kalerkantho


চার জেলায় ১৩ জনের ফাঁসি

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১০ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



চার জেলায় ১৩ জনের ফাঁসি

চার জেলায় চারটি খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত ১৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। গতকাল বুধবার এক দিনেই এতগুলো মৃত্যুদণ্ডের আদেশ হলো। এর মধ্যে চট্টগ্রামে শিক্ষার্থী হিমেল হত্যা মামলায় ছয়জন, রংপুরে প্রতিবন্ধী নারী আনজিরা হত্যায় পাঁচজন, নাটোরে শিশু মুক্তির এক খুনি এবং গাজীপুরের টঙ্গীতে ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম হত্যার ঘটনায় একজনের ফাঁসির আদেশ হয়েছে।

এ ছাড়া একই দিন ফেনীতে একটি হত্যা মামলায় একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম জানান, স্কুল ছাত্র হিমেল দাশকে অপহরণের পর হত্যা মামলার রায় দিয়েছেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারক সেলিম মিয়া। মৃত্যুদণ্ড দেওয়া ছয় আসামির মধ্যে তার দূর সম্পর্কের চাচা সুনীল দাশও রয়েছেন। অন্য একটি ধারায় পাঁচ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

দণ্ডিত বাকি পাঁচজন হলো মাহমুদুল ইসলাম ও তার ভাই নজরুল ইসলাম ওরফে লাল মিয়া, মিজানুর রহমান চৌধুরী, মো. হোসেন ওরফে সাগর ও মো. সেলিম। তাদের মধ্যে সাগর ও সেলিম ছাড়া অন্যরা রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিল।

নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল-২-এর পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম এ নাসের বলেন, ‘আসামিদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ হওয়ায় আদালত ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন। ’

বাদীপক্ষের আইনজীবী বিবেকানন্দ চৌধুরী জানান, দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় মাহমুদুল ও তার ভাই নজরুল, হোসেন ও সেলিমকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেছেন আদালত। এ ছাড়া দণ্ডবিধির ৩০২/১০৯ ধারায় সুনীল ও মিজানকে মৃত্যুদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭ ধারায় আদালত সুনীল, মাহমুদুল, মিজান ও সেলিম ও হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড, দণ্ডবিধির ২০১ ধারায় আদালত প্রত্যেক আসামিকে সাত বছর করে কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা করেছেন।

নিহত হিমেলের বাবা ছিলেন রেলওয়ে পুলিশের হিসাব কর্মকর্তা। তিনি ২০০৭ সালে মারা যান। আর হিমেলের মা স্কুল শিক্ষিকা। হিমেল হত্যার ঘটনায় চট্টগ্রামে ওই সময়ে তোলপাড় হয়েছিল। খুন হওয়ার চার দিন পর প্রকাশিত এসএসসির ফলে হিমেল জিপিএ ৫ পেয়েছিল।

আদালত সূত্র জানায়, ২০১১ সালের ৮ মে পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে মাহমুদুল ও তার ছোট ভাই নজরুলের সঙ্গে বান্দরবানে বেড়াতে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছিল হিমেল। এই ঘটনায় ১৩ মে তার মা পাপিয়া ডবলমুরিং থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। পরদিন ১৪ মে দুর্গম নাগাঝিরি পাহাড় থেকে হিমেলের লাশ উদ্ধার করা হয়।

পাপিয়া সেন রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি দ্রুত এই রায় কার্যকর দেখতে চাই। ’

নাটোর প্রতিনিধি জানান, লালপুরে শিশু মোসাদ্দিকা খাতুন মুক্তি হত্যা মামলায় একজনকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। অন্য এক আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রদীপ কুমার রায় এই রায় দেন।

দণ্ডিত আসামি সাহারুল ইসলাম লালপুর উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের আক্কেল আলীর ছেলে। এই মামলায় তার মা পারুল বেগমকে খালাস দেওয়া হয়েছে। তারা দুজনই পলাতক।

