kalerkantho


প্রধান বিচারপতিকে জড়িয়ে বক্তব্য

দুই মন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রীর ভর্ৎসনা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৮ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



দুই মন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রীর ভর্ৎসনা

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহাকে নিয়ে বক্তব্য দেওয়ায় দুই মন্ত্রীকে ভর্ৎসনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁদের এই বক্তব্য সরকারের নয় বলেও স্পষ্ট করেছেন তিনি। মন্ত্রীদের এ ধরনের বক্তব্যে তিনি বিব্রত হয়েছেন বলেও জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী গতকাল সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে তাঁর সচিবালয়ে বৈঠক শেষে একজন সিনিয়র মন্ত্রী কালের কণ্ঠকে এসব কথা জানান। দুই মন্ত্রীর নাম উল্লেখ না করে শেখ হাসিনা বলেন, মন্ত্রীরা যেকোনো অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সুযোগ পান। কিন্তু কোথায় কী বলতে হবে তা বুঝতে হবে। সেটা না বুঝে কথা বললে সমস্যা হয়। এসব নিয়ে অন্যদের কথা বলার সুযোগ সৃষ্টি হয়। প্রধান বিচারপতি যে বক্তব্য দিয়েছেন তা অনুধাবন করার লোক রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, একটি সংগঠনের অনুষ্ঠানে গিয়ে দুজন মন্ত্রী যে ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন তাতে মনে হয় যে ওই সংগঠনটি সরকারের এবং এই বক্তব্য সরকারের বক্তব্য। যদি কেউ এ ধরনের বক্তব্য দিতে চান, তাহলে রাস্তায় গিয়ে দিন। মন্ত্রিসভার সদস্য হয়ে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পেলেই যা খুশি বলবেন এবং যেকোনো সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানে গিয়ে কথা বলবেন, এটা ঠিক নয়।

গত শনিবার একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম প্রধান বিচারপতিকে বাদ দিয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডিত মীর কাসেম আলীর আপিলের পুনঃশুনানির দাবি জানান। এই মামলার শুনানি নিয়ে প্রধান বিচারপতির বক্তব্যের সমালোচনাও করেন তিনি। একই অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক প্রধান বিচারপতির পদত্যাগ দাবি করেন।

দুই মন্ত্রীকে লিগ্যাল নোটিশ : প্রধান বিচারপতি ও বিচারাধীন বিষয় নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে খাদ্যমন্ত্রী ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জুলফিকার আলী ঝুনু। নোটিশে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হয়েছে। দুই মন্ত্রীকে নোটিশের জবাব দিতে ২৪ ঘণ্টার সময় দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় তাঁদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়, ‘গত ৫ মার্চ বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে আপনাদের বক্তব্য সম্প্রচার করা হয়েছে এবং পরদিন বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকেও প্রকাশিত হয়েছে। আপনারা বাংলাদেশের স্বাধীন বিচার বিভাগের প্রধান ব্যক্তি মাননীয় প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে নিয়ে আপত্তিকর কটূক্তিমূলক বক্তব্য প্রদান করেছেন। আপিল বিভাগে বিচারাধীন এবং রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ বিষয় নিয়ে মন্তব্য করেছেন। রায় প্রকাশের আগেই আপনারা আদালতের রায়ের বিষয়ে মন্তব্য করে এবং কিভাবে উক্ত সাবজুডিস মামলাগুলি কোন প্রক্রিয়ায় কোন বিচারপতিকে বাদ দিয়ে পুনরায় নিষ্পত্তি করবেন তার নির্দেশনামূলক বক্তব্য দিয়েছেন, যা সম্পূর্ণ বেআইনি, অসাংবিধানিক। এটা স্বাধীন বিচার বিভাগের ওপর হস্তক্ষেপ ও আদালত অবমাননার শামিল এবং প্রচলিত আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ’


মন্তব্য