শিল্পপতিদের ব্যাংক মালিক হওয়া উচিত-333057 | শেষের পাতা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৪ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৬ জিলহজ ১৪৩৭


হবিগঞ্জে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ সম্মেলন শেষ

শিল্পপতিদের ব্যাংক মালিক হওয়া উচিত নয় : গভর্নর

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি   

৭ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



শিল্পপতিদের ব্যাংক মালিক হওয়া উচিত নয় : গভর্নর

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেছেন, এক শ্রেণির ব্যবসায়ী বাজারে আকর্ষণীয় পণ্য ছেড়ে এর মাধ্যমে বিদেশে মুদ্রা পাচার করে থাকেন। এ ছাড়া বিনিয়োগের নামেও মুদ্রা পাচার হয়। তাই ব্যাংকগুলোকে এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি বলেন, অনেক শিল্পপতি এখন ব্যাংকের মালিক, যা হওয়া উচিত নয়। তাঁরা নামে-বেনামে ঋণ নিয়ে ব্যাংকগুলোকে বিপদে ফেলেন। অন্য দেশে এভাবে শিল্পপতিরা ব্যাংক মালিক হতে পারেন না। ভারতে রিলায়েন্স গ্রুপও পারেনি ব্যাংক মালিক হতে।

গতকাল রবিবার হবিগঞ্জের দ্য প্যালেস লাক্সারি রিসোর্টের ব্যাংকুয়েট হলে  দেশের ৫৬টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের ‘প্রধান মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ পরিপালন কর্মকর্তাদের’ তিন দিনব্যাপী সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠানে ড. আতিউর রহমান এসব কথা বলেন। এতে আরো বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মো. রাজী হাসান, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও ফিন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) ডেপুটি হেড নওশাদ আলী চৌধুরী ও বিএফআইইউয়ের অপারেশনাল হেড দেবপ্রসাদ দেবনাথ।

ড. আতিউর রহমান বলেন, মানি লন্ডারিং এবং সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধের বিষয়ে বাংলাদেশ ফিন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট একটি শক্তিশালী ও আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠানে উন্নীত হয়েছে। তিনি বলেন, তিনি যখন গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তখন দেশের জিডিপির আকার ছিল ৮০-৯০ বিলিয়ন ডলার, যা এখন প্রায় ২০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে এক দশক পর জিডিপির আকার হবে ৫০০ বিলয়ন ডলার। তখন বাংলাদেশ অন্যতম একটি শক্তিশালী অর্থনীতির দেশে পরিণত হবে।

আতিউর রহমান বলেন, তিনি যখন প্রথম বিআইএস সম্মেলনে যান তখন তাঁর প্রতি অন্যদের মনোযোগ আকর্ষণ  ছিল না। এখন এর বিপরীত চিত্র এবং তাঁর বক্তব্য শোনার জন্য তারা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে। ইউরোমানি শিগগিরই বাংলাদেশের উন্নয়ন নিয়ে একটি চার পৃষ্ঠার প্রকাশনা করতে যাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় একটি দেশের মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ ব্যবস্থা একটি গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড হিসেবে কাজ করে। আর মানি লন্ডারিং দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করে। তিনি  বলেন, প্রযুক্তির ফাঁকফোকর দিয়েও সাইবার অপরাধীচক্র টাকা পাচারে সক্রিয় রয়েছে। বাংলাদেশও এই সাইবার আক্রমণের বাইরে নেই। তাই পুরো আর্থিক খাতকে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় আরো সক্রিয় ও সক্ষম হতে হবে।

আবু হেনা মো. রাজী হাসান বলেন, বাণিজ্যভিত্তিক মানি লন্ডারিং বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য উন্নয়ন কার্যক্রমে অন্তরায় হয়ে দেখা দিয়েছে এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ উন্নয়নশীল দেশ থেকে উন্নত দেশগুলোতে পাচার হয়ে যাচ্ছে, যা এসব দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট এ সম্মেলনের আয়োজন করে। এতে ১৫০ জন ঊর্ধ্বতন ব্যাংক কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন।

আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সম্মেলন উদ্বোধন : এদিকে গতকাল বিকেলে একই ভেন্যুতে ৩২টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ পরিপালন কর্মকর্তাদের দুই দিনব্যাপী সম্মেলনের উদ্বোধন করেন ড. আতিউর রহমান। সেখানে তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতির আকার বড় হচ্ছে। পাশাপাশি চ্যালেঞ্জও বাড়ছে। তবে হতাশ হলে চলবে না। মনে রাখতে হবে, ছোট ছোট ব্যর্থতা অনেক সময় বড় সফলতার ক্ষেত্র সৃষ্টি করে। ১৯৯৮ সালের বন্যা এবং সাইক্লোন মোকাবিলা করে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের দুর্যোগ মোকাবিলায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে। বাংলাদেশ এখন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় রোল মডেল। তিনি বলেন, ‘মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে বিএফআইইউয়ের ওপর অর্পিত বিভিন্ন দায়িত্ব পরিপালনে আপনাদের সহযোগিতা খুবই প্রয়োজন।’ তিনি  বলেন, ‘আমি প্রায়ই বিএফআইইউয়ের কাছ থেকে আপনাদের প্রতিষ্ঠান কর্তৃক নির্দেশনা লঙ্ঘনের খবর শুনতে পাই। এর পর থেকে বিএফআইইউয়ের কাছ থেকে আপনাদের বিরুদ্ধে আর কোনো নিয়ম লঙ্ঘনের খবর যেন আমাকে শুনতে না হয়।’

এ সম্মেলনে আরো বক্তব্য দেন আবু হেনা মো. রাজী হাসান, নওশাদ আলী চৌধুরী, দেবপ্রসাদ দেবনাথ, বরকত উল্লাহ, শাহ আলম প্রমুখ। এ সম্মেলনে ৬৪ জন ফিন্যানশিয়াল প্রতিষ্ঠানের নির্বাহীরা অংশগ্রহণ করছেন। আজ সোমবার সম্মেলন শেষ হবে।

মন্তব্য