kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পিকনিকে গিয়ে গ্রেপ্তার যুবকের দুই শীর্ষ কর্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৬ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



পিকনিকে গিয়ে গ্রেপ্তার যুবকের দুই শীর্ষ কর্তা

তিন লাখেরও বেশি গ্রাহকের দুই হাজার ৫৮৮ কোটি টাকা আত্মসাতের দায়ে অভিযুক্ত যুব কর্মসংস্থান সোসাইটির (যুবক) দুই শীর্ষ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তারের পর দুই দিনের রিমান্ডে নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ।

গত শুক্রবার মুন্সীগঞ্জের চান্দেরচরে পিকনিক করতে যান সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক হোসাইন আল মাসুম ও যুবক হাউজিংয়ের চেয়ারম্যান লোকমান হোসেন।

সেখান থেকে ফেরার পথে তাঁদের আটক করে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। পরে যাত্রাবাড়ী থানায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে গতকাল আসামিদের ঢাকার সিএমএম আদালতে হাজির করা হলে মহানগর হাকিম আমিরুল হায়দার চৌধুরী তাঁদের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এদিকে যুবকের প্রতারিত গ্রাহকদের অনেকেই শীর্ষ দুই কর্মকর্তার গ্রেপ্তারের খবর শুনে গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিবি অফিসে গিয়ে জড়ো হয়। যুবকে বিনিয়োগে ক্ষতিগ্রস্ত এসব গ্রাহক হোসাইন আল মাসুম ও লোকমান হোসেনের কঠোর শাস্তি দাবি করেন। পরে পুলিশ আসামিদের আদালতে পাঠালে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকরাও আদালতে গিয়ে ভিড় করে। মহানগর হাকিমের সামনে নিজেদের ক্ষতির বর্ণনা দিয়ে গ্রাহকরা আসামিদের জামিন না দিতে অনুরোধ করে। ওই সময় পুলিশ আসামিদের তিন দিনের রিমান্ড দাবি করলে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

গত শুক্রবার আসামিদের গ্রেপ্তার করা হলেও ওই দিন পুলিশ তা স্বীকার করেনি। তবে গতকাল দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে জানান, প্রতারণার অভিযোগে যুবকের দুই কর্মকর্তাকে নিয়ে আসা হয়েছে। তাঁদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

যুবকের গ্রাহকদের সংগঠন ‘যুবকে ক্ষতিগ্রস্ত জনকল্যাণ সোসাইটি’র সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হোসেন মুকুল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা যুবকে বিনিয়োগ করে নিঃস্ব হয়েছি। আর গ্রাহকদের কাছ থেকে নেওয়া টাকায় এখনো ফুর্তি করছেন যুবকের শীর্ষ কর্তারা। গত শুক্রবার তাঁরা মুন্সীগঞ্জের চান্দেরচরে পিকনিক করতে গিয়েছিলেন। পিকনিকের আড়ালে যুবকে প্রশাসক নিয়োগ দিতে সরকারি সিদ্ধান্ত কিভাবে ঠেকানো যায়, তা নিয়ে গোপন বৈঠকও করেন তাঁরা। ডিবি পুলিশ খবর পেয়ে সেখান থেকেই শুক্রবার বিকেলে তাঁদের গ্রেপ্তার করে। ’

তিনি বলেন, ‘গ্রেপ্তারের খবর পাওয়ার পর সকালেই যুবকের গ্রাহকরা এক হয়ে মিন্টো রোডে ডিবি অফিসে যাই। সেখানে পুলিশের কাছে আমাদের দুর্দশার কথা তুলে ধরে তাঁদের ছেড়ে না দিতে অনুরোধ করি। পরে পুলিশ আসামিদের আদালতে চালান করে। আমরা গ্রাহকরা তখন আদালতে যাই। সব গ্রাহক জজ সাহেবকে অনুরোধ করেছি, যাতে তাঁদের জামিন দেওয়া না হয়। ’

সংগঠনটির সভাপতি মো. উল্লাহ চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আসামিরা দীর্ঘদিন জামিনে থেকে যুবকের সহায়-সম্পত্তি বিক্রি করে অর্থ সরিয়েছেন। সরকার যাতে প্রশাসক নিয়োগ করে গ্রাহকদের পাওনা পরিশোধের কোনো উদ্যোগ নিতে না পারে, সে জন্য নানাভাবে বিভিন্ন মহলে তদবির করেছেন। এ অবস্থায় আমাদের অনুরোধ, সরকার যত দিন যুবকের সম্পত্তি নিজস্ব হেফাজতে নিতে প্রশাসক নিয়োগ সম্পন্ন না করে, তত দিন যেন আসামিদের জামিন না হয়। ’

২০১৩ সালে যুবক কমিশনের দেওয়া প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিন লাখ তিন হাজার ৭৩৯ জন গ্রাহক যুবকের কাছে দুই হাজার ৫৮৮ কোটি টাকা পায়। অথচ দেশের ৪৯টি তফসিলি ব্যাংকে যুবকের বিভিন্ন হিসাবে অর্থ রয়েছে মাত্র ৭৮ লাখ ৬৪ হাজার টাকা। সারা দেশে ৯১টি জমি, ১৮টি বাড়ি ও ১৮টি কম্পানি রয়েছে যুবকের। আর জামিনের পর যুবকের গ্রাহকদের অর্থে কেনা ধানমণ্ডির ২৮ নম্বর রোডের ১৫ নম্বর বাড়ি এবং কুমিল্লা শহরের ১০৪ শতক জমি বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। এর বাইরেও মেঘনা সী ফুডস, বীচ হ্যাচারির শেয়ার ও সুইফট ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের মালিকানাও অসৎ উদ্দেশ্যে বিক্রি বা হস্তান্তর করেছে যুবক। সারা দেশে যুবকের ৯১টি জমি-প্রকল্প থাকলেও তার ৫০টি প্রকল্পে কোনো জমি অবশিষ্ট নেই।

যুবকের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি হেফাজতে নিয়ে তা বিক্রির মাধ্যমে গ্রাহকদের পাওনা পরিশোধ করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গত সেপ্টেম্বর মাসে আইন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন চায়। গত বুধবার তার অনুমোদন মিলেছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এখন মন্ত্রিসভার অনুমোদন নিয়ে যুবকের গ্রাহকদের পাওনা অর্থ ফেরত দিতে প্রশাসক, রিসিভার নিয়োগ অথবা কমিশন গঠন করবে।


মন্তব্য