kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


এমপি বদির খালাতো ভাইয়ের বাড়িতে সাড়ে ৯ কেজি সোনা জব্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার   

৬ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



এমপি বদির খালাতো ভাইয়ের বাড়িতে সাড়ে ৯ কেজি সোনা জব্দ

কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে একজন চোরাকারবারির ঘরে তল্লাশি চালিয়ে বিজিবি সদস্যরা আটক করেছেন বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকারসহ বাংলাদেশি ও মিয়ানমারের টাকা। বিজিবি মংমং সেন (৪৫) নামের ওই চোরাকারবারিকেও আটক করেছে।

আটক চোরাকারবারি টেকনাফ পৌরসভার লামার বাজার চৌধুরীপাড়া এলাকার মৃত অং সেনের ছেলে মংমং সেন। তিনি উখিয়া-টেকনাফ আসনের বিতর্কিত এমপি আবদুর রহমান বদির খালাতো ভাই। গতকাল শনিবার রাত ৩টা থেকে সকাল ১১টা পর্যন্ত চলে এ অভিযান। এর আগে মংমং সেন ১০ হাজার পিস ইয়াবা নিয়ে আটক হয়েছিলেন।

বিজিবি সূত্র জানিয়েছে, সীমান্তের এই চোরাকারবারির ঘরে টানা আট ঘণ্টার অভিযান চলাকালে উদ্ধার হয়েছে সাড়ে ৯ কেজি সোনা। এই সোনার কোনো বৈধ কাগজপত্র মংমং সেন দেখাতে পারেননি। বিজিবি সদস্যরা এর সঙ্গে উদ্ধার করে বাংলাদেশি ৪২ লাখ ৫৮ হাজার ৭৫৭ টাকা, ১০টি ভারতীয় মুদ্রা এবং মিয়ানমারের মুদ্রা ৫২ হাজার ৫০০ কিয়াত।

গতকাল টেকনাফ সীমান্তে দিনব্যাপী বিজিবির এই অভিযান নিয়ে স্থানীয় পুলিশ, স্থানীয় বাসিন্দারা, এমনকি স্থানীয় সংবাদকর্মীরাও বিস্তারিত জানাতে রাজি হননি। টেকনাফ থানার ওসি গতরাতে কালের কণ্ঠকে বলেছেন, ‘সীমান্তের কোথায় কী অভিযান চলেছে তা আমি জানি না। অভিযান হলেও তা করেছে বিজিবি। তাই তারাই বিষয়টি জানবে। ’ বিজিবির সঙ্গে অভিযানে টেকনাফ থানার তিনজন উপপরিদর্শক উপস্থিত থাকলেও অভিযান-পরবর্তী সময়ে পুলিশ তাদের উপস্থিতির কথা অস্বীকার করছে। অনেকেরই ধারণা, আটক মংমং সেন এমপি বদির খালাতো ভাই। এই পরিচিতি প্রকাশের পরই পুলিশ ভয়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে অপারগতা প্রকাশ করছে।

তবে টেকনাফ ২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আবু জার আল জাহিদ রাতে সাংবাদিকদের জানান, চট্টগ্রাম সদর দপ্তর বিজিবি রিজিওনের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টেকনাফ ২ ব্যাটালিয়নের বিজিবি সদস্যরা পৌরসভার চৌধুরীপাড়া লামার বাজার এমপি আবদুর রহমান বদির খালাতো ভাই মংমং সেন ওরফে মম ছিংয়ের বিলাসবহুল ভবনে অভিযান চালায়। এ সময় তাঁর বাড়ি থেকে উল্লিখিত সোনা ও মুদ্রা উদ্ধার এবং তাঁকে আটক করা হয়। উদ্ধার করা সোনার দাম প্রায় তিন কোটি ২৬ লাখ টাকা।

খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, টেকনাফ পৌরসভার লামার বাজার এলাকায় এক বিলাসবহুল তিন তলা বাড়িতে মংমং সেন বসবাস করেন। মূলত এই ঘর ব্যবহার করেই ইয়াবা ও সোনা পাচারসহ আন্তর্জাতিক পাচারের নানা ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে। মংমং সেনের বিলাসবহুল এই ঘরের পার্শ্ববর্তী হচ্ছে এমপি বদির ঘর। আগে এমপি বদি মংমং সেনের এই ঘরে থাকতেন। অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, এমপি বদির মৃত বাবা এজাহার মিয়া কম্পানির একাধিক স্ত্রীর মধ্যে একজন হচ্ছেন রাখাইন নারী। সেই রাখাইন নারী সূত্রেই আটক মংমং সেন এমপি বদির খালাতো ভাই। তবে এমপি আবদুর রহমান বদি তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত এসব অভিযোগ নিয়ে বরাবরই বলে আসছেন, ‘এসব ডাহা মিথ্যা। আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা এসবে জড়িত নেই। আমরা অপপ্রচারের শিকার মাত্র। ’

এর আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইয়াবা পাচারকারীদের যে তালিকা প্রণয়ন করে সেই তালিকায় এমপি বদিসহ তাঁর পরিবারের কমপক্ষে এক ডজন সদস্যের নাম রয়েছে। এই তালিকায় আটক মংমং সেনের পরিচয় এমপি বদির খালাতো ভাই বলেই উল্লেখ রয়েছে। এমনকি বাংলাদেশের হুন্ডিচক্রের তালিকায়ও মংমং সেনের নাম রয়েছে শীর্ষে। একটি গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, মিয়ানমারের আরাকানে ২০১৩ সালে জাতিগত দাঙ্গার সময়ও বিজিবির হাতে আটক মংমং সেনের বিরুদ্ধে আপত্তিকর কাজে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ১৩ ডিসেম্বর ১০ হাজার পিস ইয়াবাসহ মংমং সেনকে টেকনাফ থানার পুলিশ আটক করেছিল। মাত্র চার-পাঁচ মাস জেল খেটেই তিনি জামিনে ছাড়া পেয়ে যান।


মন্তব্য