kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


গর্ভে কন্যাসন্তান তাই স্ত্রীকে খুন করল শিক্ষক!

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি   

৫ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



গর্ভে কন্যাসন্তান তাই স্ত্রীকে খুন করল শিক্ষক!

স্ত্রীর গর্ভে কন্যাসন্তান রয়েছে—আল্ট্রাসনোগ্রাফিতে এমন তথ্য জানার পর স্ত্রীকে নির্যাতন চালিয়ে হত্যার  অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ীর চাষিরী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

গতকাল শুক্রবার তাঁর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ওই গৃহবধূর নাম মাহমুদা আক্তার (২২)। তিনি আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। এ ঘটনায় স্বামী আবু সাঈদকে (৪০) আটক করেছে পুলিশ। সাঈদ চাষিরী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করতে গেলে পুলিশ তা নেয়নি। বরং আটক স্বামী সাঈদকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় আদালতে চালানের চেষ্টা করছে পুলিশ। বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য ওই এলাকার প্রভাবশালীরা পরিবারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। এই নিয়ে চরম হতাশার মধ্যে রয়েছে পরিবারটি।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, পাঁচ বছর আগে টঙ্গিবাড়ীর পুড়াপাড়া গ্রামের আ. ছাত্তারের মেয়ে মাহমুদা আক্তারের সঙ্গে চাষিরী গ্রামের আবু সাঈদের বিয়ে হয় পারিবারিকভাবে। তাদের সংসারে তাসনিম নামে  সাড়ে তিন বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। কিন্তু কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়ার পর থেকেই স্বামীর সঙ্গে মনোমালিন্য সৃষ্টি হয় মাহমুদার। এর মধ্যে আবার অন্তঃসঃত্ত্বা হন তিনি। আট মাসের মাথায় মাহমুদাকে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করানো হলে গর্ভে কন্যাসন্তান রয়েছে বলে চিকিৎসক জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে স্ত্রীর ওপর নির্যাতন শুরু করে শিক্ষক আবু সাঈদ। এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আবু সাঈদ তার শাশুড়ি জোছনা বেগমকে মোবাইল ফোনে বলে, ‘আপনার মেয়ে অজ্ঞান হয়ে গেছে, তাকে টঙ্গিবাড়ী ইউনাইটেড ক্লিনিকে নিয়ে আসা হয়েছে। ’ পরে শাশুড়ি জোছনা বেগম ইউনাইটেড ক্লিনিকে এলে আবু সাঈদ জানায়, মাহমুদা স্ট্রোক করে মারা গেছে। অথচ মাহমুদার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানান তাঁর বোন লাবনী।  

এ ব্যাপারে আবু সাঈদ সাংবাদিকদের বলে, ‘আমার স্ত্রীর আগে একটি কন্যাসন্তান হয়েছে, পরে আরেকটি কন্যাসন্তানসম্ভবা হওয়ায় আত্মহত্যা করেছে। ’

টঙ্গিবাড়ী থানার ওসি আলমগীর হোসাইন বলেন, ‘হত্যার ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ কিংবা নিহতের শরীরে হত্যা হলে যে ধরনের আঘাত থাকা প্রয়োজন সে ধরনের আঘাত নেই। ফলে আটক স্বামীকে ৫৪ ধারায়  চালান দেওয়া হচ্ছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এলে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে আসামি যাতে জেলহাজতে আটক রাখা হয় সেভাবে লিখে দেওয়া হচ্ছে। ’


মন্তব্য