kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


হজ ব্যবস্থাপনার সেই নথি পেল ধর্ম মন্ত্রণালয়

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৭ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



হজ ব্যবস্থাপনার সেই নথি পেল ধর্ম মন্ত্রণালয়

হজ ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত হারিয়ে যাওয়া সেই নথি অবশেষে খুঁজে পেল ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, এই নথিতে আছে হজ ব্যবস্থাপনার ৪৫ কোটি টাকা আত্মসাতের তথ্য।

দুর্নীতির প্রমাণ আড়াল করতে মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টরা এই নথি সরিয়ে নিয়েছিলেন। কালের কণ্ঠসহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ায় চাপে পড়ে মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট অসাধু কর্মকর্তারা নথিটি বের করে দিতে বাধ্য হন। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে গতকাল রবিবার সকাল থেকেই সাংবাদিকরা সচিবের দপ্তরে হাজির হয়ে হারানো নথি সম্পর্কে জানতে চান। কিন্তু সচিব সে সময় তেমন কোনো তথ্য দিতে পারেননি। পরে মন্ত্রণালয়ের একটি বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, দুপুর আড়াইটা নাগাদ মন্ত্রণালয়ে সেই নথির সন্ধান মেলে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, নথি পাওয়া গেছে। তবে কিভাবে কোথায় পাওয়া গেছে সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি।

এদিকে ওই নথিতে কী আছে তা নিয়ে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। কর্মকর্তারা বলছেন, ওই নথি পরীক্ষা করলে সরকারি খাতের ১৭ কোটি টাকা এবং হজযাত্রীদের কাছ থেকে নেওয়া আরো ২৮ কোটি টাকা কারা কিভাবে আত্মসাৎ করেছে তা বেরিয়ে আসবে।

গত বছর সৌদি সরকারের নির্ধারিত কোটার কারণে অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করে মোয়াল্লেম ফি ও সৌদি আরবের বাড়িভাড়ার অর্থ জমা দিয়েও হজে যেতে পারছিলেন না ৩০ হাজার বাংলাদেশি হজযাত্রী। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ অনুরোধে সৌদি সরকার শেষ মুহূর্তে বাড়তি পাঁচ হাজার হজযাত্রীকে হজ করার অনুমতি দেন। সেই পাঁচ হাজার হজযাত্রীর কাছ থেকে প্রাপ্ত এবং সরকারের দেওয়া অর্থ নিয়ে একটি মহল দুর্নীতি করে। এ-সংক্রান্ত একটি নথি মন্ত্রণালয় থেকে উধাও হয়ে যায়। পরে ওই নথি উদ্ধার করতে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ধর্ম মন্ত্রণালয়ের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সচিব আব্দুল জলিল তাঁর দপ্তরের পিএস আব্দুল খালেক, পিও ইমামুল হক ও আরেক কর্মকর্তা আবসারকে শোকজ করেন। গত বুধবার শোকজের জবাব দেন ওই তিন কর্মকর্তা।


মন্তব্য