মামলার বিবরণে বলা হয়, ২০০৭ সালের ৬ নভেম্বর সকালে রঘুনাথপুর গ্রামের মুকরুম আলীর মেয়ে  মুক্তি প্রতিবেশী ছেলেমেয়েদের সঙ্গে খেলার সময় সাহারুল তাকে শালুক দেওয়ার কথা বলে বাড়িতে ডেকে নেয়। এরপর মুক্তির কানের সোনার দুল ছিনিয়ে নিয়ে তাকে শ্বাস রোধ করে হত্যা করে ঘরের ভেতর মাটিচাপা দেওয়ার সময় এলাকাবাসী দেখে ফেলে। ওই দিনই সাহারুল ও আক্কেল আলীকে আটক করে পুলিশে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় সাহারুলের মাকেও আসামি করে মামলা হয়। পুলিশ তদন্ত শেষে সাহারুল ও তার মা পারুল বেগমের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে।

রংপুর অফিস জানায়, পীরগঞ্জের চতরা ইউনিয়নের কুমারপুর গ্রামে বড় বোন আনজিরা খাতুনকে হত্যার দায়ে ছোট ভাই আব্দুল মজিদসহ পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন রংপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-২-এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান। এ সময় পাঁচ আসামিই আদালতে উপস্থিত ছিল।

দণ্ডিত বাকি চারজন হলো একই এলাকার মমিনুল ইসলাম, আরিফুল ইসলাম, এমদাদুল হক ও আনোয়ারুল হক।

জানা যায়, কুমারপুর গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের প্রতিবন্ধী মেয়ে আনজিরা ভিক্ষা করে জীবন যাপন করতেন। তিনি বাবার বাড়িতেই ছোট ভাই মজিদের সঙ্গে থাকতেন। পারিবারিক বিরোধের জের ধরে ২০০৬ সালের ৯ মার্চ রাতে তাঁকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। এরপর মরদেহ বাড়ির পাশের একটি বাঁশঝাড়ে ফেলে দেওয়া হয়। পরদিন সকালে আনজিরার লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তাঁর বড় ভাই আব্দুল বাকী তাঁদের ছোট ভাই আব্দুল মজিদ, প্রতিবেশী মমিনুল ইসলাম, আরিফুল ইসলাম, ইমদাদুল হক ও আনোয়ারুল ইসলামকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর জানান, টঙ্গীতে ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম হত্যা মামলার রায়ে রমজান ওরফে মকবুল কসাইকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন জেলা ও দায়রা জজ এ কে এম এনামুল হক। এ ছাড়া তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছেন আদালত।

দণ্ডিত মকবুল (৫৫) গাজীপুরের টঙ্গীর পাগাড় ঝিনু মার্কেট এলাকার ওয়াহেদ আলীর ছেলে।   

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালের ১৪ মার্চ বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ঝিনু মার্কেটে একই এলাকার বাসিন্দা মুদি ব্যবসায়ী নুরুল ইসলামকে (৪৭) ছুরিকাঘাতে হত্যা করে মকবুল। ঘটনার পর পালানোর সময় স্থানীয় লোকজন তাকে ছুরিসহ আটক করে পুলিশে দেয়। ওই দিন রাতেই মকবুলের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।

ফেনী প্রতিনিধি জানান, ফেনীতে হত্যা মামলার রায়ে একজনকে যাবজ্জীবন এবং অন্য দুজনকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ নিলুফার সুলতানা।

তাদের মধ্যে ফেনী সদরের চর কালিদাসের জাহিদু হোসেন মামুনকে যাবজ্জীবন এবং দুই লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে ছয় মাসের সাজা দেওয়া হয়েছে। একই এলাকার জসিম উদ্দিন ও চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার কার্তিক চন্দ্র শীলকে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে দুই মাসের সাজা দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে মামুন পলাতক।  

সরকারি কৌঁসুলি দ্বিজেন্দ্র কুমার কংস বণিক জানান, ২০০২ সালের ৩০ আগস্ট ফেনী সদরের সহদেবপুর এলাকায় ডাকাতির চেষ্টাকালে আব্দুল হক (৬০) মামুনকে ধরে ফেলেন। এ সময় ডাকাতরা তাঁকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে।


মন্তব্য