গৃহকর্মীকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে-333485 | শেষের পাতা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

বুধবার । ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৩ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৫ জিলহজ ১৪৩৭


গৃহকর্মীকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে কাফরুলে বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৮ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



গৃহকর্মীকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে কাফরুলে বিক্ষোভ

গৃহকর্মী হত্যার অভিযোগে এলাকাবাসী গতকাল কাফরুলে ন্যাম গার্ডেন অফিসার্স কোয়ার্টার্সের সামনে সড়ক অবরোধ করে। ইনসেটে গৃহকর্মী জনিয়া আক্তার। ছবি : কালের কণ্ঠ

রাজধানীর কাফরুলে জনিয়া আক্তার (১৫) নামের এক গৃহকর্মীর লাশ নিয়ে গতকাল দিনভর বিক্ষোভ করেছে এলাকাবাসী। সরকারি কর্মকর্তাদের আবাসিক এলাকা ন্যাম গার্ডেনের একটি ভবন থেকে পড়ে রবিবার সকালে মৃত্যু হয়েছিল তার। অসুস্থ মায়ের বদলে কিশোরী জনিয়া ওই ভবনের বাসিন্দা জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের যুগ্ম সচিব আহসান হাবিবের বাসায় কাজ করতে গিয়েছিল। ধর্ষণের পর তাকে ছাদ থেকে ফেলে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের। কিন্তু পুলিশ এ বিষয়ে অপমৃত্যুর মামলা নথিভুক্ত করায় গতকাল বিক্ষোভ শুরু হয়। ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের আশ্বাসে বিকেলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

স্বজনরা জানায়, মিরপুর ১৩ নম্বর সেকশনে অবস্থিত সরকারি কর্মকর্তাদের এ আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর ভবনে ৪০৩/বি ফ্ল্যাটে গৃহকর্মী হিসেবে ছিলেন জনিয়ার মা ফুলবানু। এ ফ্ল্যাটে বাস করে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের যুগ্ম সচিব আহসান হাবিবের পরিবারের সদস্যরা।

ফুলবানু অসুস্থ থাকায় তাঁর মেয়ে জনিয়া ছয় দিন ধরে এ বাসায় কাজ করে দিচ্ছিল। রবিবার সকালে ন্যাম গার্ডেনের ৩ নম্বর ভবনের সামনে থেকে জনিয়ার রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তার মুখ কাপড় দিয়ে বাঁধা এবং শরীরে ধর্ষণসহ আঘাতের  চিহ্ন ছিল।

মা ফুলবানু বলেন, ‘এক মাস ধরে অসুস্থ থাকায় ১৫ দিন ওই বাসাতে কাজে যাওয়া হয়নি। এ অবস্থায় সাত দিন আগে জনিয়াকে কাজের জন্য পাঠানো হয়। রবিবার সকালেও সেনপাড়ার বাসা থেকে কাজ করতে যায় জনিয়া। কিন্তু সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশ ফোন করে অভিভাবকদের সেখানে যেতে বলে। বাসার নিচে দেখা যায় মেয়ের লাশ পড়ে আছে, শরীরে আঘাতের চিহ্ন।’ গৃহকর্তার ছেলে ধর্ষণের পর জনিয়াকে মেরে ফেলেছে বলে অভিযোগ করেন ফুলবানু।

বাবা রিকশাচালক ওসমান গনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমার মেয়েকে ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়েছে। তার লাশ যখন আমরা উদ্ধার করি, তখন তার মুখে ওড়না বাঁধা ছিল। কনুই আর শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। আমি বাবা হয়ে যা মুখে বলতে পারছি না।’ মিরপুরের আশিদাগ এলাকায় বসবাসকারী এ দম্পতির পাঁচ মেয়ে ও এক ছেলের মধ্যে জনিয়া দ্বিতীয় সন্তান। তাঁদের গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জে। ঘটনার পর পুলিশ সব কিছু শুনেও হত্যা মামলা নেয়নি বলে অভিযোগ করেন ওসমান গনি।

এদিকে ময়নাতদন্তের পর গতকাল সকালে জনিয়ার লাশ কাফরুলে নেওয়া হলে এলাকাবাসীর মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সকাল সোয়া ১০টা থেকে প্রায় এক ঘণ্টা তারা কাজীপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সড়ক অবরোধ করে। এরপর তারা লাশ নিয়ে ন্যাম গার্ডেনের ভেতরে যাওয়ার চেষ্টা করলে মূল ফটক আটকে দেওয়া হয়। এরপর বিক্ষুব্ধরা লাশ নিয়ে কাফরুল থানার সামনে নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে। দুপুর ১টার দিকে থানার সামনে থেকে লাশ নিয়ে ন্যাম গার্ডেনের সামনে গিয়ে বিক্ষোভ করে এলাকাবাসী। বিকেল ৩টা পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করে তারা। পরে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের আশ্বাসে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

অভিযুক্ত যুগ্ম সচিব আহসান হাবিব গতকাল দুপুরে স্ত্রী নাজনীন আক্তার ও ছেলে রুম্মান বিন আহসানকে নিয়ে কাফরুল থানায় যান। তিনি ওসির কক্ষে বসে থাকা মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার কাইয়ুমুজ্জামান খানের সঙ্গে কথা বলেন। ডিসি কাইয়ুমুজ্জামান খান বলেন, ‘ঘটনার তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।’

কাফরুল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আসলাম উদ্দিন বলেন, ‘জনিয়ার মৃত্যুতে রবিবার রাতে একটি মামলা হয়েছে। অপমৃত্যু মামলার বাদী হয়েছেন বাবা ওসমান গনি। পরে কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।’

ঢাকা মহানগর পুলিশের মিরপুর বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার মাসুদ আহমেদ বলেন, ‘এ ঘটনায় যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরে যেহেতু অভিযোগে বলা হয়েছে, মেয়েটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে, সেহেতু ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

পল্লবী পুলিশের সহকারী কমিশনার জাকির হোসেন জানান, ‘এ ঘটনায় ওই ভবনের কেয়ারটেকার এমদাদ, সিদ্দিকসহ তিনজন লিফটম্যানকে আটক করা করেছে। ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

বিলসের উদ্বেগ : জনিয়া নিহতের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে গৃহশ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠা নেটওয়ার্ক (বিলস)। সমন্বয়কারী সৈয়দ সুলতান মাহমুদ সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আহ্বান জানান।

মন্তব্য