kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পুলিশও নতুন তথ্য জানতে পারেনি, মামলা ডিবিতে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৮ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



পুলিশও নতুন তথ্য জানতে পারেনি, মামলা ডিবিতে

রাজধানীর বনশ্রীতে ভাইবোন হত্যা মামলার তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গত রবিবার রাতে রামপুরা থানা পুলিশের কাছ থেকে মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম শাখার উপকমিশনার (ডিসি) মারুফ হোসেন সর্দার এ তথ্য জানান।

তদন্তসংশ্লিষ্ট রামপুরা থানার পুলিশ সূত্র জানায়,  দুই শিশু হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে অনেক কারণ  থাকতে পারে। তবে মা মাহফুজা মালেক জেসমিন বেশির ভাগ তথ্য আড়াল করার চেষ্ট করছেন। ফলে গত কয়েক দিন রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদেও প্রকৃত অনেক কারণই জানা সম্ভব হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, পরিবারের লোকজনও তদন্তে তেমন সহযোগিতা করেনি। বিশেষ করে ঘটনার দিন দুই শিশুর দাদি বাসায় ছিলেন। তাঁকে কয়েক দফা জিজ্ঞাসাবাদের চেষ্টা করলেও পরিবারের অসহযোগিতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। মামলার বাদী ওই দুই শিশুর বাবা আমান উল্লাহ, শিশুদের খালা, খালু, চাচাসহ পরিবারের অন্য সদস্যরাও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সঠিক তথ্য জানায়নি। হতে পারে পরিবারের সদস্যরা যখন দেখছেন মা ঘটনা স্বীকার করে নিয়েছেন তখন তাঁরা নিজেদের রক্ষা করতে অনেক সত্য গোপন করছেন। শিশুদের মা এখন অনেকটা মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। তবে র‌্যাবের মত, থানা পুলিশও ঘটনার অনেক প্রশ্নের উত্তর জানতে পারেনি।  

রামপুরা থানার ওসি রফিকুল ইসলাম গতকাল সোমবার বলেন, দুই শিশুও  মা জেসমিনকে গত চার দিন রিমান্ডে থানা হাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও একই ধরনের বক্তব্য দেন তিনি। শুধু বলছেন, ‘দুই সন্তানকে তিনিই হত্যা করেছেন। ’

এর আগে র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদেও জেসমিন একই কথা বলেছেন বলে দাবি করেছিল র‌্যাব। এখন নিবিড় তদন্তের অংশ হিসেবে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মনোবিজ্ঞানীদের সহযোগিতা নিচ্ছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। মনোবিজ্ঞানীদের সহযোগিতা নিয়ে তাঁকে ডিবিতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে।  

প্রসঙ্গত, গত  ২৯ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকা  মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নুসরাত আমান (১৪) ও আলভী আমান (৬) নামের ওই দুই সহোদর মারা যায়। ঘটনার পর তাদের মা  জেসমিন ও খালা মিলা সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, খাবারের বিষক্রিয়ায় নুসরাত ও আলভীর মৃত্যু হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের পর চিকিৎসকরা জানান, দুই শিশুকে হত্যা করা হয়েছে। এরপর শিশু দুটির পরিবারের সদস্য, গৃহশিক্ষক, বাসার নিরাপত্তারক্ষী ও একটি চায়নিজ রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার, বাবুর্চিসহ কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। গত বুধবার লাশ দাফনের পর গ্রামের বাড়ি থেকে দুই সন্তানের মা-বাবাকে ঢাকায় নিয়ে আসে র‌্যাব। তারপর র‌্যাব দাবি করে, তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদে দুই সন্তানকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন মা জেসমিন। এরপর নুসরাত-আলভীর বাবা আমান উল্লাহ বাদী হয়ে রামপুরা থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় জেসমিনকে একমাত্র আসামি করা হয়। পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত শুক্রবার আদালত জেসমিনের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। গতকাল রিমান্ডের চার দিন শেষ হয়েছে।


মন্তব্য