ভাষাসৈনিক নাগিনা জোহার ইন্তেকাল-333499 | শেষের পাতা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৪ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৬ জিলহজ ১৪৩৭


ভাষাসৈনিক নাগিনা জোহার ইন্তেকাল

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি   

৮ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ভাষাসৈনিক নাগিনা জোহার ইন্তেকাল

ভাষাসৈনিক নাগিনা জোহা (৮১) আর নেই। গতকাল সোমবার দুপুরে তিনি ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি...রাজিউন)। গত ১ মার্চ বার্ধক্যজনিত নানা অসুস্থতা নিয়ে তাঁকে ঢাকার ওই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তিনি দুই ছেলে, দুই মেয়ে, নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

নাগিনা জোহা নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর-বন্দর) আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান ও নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান এবং নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের প্রয়াত সংসদ সদস্য নাসিম ওসমানের মা।

গতকাল বিকেলেই মরহুমার মরদেহ নারায়ণগঞ্জ শহরের ঐতিহ্যবাহী হীরা মহলে নেওয়া হয়। বাদ আসর শহরের খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালের সামনের সড়কে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে তাঁকে মাসদাইর কবরস্থানে প্রয়াত বড় ছেলে নাসিম ওসমানের কবরের পাশে দাফন করা হয়।

নাগিনা জোহার মৃত্যুর খবর পেয়ে নারায়ণগঞ্জ শহরের ঐতিহ্যবাহী হীরা মহলে মানুষের ঢল নামে। মরহুমার মরদেহে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। শ্রদ্ধা জানান নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভী। পরে তাঁর জানাজায় অংশ নেয় হাজারো মানুষ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য গাজী গোলাম দস্তগীর বীরপ্রতীক, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু, লিয়াকত হোসেন খোকা এমপি, এ কে এম শামীম ওসমান এমপি, এ কে এম সেলিম ওসমান এমপি, হোসনে আরা বাবলী এমপি, জেলা প্রশাসক আনিছুর রহমান মিঞা, পুলিশ সুপার ড. খন্দকার মহিদ উদ্দিন, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবদুল হাই, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোহাম্মদ আলী, জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার, বিএনপির সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান দিপু, সাধারণ সম্পাদক হাসান ফেরদৌস জুয়েল প্রমুখ।

নাগিনা জোহা ১৯৩৫ সালে অবিভক্ত বাংলার বর্ধমান জেলার কাশেমনগরে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা আবুল হাসনাত ছিলেন সমাজসেবক এবং কাশেমনগরের জমিদার। তিনি শিল্প-সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষকতায় বিশেষ সুনাম অর্জন করেন। তিনি ১৯৫০ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ম্যাট্রিক পাস করেন। ১৯৫১ সালে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিবিদ এ কে এম শামছুজ্জোহার সঙ্গে পরিণয় সূত্রে আবদ্ধ হন। নতুন বউ হিসেবে শ্বশুরবাড়িতে এসেই ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন তিনি। তাঁর শ্বশুর তৎকালীন এমএলএ খান সাহেব ওসমান আলীর চাষাঢ়ার বাড়ি ‘বায়তুল আমান’ ছিল সেই সময়ে আন্দোলন-সংগ্রামের কেন্দ্রবিন্দু।

মন্তব্য