kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ছয় শিক্ষার্থীকে নিয়ে মাদ্রাসা শিক্ষক ‘উধাও’

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি   

৮ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ছয় শিক্ষার্থীকে নিয়ে মাদ্রাসা শিক্ষক ‘উধাও’

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার দক্ষিণ দুর্গাপুর গ্রামে রাতের আঁধারে ছয় শিশু শিক্ষার্থীকে নিয়ে এক মাদ্রাসা শিক্ষক উধাও হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই শিক্ষকের নাম হোসাইন ওরফে জসিম।

গত রবিবার রাত ২টার দিকে রহমানিয়া তালিমুল কোরআন কওমি মাদ্রাসা থেকে এ ঘটনা ঘটে। গতকাল সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় জসিম উদ্দিন নামের এক সিএনজিচালককে আটক করেছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন রয়েছে। তারা নিখোঁজ শিশুদের উদ্ধারের দাবি জানিয়েছে।

নিখোঁজ শিক্ষার্থীরা হলো—মনির হোসেন (১০), আব্দুল্লাহ আল ইমন (১০), রাসেল (১১), সৌরভ (১৩), রবিউল (১২) ও মুরাদ হোসেন। তাদের সবার বাড়ি সদর উপজেলার দিঘলী ইউনিয়নে। এ ঘটনায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন। একই সঙ্গে নিখোঁজ শিশুদের উদ্ধারের দাবি জানানো হয়েছে।

মাদ্রাসাটির পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরনবী বলেন, ‘অভিযুক্ত শিক্ষক হোসাইন ওরফে জসিমের বিরুদ্ধে গত শুক্রবার চাকরিচ্যুতির সিদ্ধান্ত নেয় ম্যানেজিং কমিটি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে  ছয় শিক্ষার্থীকে নিয়ে পালিয়ে যেতে পারে বলে আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি। ’ 

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালে দক্ষিণ দুর্গাপুর গ্রামে মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এতে দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী পড়ালেখা করে। এর মধ্যে ১৫ শিক্ষার্থী আবাসিক। এ শাখা দুজন শিক্ষক দিয়ে পরিচালনা করা হয়। তাঁদের একজন মো. হোসাইন ওরফে জসিম। গত দুই মাস আগে তিনি কর্মক্ষেত্রে যোগদান করেন। তাঁর বাড়ি নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাট এলাকায়। কর্তব্যে অবহেলার কারণে গত শুক্রবার হোসাইনকে চাকরিচ্যুতির সিদ্ধান্ত নেয় ম্যানেজিং কমিটি। আর এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রবিবার রাতে আট শিক্ষার্থীকে একটি অটোরিকশায় তুলে নেয় হোসাইন। এ সময় বিষয়টি প্রত্যক্ষ করেন অপর শিক্ষক মনিরুল। পরে তিনি চিৎকার করলে এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে জড়ো হয়। কিন্তু এর আগেই শিক্ষার্থীদের নিয়ে পালিয়ে যান হোসাইন। পরের দিন সকালে দুই শিক্ষার্থীকে রাস্তা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করেন জসিম উদ্দিন নামে এক সিএনজি অটোরিকশাচালক। পরে তাঁকে আটক করে পুলিশে দেয় এলাকাবাসী।   কিন্তু বাকি ছয় শিক্ষার্থীর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। উদ্ধার হওয়া ওই দুই ছাত্রের নাম শাকিল (৯) ও রিফাত (১০)। তাদের পরিবারের কাছে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে নিখোঁজ মুরাদ হোসেনের মা ফরিদা বেগম বলেন, ‘সোমবার দুপুরে একটি মোবাইল নম্বর থেকে ফোন আসে। মুরাদ কুমিল্লায় একটি মাদ্রাসায় আছে বলে ওই ফোনে জানানো হয়। কিন্তু বিস্তারিত জানতে চাওয়ার আগেই সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করা হয়। এর পর থেকে ওই ফোন নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। ’ নিখোঁজ রবিউলের মা ফাতেমা আক্তার বলেন, ‘আমার ছেলের কোনো খোঁজ পাচ্ছি না। আমরা আতঙ্কে রয়েছি। ’

এ ব্যাপারে দিঘলী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ইসমাইল হোসেন জানান, কুমিল্লার কোন এলাকায় ওই শিক্ষার্থীদের লুকিয়ে রাখা হতে পারে। বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

চন্দ্রগঞ্জ থানার পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আরজুন বলেন, এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জসিম উদ্দিন নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। সে পেশায় সিএনজিচালক। এ বিষয়ে নিখোঁজ ছাত্রদের পরিবার থেকে কেউ অভিযোগ করতে আসেনি। তবে শিশু শিক্ষার্থীদের উদ্ধার ও শিক্ষককে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।


মন্তব্য