kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


‘ফেসবুকে ডাকাতের খোঁজ’

মাগুরায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ একজন নিহত

মাগুরা প্রতিনিধি   

৮ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



মাগুরায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ একজন নিহত

মাগুরা সদর উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে একজন নিহত হয়েছে। পুলিশের দাবি, ডাকাতির প্রস্তুতি নেওয়ার সময় উপজেলার কছুন্দি এলাকায় এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।

অন্যদিকে পরিবার বলছে, নিহত ব্যক্তি একটি ডাকাতি মামলার আসামি। তাকে আগেই আটক করা হয়েছিল।

পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গত ২৯ ডিসেম্বর একটি ডাকাতির ঘটনা তদন্ত করার সময় ফেসবুকের মাধ্যমে একজনকে শনাক্ত ও আটক করা হয়। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ওই ঘটনায় গতকালের নিহত এই ব্যক্তি জড়িত ছিল।

কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত আমিনুল ইসলাম লিটন সদর উপজেলার আজমপুর গ্রামের ইদ্রিস মোল্লার ছেলে।

মাগুরার পুলিশ সুপার (এসপি) এ কে এম এহসান উল্লাহ জানান, গত সোমবার ভোররাতে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের কছুন্দি এলাকায় রাস্তায় গাছ ফেলে একদল ডাকাত যানবাহনে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিল—এমন খবর পাওয়ার পর পুলিশের একটি টহলদল ঘটনাস্থলে যায়। তখন ডাকাতরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এ সময় পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। এতে ডাকাতদলটি পিছু হটে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে আন্তজেলা ডাকাতদলের সদস্য আমিনুল ইসলাম ওরফে লিটনের গুলিবিদ্ধ লাশ পড়ে থাকতে দেখে।

এসপি আরো জানান, সংঘর্ষের সময় তাজউদ্দিন, কামরুল, মামুন ও লাল মিয়া নামের পুলিশের চার সদস্য আহত হয়েছেন। তাঁদের মাগুরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি নাইন এমএম পিস্তল, পাঁচটি পিস্তলের গুলি, ৯টি বন্দুকের গুলি, একটি ম্যাগাজিন, দুটি রামদা, একটি চাপাতি, গাছকাটার করাত ও শাবল উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ সুপার জানান, নিহত লিটনের বিরুদ্ধে মাগুরা সদর থানা ও কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় একাধিক ডাকাতি মামলা রয়েছে। একটি মামলায় সে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে ডাকাতিতে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। এ ছাড়া গত ২৯ ডিসেম্বর শহরের পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয় এলাকায় লাকী রহমান নামের এক নারীর বাড়িতে মুখোশধারী একটি ডাকাতদল অর্থ ও স্বর্ণলংকার লুট করে। পরে তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে ওই ডাকাতির সঙ্গে জড়িত সন্দেহে বাবুল নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। বাবুল আদালতে ১৬৪ ধারার জবানবন্দি দিয়ে যে কয়জন ডাকাতের নাম বলেছে, তাদের মধ্যে অন্যতম ছিল এই লিটন।

তবে লিটনের ভাতিজা জাহাঙ্গীর হোসেন দাবি করেন, তাঁর চাচার বিরুদ্ধে একটিমাত্র ডাকাতি মামলা আছে। ওই মামলায় সে জামিনে ছিল। গত রবিবার লিটনের মালয়েশিয়া চলে যাওয়ার কথা ছিল। এ জন্য সে শনিবার ভোরে ঢাকার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হয়। কিন্তু মাগুরা-ঢাকা রোড বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। গতকাল সকালে তাঁরা লোক মারফত খবর পেয়ে সদর হাসপাতাল মর্গে লিটনের লাশ শনাক্ত করেন বলে জাহাঙ্গীর জানান।

ডাকাত ধরতে ফেসবুক : এসপি এহসান উল্লাহ জানান, গত ২৯ ডিসেম্বর রাতে মাগুরার পারনান্দুয়ালী পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয় এলাকার লাকী রহমানের বাড়িতে ডাকাতি হয়। ওই বাড়ি থেকে পুলিশ এক যুবকের ছবি উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত ছবির ব্যক্তিটিকে শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করে।

এসপি বলেন, একপর্যায়ে ফেসবুক অনুসন্ধানের সময় সাইফুল ইসলাম বাবুলের ফেসবুক আইডি তাঁর নজরে আসে। তার ওয়ালে পোস্ট করা একটি ছবির সঙ্গে লাকী রহমানের বাড়ি থেকে উদ্ধার করা ছবির ওই যুবকের চেহারার হুবহু মিল রয়েছে। তবে নাম ঠিক থাকলেও ফেসবুক প্রোফাইলে বিস্তারিত ঠিকানা না থাকায় ছবির ওই ব্যক্তিকে শনাক্ত করা যাচ্ছিল না।

পরে বাবুলের ফেসবুক ফ্রেন্ডদের মাধ্যমে বাবুলের ঠিকানা বের করা হয়। জানা যায় সে মাগুরা সদর উপজেলার জগদল রূপাটি গ্রামের আহম্মদ বিশ্বাসের ছেলে এবং পেশায় একজন টাইলস মিস্ত্রি। পরে তার মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে প্রযুক্তির মাধ্যমে পুলিশ জানতে পারে ডাকাতির আগে এবং পরে পাঁচটি সিম কার্ড ব্যবহার করে বাবুল বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছে। কললিস্টে আরো ধরা পড়ে সে পুলিশের তালিকাভুক্ত ডাকাত এবং সদর উপজেলার শ্যাওলাডাঙ্গা গ্রামের কামাল ও মাসুদের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছে। এরপর পুলিশ বাড়িওয়ালা সেজে টাইলসের কাজ করার কথা বলে মোবাইলে তাকে মাগুরা শহরের স্টেডিয়াম গেট এলাকায় ডেকে এনে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি গ্রেপ্তার করে।

এসপি জানান, জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল বলেছে, লাকী রহমানের বাসায় ডাকাতির সময় লুকিয়ে একটি সোনার চেইন সে মানিব্যাগে রেখে দেয়। ওই সময় তড়িঘড়ি করতে গিয়ে মানিব্যাগ থেকে নিজের ছবিটি পড়ে যায়। এ ছবিটিই সে ফেসবুকে নিজের ওয়ালে পোস্ট করেছিল।

এসপি জানান, আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে বাবুল তার সঙ্গে থাকা ডাকাতদলের আটজনের নাম বলেছে। বন্দুকযুদ্ধে নিহত লিটন তাদেরই একজন। পুলিশ এ দলের অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে।


মন্তব্য