kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


একজন মাকে ফাঁসানোর চেষ্টা পণ্ড হলো পুলিশে

ঈশ্বরগঞ্জ প্রতিনিধি   

৭ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



একজন মাকে ফাঁসানোর চেষ্টা পণ্ড হলো পুলিশে

নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া শিশুর মাকে হত্যাকারী হিসেবে চিহ্নিত করতে মরিয়া  চেষ্টা হয়েছিল। দাম্পত্য বিরোধে এতে শামিল হয়েছিলেন শিশুর বাবাও।

দিনভর উত্তেজনার পর রাতে পুলিশের হস্তক্ষেপে বিষয়টির সুরাহা হয়েছে। ঘটনাটি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মাইজবাগ ইউনিয়নের পূর্ব গালাহার গ্রামের। অভিযোগ ও অপপ্রচার নিষ্পত্তি করে শনিবার গভীর রাতে দাফন করা হয় শিশুটির লাশ।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গলাহার গ্রামের মিন্টু মিয়ার ৯ মাস বয়সী ছেলে রাতুলের মৃত্যু হয় শনিবার সকালে হাসপাতালে নেওয়ার সময়। এর আগে গ্রামেই শিশুটির শ্বাসকষ্টের চিকিৎসা চলছিল। কিন্তু শিশুর এ মৃত্যুকে ‘হত্যা’ দাবি করে একদল গ্রাম্য টাউট উসকে দেয় শিশুর বাবাকে। মা ময়না বেগম ‘গলা টিপে’ শিশুকে মেরে ফেলেছেন বলে প্রচার চালাতে থাকে তারা। তখন সন্তান শোকে পাগলপ্রায় মাকে সহযোগিতার জন্য লোকজন কমতে থাকে। শিশুটির দাফনের উদ্যোগ নিতে সারা দিনে রাজি হয়নি গ্রামের কেউ। বিপর্যস্ত মাকে হত্যার দায় থেকে মুক্ত করার কথা বলে একপর্যায়ে চাঁদা দাবি করা হয়। শিশুর বাবা মিন্টু মিয়া পুত্র হত্যার অভিযোগ নিয়ে সোচ্চার হলেও মামলা করতে রাজি ছিলেন না।

সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে যান ঈশ্বরগঞ্জ থানার এসআই মাসুদ জামেলি। তিনি কালের কণ্ঠকে জানান, শিশুর বাবাকে থানায় অভিযোগ দিতে বলা হলেও রাজি হচ্ছিলেন না। এ অবস্থায় ময়নাতদন্তের জন্য শিশুর লাশ মর্গে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছেন গৌরীপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আক্তারুজ্জামান। তিনি সবার সঙ্গে আলাপ করে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেন। স্থানীয় চেয়ারম্যান-মেম্বারসহ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তিনি বৈঠক করেন। শিশুটির দাফনের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি এ দম্পতির বিরোধের বিষয়গুলোও নিষ্পতি করা হয় বৈঠকে।

মা ময়না বেগম জানান, নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে রাতুল পাঁচ দিন কষ্ট পাচ্ছিল। এলাকার চিকিৎসকরা ওষুধ দিলেও অবস্থার উন্নতি হচ্ছিল না। শনিবার প্রতিবেশীরা পরামর্শ দেয় হাসপাতালে নিতে। তখন শিশুর বাবা মিন্টু বাড়িতে ছিলেন না। শনিবার সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার পথে রাতুলের মৃত্যু হয়। দুপুরে মিন্টু কিছু লোক নিয়ে বাড়িতে আসেন এবং বিষয়টিকে হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেন। একপর্যায়ে সালিস-মীমাংসার কথা বলে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আবদুল হমিদ বলেন, ‘পরিস্থিতি এমন হয়েছিল যে ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড নয় জেনেও কিছু করা যাচ্ছিল না। একটি চক্র শিশুর বাবার মাধ্যমে টাকা আদায়ের চেষ্টা করছিল। কিন্তু মা ময়নার পরিবারের ৫০০ টাকা দেওয়ারও সামর্থ্য ছিল না। পরে পুলিশ বিষয়টি সুরাহা না করলে পরিবারটি বিপদে পড়ে যেত। ’

ঘটনা নিষ্পত্তিকারী পুলিশ কর্মকর্তা আক্তারুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন স্থানে শিশু মৃত্যুর ঘটনা ও মায়ের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ কাজে লাগাতে চেয়েছিল একটি চক্র। তারা ফায়দা লোটার চেষ্টা করে পরিস্থিতি জটিল করে তুলেছিল। পরে শিশুর পিতা ভুল স্বীকার করে মীমাংসা মেনে নেন। ’


মন্তব্য