফায়েল

কেয়ামত পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত পূরণ হবে না

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



কেয়ামত পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত পূরণ হবে না

রানা প্লাজা ধসে পড়ার পর ২০১৩ সালে বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা স্থগিত করে ১৬ দফা কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের শর্ত দেয় যুক্তরাষ্ট্র। গত তিন বছরে সেই শর্তগুলোর একটি বাদে সব কটিই কমবেশি পূরণ করেছে বাংলাদেশ। ৫০ হাজার শ্রমিককে বেকার করে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বেশ কিছু ত্রুটিপূর্ণ কারখানা। পোশাক খাতের কর্মপরিবেশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রায়ই সন্তোষ প্রকাশ করছে। কিন্তু যখনই জিএসপি পুনর্বহালের প্রসঙ্গ ওঠে তখনই দেশটির তরফ থেকে জানানো হয়, ‘আরো উন্নতি করতে হবে। ’ বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের ধারণা, বাংলাদেশ যতই উন্নতি করুক, আরো উন্নতি করার এই শর্ত কোনো দিন শেষ হবে না যুক্তরাষ্ট্রের। মূলত জিএসপি পুনর্বহাল না করার উদ্দেশ্যেই দেশটি এমন কথা বলছে বলে মনে করছেন তিনি।

গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকের পর যুক্তরাষ্ট্রে জিএসপি পুনর্বহাল নিয়ে তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘আমার ধারণা রোজ কেয়ামত পর্যন্ত চেষ্টা করলেও বাংলাদেশ তাদের শর্ত পূরণ করতে পারবে না। ’

মন্ত্রী বলেন, ‘সব শর্ত পূরণ হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে কেন জিএসপি সুবিধা ফিরে পাচ্ছি না তার উত্তর বার্নিকাট (যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্সিয়া বার্নিকাট) আজকে দিয়েছেন। রাষ্ট্রদূত বলেছেন, আমাদের অনেক উন্নতি হয়েছে। আরো উন্নতি দরকার।

সেই আরো উন্নতিটা কী? আমাদের ইপিজেডে আমরা যে ওয়ার্কার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন করেছি, সেখানে সব কিছুই আছে। ১০-১৫ হাজার টাকার কমে কেউ বেতন পান না। শ্রমিকদের তরফ থেকে কোনো অভিযোগ নেই। ’

‘আমার মনে হয় রোজ কেয়ামত পর্যন্ত চেষ্টা করলেও তাদের শর্ত আমরা পূর্ণ করতে পারব না। এটা আমার ধারণা। তাই আমাদের আর কিছু করণীয় নেই, যা যা করার দরকার ছিল করে দিয়েছি। ’ ক্ষোভের সঙ্গে বলেন তোফায়েল আহমেদ।

যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ১৬টি শর্তের মধ্যে ১৫টি পূরণ করা হয়েছে বলে মনে করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বাকি শর্তটি হলো ইপিজেডভুক্ত কারখানায় ট্রেড ইউনিয়ন চালু করা। কিন্তু সংশ্লিষ্ট আইনে এ সুযোগ নেই। তা ছাড়া ইপিজেডে জাপান, কোরিয়াসহ যেসব দেশের বিনিয়োগকারী কারখানা স্থাপন করেছেন তাঁরা ট্রেড ইউনিয়নের বিপক্ষে। ট্রেড ইউনিয়নের বিকল্প হিসেবে ইপিজেডভুক্ত কারখানাগুলোতে ওয়ার্কার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন রয়েছে। এ অবস্থায় সরকার সেখানে আর ট্রেড ইউনিয়ন চালু করতে আগ্রহী নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মানতে গিয়ে সব পোশাক কারখানা পরিদর্শন করেছে বিদেশি ক্রেতাদের সংগঠন অ্যাকর্ড, অ্যালায়েন্স এবং বিশ্ব শ্রম সংস্থা। পরিদর্শনে যেসব কারখানা ঝুঁকিপূর্ণ মনে হয়েছে, সেগুলো বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। এ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘পরিদর্শনের পর কিছু কারখানা ঝুঁকিপূর্ণ ছিল, সেগুলো আমরা বন্ধ করে দিয়েছি। তাতে আমাদের ৫০ হাজার শ্রমিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কর্মপরিবেশ নিয়ে বিদেশি ক্রেতারা সন্তোষ প্রকাশ করেছে। তারা স্বীকার করে নিচ্ছে যে আমাদের কোনো কারখানাই ঝুঁকিপূর্ণ নয়। রানা প্লাজা ধসের পর প্রায় তিন বছর চলে গেছে। এর মধ্যে কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। ’

বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নে জিএসপি সুবিধা পাচ্ছে। উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হলে আর এ সুবিধা পাওয়া যাবে না। তখন যাতে জিএসপি প্লাস সুবিধায় বাংলাদেশ অন্তর্ভুক্ত হতে পারে সে ব্যাপারে আশ্বাস দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এ প্রসঙ্গে তোফায়েল বলেন, ‘আমরা যদি স্বল্পোন্নত দেশ থেকে পরবর্তী ধাপে উন্নীতও হই, তাহলে আমাদের স্টেটাস কী হবে সে ব্যাপারে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এখনই আমাদের ফেভারে চিন্তা করতে শুরু করেছে। স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশকে সহযোগিতা করে আসছে। তাদের সহযোগিতায় আমরা এ পর্যন্ত এসেছি। ’

তবে যুক্তরাষ্ট্র কিংবা অন্যান্য ক্রেতা রাষ্ট্রের কাছে এক শ্রেণির শ্রমিক নেতা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কাজ করছেন উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে কিছু আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং তথাকথিত ট্রেড ইউনিয়নে কিছু শ্রমিক নেতা রয়েছেন, যাঁরা কোনো কারখানায় কাজ করেন না। শ্রমিক নাম ব্যবহার তাঁদের ব্যবসা। তাঁদের সঙ্গে বিভিন্ন দূতাবাসের যোগাযোগ আছে। তাঁরা দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করছেন। এসব করে তৈরি পোশাক খাতের অগ্রগতি ঠেকানো যাবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ১২টি দেশের সঙ্গে টিপিপি (ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টনারশিপ) করেছে, তাতে আমাদের কোনো ক্ষতি হবে না। ’


মন্তব্য