kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


অগ্রগতি

দেশীয় প্রযুক্তিতে হচ্ছে নৌযান

তৌফিক মারুফ   

৫ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



দেশীয় প্রযুক্তিতে হচ্ছে নৌযান

গজারিয়া ডকইয়ার্ডে দেশীয় প্রযুক্তি ও নকশায় তৈরি হচ্ছে উন্নতমানের নৌযান। ছবি : কালের কণ্ঠ

সারি সারি নৌযান; কোনোটি বড়, কোনোটি ছোট। নিচে পানি নয়, মাটি।

মাটির ওপর খুঁটিতে ভর করে নৌযানগুলো দাঁড়িয়ে আছে। এগুলো নির্মাণাধীন। ঢাকার কাছেই গজারিয়ায় নির্মাণ করা হচ্ছে এসব নৌযান। বেশির ভাগ সরকারি।

গজারিয়া থেকে সরকারি নৌবহরে যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন নৌযান। ঘাটের জন্য পন্টুন, যাত্রীবাহী নৌযান কিংবা জরিপ চালানোর মতো অত্যাধুনিক নৌযানও সেখানে তৈরি হয় দেশীয় নকশা আর প্রযুক্তিতে।

গত বছর চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি ডকইয়ার্ডে বড় দুটি সরকারি যাত্রীবাহী স্টিমার তৈরি করা হয়। এবার ঢাকার কাছে গজারিয়ায় আরেক বেসরকারি ডকইয়ার্ডে তৈরি হচ্ছে ৭০০ যাত্রী ধারণক্ষমতার একটি উপকূলীয় জাহাজ; চলছে আরো কয়েকটি নৌযান তৈরির কাজ। ইতিমধ্যে কয়েকটি নৌযান নেমে গেছে নৌপথে।

দেশে আরো কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে সরকারি নৌযান তৈরি হয়। তবে এ বছর নিজেদের নৌযানের বেশির ভাগ গজারিয়ার এই ডকইয়ার্ডে তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

নৌপরিবহনমন্ত্রী শাহজাহান খান বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের দুই মেয়াদে দেশের নৌ সেক্টরে অভাবনীয় উন্নয়ন হয়েছে। এখন নতুন নৌযান দেশেই তৈরি হচ্ছে। বিদেশ থেকে আমদানির প্রবণতা কমেছে, বরং বাংলাদেশে তৈরি জাহাজের চাহিদা বাড়ছে বিদেশে। নৌপথের নাব্যতা বাড়াতে ড্রেজার মেশিনের সংখ্যা বাড়ছে, ফেরি বাড়ছে।

সব কিছুই এখন দেশে তৈরি করা সম্ভব।

সূত্র জানায়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কাজের জন্য বিভিন্ন ধরনের নৌযান দরকার। ব্যয়বহুল হওয়ায় আগে অনেক ক্ষেত্রে উদ্যোগ নেওয়া যায়নি। কারণ আগে এসব নৌযান সংগ্রহ করতে হতো বিদেশ থেকে। কিন্তু গত কয়েক বছরে দৃশ্যপট পাল্টে গেছে। এখন বেসরকারি খাতের বেশির ভাগ নৌযান দেশেই তৈরি হচ্ছে; সরকারি খাতের নৌযানগুলোর বেশির ভাগও তৈরি হচ্ছে দেশে। ফলে নৌযান সংগ্রহের ব্যয় ও সময় দুটিই কমেছে। দু-তিন বছর ধরে গজারিয়ার একটি ডকইয়ার্ড সরকারের বড় সহায়ক হয়ে উঠেছে। থ্রি অ্যাঙ্গেল মেরিন লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ওই ডকইয়ার্ডে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডাব্লিউটিসি) জন্য ৭০০ যাত্রী ধারণক্ষমতার একটি উপকূলীয় জাহাজ ও দুটি কে-টাইপ ফেরি নির্মাণ করা হচ্ছে।

এ ছাড়া বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডাব্লিউটিএ) জন্য আটটি অ্যালুমিনিয়াম সার্ভে ওয়ার্ক বোট, দুটি হাইড্রোগ্রাফিক সার্ভে ভেসেল, চারটি সাধারণ সার্ভে ভেসেল, একটি ক্রেন বোট ও ৩০টি পন্টুনের কাজ চলছে সেখানে। আগামী এপ্রিল থেকে আগামী বছরের আগস্টের মধ্যে এসব নৌযানের নির্মাণকাজ শেষ হবে। সেখানে ইতিমধ্যে ২০টি পন্টুন তৈরি করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়েই সরকারকে এগুলো বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়, এবার দেশেই তৈরি হতে যাচ্ছে উপকূলীয় অঞ্চলে চলাচলের উপযোগী যাত্রীবাহী জাহাজ। সরকারের উপকূলীয় যাত্রীবাহী জাহাজবহরে থাকা তিনটি জাহাজই আমদানি করা। এগুলো এখন অচলপ্রায়। বহরের চতুর্থ জাহাজটি তৈরি হচ্ছে দেশে। গত ডিসেম্বরে গজারিয়ায় এটির নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শাহজাহান খান। ১৭ কোটি ৬৪ লাখ টাকার জাহাজটির দৈর্ঘ্য ৬০ মিটার, প্রস্থ ১২ মিটার এবং গভীরতা সাড়ে তিন মিটার। চট্টগ্রাম-হাতিয়া-সন্দ্বীপ রুটে চলাচল করবে এটি।

গজারিয়া ডকইয়ার্ডের স্বত্বাধিকারী প্রতিষ্ঠান থ্রি অ্যাঙ্গেল মেরিনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আগেও আমরা সরকারি ও বেসরকারি বেশ কিছু জাহাজ নির্মাণ করেছি। সব কটিই দেশীয় নকশায় তৈরি করা হয়েছে। এতে একদিকে দেশের অনেক অর্থ সাশ্রয় হচ্ছে, অন্যদিকে জাহাজ আমদানি কমছে। আমাদের মতো আরো অনেক প্রতিষ্ঠান ভালো ভালো জাহাজ তৈরি করে রপ্তানি করছে। দেশের নৌপথের জন্যও সরবরাহ করছে। ’

প্রকৌশলী আমিনুল বলেন, ‘এখনো সরকার সমুদ্রগামী জাহাজ বিদেশ থেকে তৈরি করে আনছে। এসব অত্যন্ত ব্যয়বহুল। আশা করি, আর কিছুদিনের মধ্যে সব ধরনের জাহাজ দেশেই তৈরি করতে পারব আমরা। ’


মন্তব্য