kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বন্ড সুবিধার অপব্যবহার

সাড়ে ছয় কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১০ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



বন্ড সুবিধার আওতায় শুল্কমুক্ত পণ্য এনে উত্পাদনে ব্যবহার না করে খোলাবাজারে বিক্রি করে দিয়েছে রাজধানীর কুড়িল বিশ্ব রোডের এসএম প্যাকেজিং লিমিটেড। এতে ছয় কোটি ৪৭ লাখ টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে সরকার।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আওতাধীন শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের তদন্তে বিষয়টি ধরা পড়েছে।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০১৩-১৪ সালে বন্ড সুবিধার আওতায় প্রতিষ্ঠানটি ১৭ কোটি টাকার দুই হাজার ১৩৫ টন ডুপ্লেক্স বোর্ড, আর্টকার্ড, সাদা বোর্ডসহ বিভিন্ন কাঁচামাল আমদানি করে। বন্ড সুবিধার আওতায় শতভাগ রপ্তানিমুখী শিল্পে ব্যবহারের জন্য কাঁচামাল আমদানিতে কোনো শুল্ক পরিশোধের প্রয়োজন হয় না। তবে শর্ত থাকে—আমদানীকৃত কাঁচামাল শুধু কারখানার উত্পাদনে ব্যবহার করতে হবে। খোলাবাজারে বিক্রি করা যাবে না।

বন্ড সুবিধার এ শর্ত ভেঙে এসএম প্যাকেজিং লিমিটেড তিন বছর ধরে আমদানীকৃত কাঁচামাল খোলাবাজারে বিক্রি করে আসছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুল্ক গোয়েন্দারা অভিযান চালিয়ে অনিয়ম পান। প্রতিষ্ঠানের বন্ডেড ওয়্যারহাউসের আমদানি-রপ্তানির তথ্য যাচাই, সরেজমিনে পরিদর্শন, রেজিস্টার খাতায় উল্লেখ করা হিসাবপত্র যাচাই করে অনিয়মের তথ্য-প্রমাণ মেলে।

অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বন্ডেড লাইসেন্স সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে। আমদানি-রপ্তানিসংক্রান্ত কার্যক্রমও স্থগিত করা হয়েছে। এ বিষয়ে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান কালের কণ্ঠকে বলেন, এসএম প্যাকেজিং লিমিটেড দীর্ঘদিন ধরে বন্ড সুবিধার অপব্যবহার করে আসছিল। শুল্ক গোয়েন্দারা তদন্ত করে অনিয়মের তথ্য উদ্ঘাটন করেন।

উল্লেখ্য, বন্ড সুবিধায় শুল্কমুক্ত পণ্য এনে খোলাবাজারে বিক্রি করে অসৎ ব্যবসায়ীরা বড় অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। অন্যদিকে সৎ ব্যবসায়ীরা শুল্ক পরিশোধ করে সব নিয়মকানুন মেনে ব্যবসা করছেন। এতে সৎ ব্যবসায়ীরা অসৎ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে অসম প্রতিযোগিতায় পড়ছেন। বিশেষভাবে আর্টকার্ড, ডুপ্লেক্স বোর্ডসহ এ জাতীয় পণ্য এনে খোলাবাজারে বিক্রি করায় দেশি কাগজশিল্প কঠিন অবস্থার মধ্যে পড়ছে।


মন্তব্য