kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সিলেটে ছাত্রলীগের দুই পক্ষে ফের সংঘর্ষ, গোলাগুলি

আহত ১০, গুলিবিদ্ধ দুজনের অবস্থা গুরুতর

সিলেট অফিস   

৮ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



সিলেটে ছাত্রলীগের দুই পক্ষে ফের সংঘর্ষ, গোলাগুলি

গতকাল সিলেটের এমসি কলেজে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষকালে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রায়হান চৌধুরীর অনুসারীরা। ছবি : আশকার আমিন রাব্বি

ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সিলেটের মুরারি চাঁদ (এমসি) কলেজে গতকাল সোমবার ছাত্রলীগের দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে।

আহতদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ দুজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। মাথায় গুলিবিদ্ধ একজনকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। অন্যজন ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

দুপুর ১টার দিকে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এম রায়হান চৌধুরী ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিরণ মাহমুদ নিপুর অনুসারীদের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে অন্তত ৯৫ রাউন্ড রাবার বুলেট ছুড়তে হয়। ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।

সিলেটে ছাত্রলীগের কোন্দলের জের ধরে ২০১৪ সালের নভেম্বরে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের সময় গুলিতে একজন নিহত হন। তিনি ছিলেন সিলেটের বেসরকারি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ছাত্র। গত বছর বিভিন্ন সময় সংগঠনের দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের একাধিক ঘটনা ঘটে। চলতি বছর ২০ জানুয়ারি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয় এক কর্মীকে। গত ফেব্রুয়ারি মাসেও মদন মোহন কলেজ ক্যাম্পাসে দুজনকে ছুরিকাঘাত করা হয়। এর আগে ৪ জানুয়ারি দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে আহত হয় কয়েকজন।

গতকালের সংঘর্ষ সম্পর্কে প্রত্যক্ষদর্শী ও সরকার সমর্থক সংগঠনটির সূত্রে জানা গেছে, এমসি কলেজে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা নিয়ে কয়েক দিন ধরে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এম রায়হান চৌধুরী ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিরণ মাহমুদ নিপুর অনুসারীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। গতকাল সকালে নিপু অনুসারী নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে অবস্থান নেয়। দুপুর ১টার দিকে রায়হানের সমর্থক নেতাকর্মীরা সংঘবদ্ধ হয়ে ক্যাম্পাসে ঢুকে গুলি করতে শুরু করে। অতর্কিতে এই হামলায় নিপুর সমর্থকরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন এই পক্ষের কর্মী রতন গুপ্ত ও খায়রুল ইসলাম শাহীন। এ ছাড়া সংঘর্ষে উভয় পক্ষের আরো অন্তত আটজন আহত হন। তবে তাঁদের নাম জানা যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সংঘর্ষ চলাকালে এমসি কলেজের আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে দেয়। খবর পেয়ে শাহপরান থানা পুলিশ ক্যাম্পাসে গিয়ে ৯৫ রাউন্ড রাবার বুলেট ছুড়ে উভয় পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

পুলিশ এ সময় জিহাদ ও পুলক নামের রায়হান সমর্থক দুজনকে গ্রেপ্তার করে। সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (সদর দপ্তর) রেজাউল করিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, গুলিবিদ্ধ দুজনের মধ্যে খায়রুল ইসলাম শাহীনকে গতকাল সন্ধ্যায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

সিলেট জেলা ছাত্রলীগের শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক এম এ আকাশ জানান, শাহীনের মাথায় গুলি  লেগেছে। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক। ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করার পর অবস্থার অবনতি হলে শাহীনকে ঢাকায় পাঠানো হয় বলে তিনি জানান।

ছাত্রলীগের নিপু পক্ষের নেতা ও জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘দুই দিন ধরে ক্যাম্পাস নিয়ন্ত্রণে নিতে চাচ্ছিল জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রায়হানের নেতৃত্বে বহিরাগত সন্ত্রাসীরা। তারা নগরে কুখ্যাত সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। ’

হামলা প্রসঙ্গে জেলা ছাত্রলীগের এই নেতা অভিযোগ করে বলেন, রায়হান ছাড়াও ছাত্রলীগের সাবেক বহিষ্কৃত সভাপতি পংকজ পুরকায়স্থ, জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি সয়েফ আহমদ ও সোলায়মান আহমদ, হান্নান, রাজনের নেতৃত্বে বহিরাগতরা ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তারা গুলিও করে।

হিরণ মাহমুদ নিপু দাবি করেন, ‘সকাল থেকে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করছিল। হঠাৎ করে রায়হান গ্রুপের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে ঢুকে গুলি করলে সংঘর্ষ শুরু হয়। ’ তিনি আরো দাবি করেন, রায়হানের অনুসারীদের ছোড়া গুলিতে রতন ও শাহীন আহত হয়েছেন।

অন্যদিকে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এম রায়হান চৌধুরী দাবি করেন, গত রবিবার পরীক্ষার প্রবেশপত্র আনতে ক্যাম্পাসে গিয়েছিলেন ছাত্রলীগকর্মী বিকাশ চন্দ্র সাহা। এ সময় হিরণ মাহমুদ নিপু ও তাঁর সমর্থক নেতাকর্মীরা বিকাশকে মারধর করে। এ ঘটনার জেরে বিকাশের সহপাঠীরা আজ (সোমবার) ক্যাম্পাসে গেলে নিপুর সমর্থক আকাশ, হোসেইন, শামীম আলী ও রাসেলের নেতৃত্বে তাঁর অনুসারীরা গুলি ছোড়ে। পরে পুলিশ এসে উভয় পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেয় বলে তিনি দাবি করেন।


মন্তব্য