দুজন গ্রেপ্তার টাকা উদ্ধার হয়নি-332368 | শেষের পাতা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৪ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৬ জিলহজ ১৪৩৭


এটিএম বুথে লুট

দুজন গ্রেপ্তার টাকা উদ্ধার হয়নি

কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি   

৫ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



দুজন গ্রেপ্তার টাকা উদ্ধার হয়নি

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ফাস্ট ট্র্যাক বুথ থেকে দুই কোটি টাকা লুটের ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এ দুজন জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তারা বলেছে, ডাকাতিতে সরাসরি ছয়জন অংশ নেয়। টাকাভর্তি ট্রাংক ভাঙা হয় গাজীপুরের জাতীয় উদ্যানের ভেতর। তবে লুণ্ঠিত টাকা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

গতকাল শুক্রবার ভোরে মিন্টু মিয়া (৩২) নামের একজনকে কালিয়াকৈরের সফিপুরের রাখালিয়া চালা এলাকা থেকে এবং লাভলু মোল্লা ওরফে ইমন (৩০) নামের একজনকে গাজীপুর সদরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মিন্টু রাখালিয়া চালা এলাকার জয়নাল আবেদীনের ছেলে। ইমন খুলনার পাইকগাছা উপজেলার গদার ডাঙ্গা এলাকার রুহুল আমীন মোল্লার ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে গাজীপুর সদরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকার বর্ষা সিনেমা হলের পেছনে ফারুক হোসেনের বাড়িতে ভাড়া থাকেন। এ ছাড়া বুথে টাকা লোড করতে আসা মানিপ্ল্যান্ট প্রাইভেট লিমিটেডের সাত কর্মকর্তা-কর্মচারীকে থানায় রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

গত বুধবার রাতে নিরাপত্তা ও অটোমেটেড টেলার মেশিন (এটিএম) ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান মানিপ্ল্যান্ট প্রাইভেট লিমিটেডের সাত কর্মকর্তা-কর্মচারী কালিয়াকৈরের হরিণহাটি এলাকায় অ্যাপেক্স ফুটওয়্যার গেটসংলগ্ন ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ফাস্ট ট্র্যাক বুথে টাকা লোড করার সময় ডাকাতরা টাকাভর্তি দুটি ট্রাংক লুট করে। ট্রাংক দুটিতে ছিল এক কোটি ৯৪ লাখ ৯৭ হাজার টাকা। গত বৃহস্পতিবার ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার বাশদী গ্রামের একটি পুকুর থেকে ভাসমান অবস্থায় খালি ট্রাংক দুটি উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার বিকেলে মানিপ্ল্যান্ট প্রাইভেট লিমিটেড কম্পানির এটিএম এক্সিকিউটিভ অফিসার মাসুদ রানা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করলেও রাতে মাসুদ রানাকে বাদ দিয়ে মামলার বাদী হন কম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ আফজালুর আবেদীন।

এরপর বৃহস্পতিবার রাতভর পুলিশ অভিযান চালায়। শেষরাতের দিকে সফিপুরের রাখালিয়া চালা এলাকার বাড়ি থেকে মিন্টু মিয়াকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ভোরে গাজীপুর সদরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকা থেকে ইমনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাদের দুজনকে কালিয়াকৈর থানায় নিয়ে আসা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে মিন্টু ডাকাতির ঘটনার বর্ণনা দিয়েছে। সে বলেছে, তারা একটি পিকআপ ভ্যান নিয়ে সাভারের আশুলিয়া এলাকা থেকে মানিপ্ল্যান্টের মাইক্রোবাসটির পিছু নেয়। মাঝপথে একবার মাইক্রোবাসের গতিরোধ করে লুট করার চেষ্টা করে। কিন্তু ব্যর্থ হয়ে মাইক্রোবাসটির পিছু নিয়ে কালিয়াকৈরের হরিণহাটি অ্যাপেক্স ফুটওয়্যার কারখানার গেটের পাশের বুথের সামনে আসে তারা। কিছুটা দূরে পিকআপ ভ্যান থামিয়ে তারা অপেক্ষা করে। যখন মানিপ্ল্যান্টের লোকজন টাকাভর্তি ট্রাংক নিয়ে বুথের ভেতরে প্রবেশ করে, তখনই হানা দেয় তারা। এরপর তারা টাকাভর্তি দুটি ট্রাংক নিয়ে চন্দ্রা হয়ে মাওনার দিকে চলে যায়। পরে সালনা জাতীয় উদ্যানের ভেতর ট্রাংক দুটি ভেঙে টাকা বের করে কয়েকজন টাকা ও খালি ট্রাংক নিয়ে ময়মনসিংহের দিকে রওনা হয়। তিনি বাড়ি ফিরে আসেন বলে মিন্টু জানান।

পুলিশ জানিয়েছে, ডাকাতির ঘটনায় মানিপ্ল্যান্টের লোকজন জড়িত কি না, সেটা জানাতে পারেনি মিন্টু। কালিয়াকৈর থানার ওসি আব্দুল মোতালেব মিয়া জানান, গ্রেপ্তার করা দুজনের কাছ থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এর সূত্র ধরে টাকা উদ্ধার এবং জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তার করা হবে।

ওসি বলেন, ঘটনার সময় মানিপ্ল্যান্টের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বুথের কর্মচারীদের দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেছে। পুরো বিষয়টি তদন্ত করলে সঠিক রহস্য উদ্ঘাটিত হবে।

মানিপ্ল্যান্ট প্রাইভেট লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ আফজালুর আবেদীন বলেন, ‘ডাকাতদলের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তার ও লুণ্ঠিত টাকা পুলিশ উদ্ধার করবে বলে আমি আশা করছি।’

মন্তব্য